PDA

View Full Version : আদব (জ্ঞান চর্চাকারীর আদব-কায়দা)



Muslim Woman
12-15-2015, 04:45 PM
:sl:




আদব ( জ্ঞান চর্চাকারীর আদব-কায়দা )

আরবী : শেখ আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ সাঈদ রাসলান, সৌদি আরব।

ইংরেজী অনুবাদ: আবু সাবাইয়া

ইংরেজী থেকে অনুবাদ: জাবীন হামিদ, বাংলাদেশ।


"আমি ত্রিশ বছর ধরে আদব শিখেছি আর জ্ঞান চর্চায় সময় দিয়েছি বিশ বছর"


-আবদুল্লাহ বিন আল মুবারক।




সূচি :

ভূমিকা

১. জ্ঞানের সন্ধান করার সময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিয়ত পরিশুদ্ধ করতে হবে

২. শরীয়াহ বিরোধী সবকিছু থেকে মন ও আচরণকে শুদ্ধ করতে হবে

৩. জ্ঞানের দিকে পুরো মনোযোগ দিতে হবে ও সব বাধা দূর করতে হবে

৪. কম খাও , সাবধান হও ও সবসময় আল্লাহর যিকির করো

৫. খাওয়া , ঘুম ও কথা যত কম তত ভাল

৬. সঠিক বন্ধু বেছে নেয়া ও সামাজিকতা কমানো

৭. কী শিখবে ? কার কাছে শিখবে ?

৮ . শিক্ষকের সাথে সেরা আচরণ করতে হবে

৯ . বইয়ের যত্ন নেবে

১০ . যেভাবে পড়তে হবে


শেষ কথা
Reply

Login/Register to hide ads. Scroll down for more posts
Muslim Woman
12-16-2015, 04:00 PM
:sl:



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

অবশ্যই সব প্রশংসা আল্লাহর। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে মাফ চাই। আমাদের আত্মার অকল্যাণ ও কাজের ভুল থেকে আমরা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ্ যাকে পথ দেখান, কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর আল্লাহ্ যাকে হেদায়াত করেন না, কেউ তাকে পথ দেখাতে পারে না।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ছাড়া কেউ উপাসনার যোগ্য নয়, আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি
মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থ ভাবে ভয় করো ও আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো না।" (সূরা আলে ইমরান: ১০২)।

"হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও যিনি তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি তাদের দু’জন থেকে অনেক নর-নারী ছড়িয়ে দেন; আর আল্লাহকে ভয় কর; যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার (ও পাওনা) দাবী কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন।"
(সূরা আন্-নিসা ; ৪: ১)।

হে মুমিনগণ ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল ; তাহলে তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। ( সূরা আল আহযাব; ৩৩: ৭০-৭১ )।


নিশ্চয়ই সব কথার মধ্যে আল্লাহর কথাই সবচেয়ে সত্য ও রাসূল صلى الله عليه وسلم সবচেয়ে সুন্দরভাবে আমাদের পথ দেখিয়েছেন।

সবচেয়ে খারাপ কাজ হলো বিদআত এবং সব বিদআতই পথভ্রস্টতা; আর সব পথভ্রস্টতা দোযখের আগুনের দিকে নিয়ে যায় ।

জ্ঞান হলো মনের ইবাদত, জীবনের রহস্য ও শক্তির উৎস। যিনি জ্ঞান অনুসন্ধান করছেন তার জন্য এটা অবশ্য কর্তব্য যে, জ্ঞান বিষয়ক যে সব আদবকায়দা আছে, তা তিনি জেনে নেবেন ও এই আদব শিখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন। তা না হলে তিনি যাবেন একদিকে, জ্ঞান যাবে অন্যদিকে , যেমনটি বলা হয়ে থাকে : জ্ঞান যায় পূর্বে , সে যায় পশ্চিমে - পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্যে কতই না দূরত্ব।

একজনকে বুঝতে হবে এসব আদব অন্য সব আচরণের মত না যে , ইচ্ছা হলো তা করলাম, ইচ্ছা না হলে এই আদব শিখলাম না। এসব আদব একই স্তরের না বরং কিছু কিছু আদব শেখা সবার জন্যই বাধ্যতামূলক , তা সে যেখানেই থাকুক না কেন বা ছাত্র - অছাত্র যেই হোক না কেন।

শরীয়াহ সম্পর্কে জানার লক্ষ্য হলো নিখুঁত ও স্পষ্টভাবে মনোভাব প্রকাশ করতে শেখা। নিজের মনোভাব স্পষ্ট ও নিখুঁত প্রকাশের লক্ষ্য হলো আল্লাহকে সবার থেকে আলাদা করা ও শুধু তাঁরই ইবাদত করা। তাই জ্ঞানের সন্ধান করার উদ্দেশ্য হলো , আল্লাহ যিনি সর্বশক্তিমান ও মহিমান্বিত ; তাঁকে আর সবার থেকে আলাদা করা ও একমাত্র আল্লাহরই উপাসনা করা - এটি তখনই ভালভাবে একজন বুঝতে পারে যখন সে জ্ঞানের প্রতি সুবিচার করে - তা সে ছাত্র বা শিক্ষক যেই হোক না কেন।

যে জ্ঞানের সন্ধান করছে তার থেকে আদব তাই আলাদা নয়, কেননা এই আদব কায়দার অন্তর্ভুক্ত হলো ধর্মের মূলনীতি। ধর্মীয় আদর্শের সাথে মতবিরোধে যাওয়ার বিলাসিতা কেউ করতে পারে না বা এটাকে গুরুত্ব না দেয়ার কোন উপায় নেই।

জ্ঞান চর্চাকারীর জন্য আদব শেখা তাই সবসময়ই বাধ্যতামূলক ; আর আল্লাহ হলেন সাহায্যের উৎস ও তাঁর উপরেই আমরা ভরসা রাখি।


ছাত্রদের জন্য যে সব আদব কায়দা জানা বাধ্যতামূলক সেসব হলো:

১ . জ্ঞানের সন্ধান করার সময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিয়্যত পরিশুদ্ধ করতে হবে:

আবু হামিদ আল গাযযালী (রঃ) বলেন: “ নিয়্যত, ইরাদা ও ক্বাসদ এগুলি আলাদা পরিভাষা হলেও এগুলোর মানে এক। এগুলি মনের অবস্থা বর্ণনা করে। মন দু’টি জিনিষের উৎস - জ্ঞান ও কাজ।

প্রথমে আসে জ্ঞান, কেননা এটা হলো স্তম্ভ ও শর্ত। এরপর কাজ তার অনুসরণ করে, কেননা কাজ হলো জ্ঞানের শাখা। জ্ঞান, ইচ্ছা ও সামর্থ্য -- এগুলি ছাড়া কোন কাজ হয় না। তার মানে, সেই বিষয়ে জানতে হবে, সেটা করার ইচ্ছা মনে থাকতে হবে।

মানুষ এমনভাবে সৃষ্ট হয়েছে, যাতে সে মাঝেমাঝে এমন কাজ করে, যা তার মন চায় ; আবার এমন কাজও সে করে, যার সাথে মনের ইচ্ছার সংঘর্ষ হয়। এমন অবস্থায় যা তার জন্য ভাল , সে তার কাছে যাবে ও যা তার ক্ষতি করবে তাকে সে দূর করে দিবে । এজন্য তার জানা থাকতে হবে, কী তার জন্য কল্যাণকর, আর কী তার ক্ষতি করবে যেন সে কল্যাণকর কাজের কাছে আসতে পারে ও ক্ষতিকে এড়িয়ে যেতে পারে । যে দেখতে পায় না , সে জানে না কোন খাবার তার থেকে দূরে আছে বা কোন খাবার সে কাছে টানতে পারবে । যে আগুন দেখতে পাচ্ছে না, সে আগুন থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবে না। তাই আল্লাহ হেদায়েত ও জ্ঞান সৃষ্টি করেছেন, এগুলি পাওয়ার উপায় ঠিক করে দিয়েছেন - সেগুলি হলো আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ইন্দ্রিয় সমূহ।


কোন কিছু করার জন্য একজনের মনে কোন লক্ষ্য থাকবে যা তাকে উদ্দীপিত করবে।
লক্ষ্য হাসিল করতে হলে যে ইচ্ছাশক্তি ও উদ্যোগের দরকার ,সেজন্য নিয়্যত করা অপরিহার্য , যদিও তা ঘটে থাকে আলাদাভাবে বা যা চাওয়া হয় তা ঘটার সময়। তাই কোন কিছু করার জন্য উদ্বুদ্ধ হতে প্রথম পদক্ষেপ হলো একজনের কোন একটি লক্ষ্য থাকবে যা তাকে কাজ করতে উদ্দীপিত করবে ; একজনের নিয়্যতের উদ্দেশ্য হলো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো ।একজন কোন কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয় ও সে কিছু একটা কাজ করে যখন তার কোন লক্ষ্য ও নিয়্যত থাকে কারো মনে কোন লক্ষ্য থাকলে তা তাকে কোন কাজের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সে তখন লক্ষ্য পূরণের জন্য তার শক্তি ও সামর্থ্যকে সেদিকে পরিচালিত করে , একে বলে কোন কাজ করা।
এ কারনে শরীয়াহতে এটা প্রতিষ্ঠিত যে , যিনি সর্বশক্তিমান ও মহিমান্বিত , তিনি এমন কোন আমল কবুল করেন না যা শুধুমাত্র তাঁর সন্ত্তষ্টির জন্য করা হয় নি ।
রাসূল صلى الله عليه وسلم নিয়্যতের গুরুত্ব সম্পর্কে ও যা একজনের কাজকে নষ্ট করে ফেলতে পারে, তা থেকে নিয়্যত শুদ্ধ রাখার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে বলেছেন।

আলকামাহ বিন ওয়াক্কাস আল লায়থী র: বলেন , আমি শুনেছি - হজরত উমর বিন আল খাত্তাব রা মিম্বারে দাড়িয়ে বলেন , “ রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন: অবশ্যই কাজের ফলাফল নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল; একজন মানুষ তাই পাবে যা সে নিয়্যত করে। তাই যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর জন্য হিজরত করে, তার হিজরত আল্লাহও রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য আর যে হিজরত করে দুনিয়াতে কোন লাভের জন্য বা কোন নারীকে বিয়ের জন্য, তার হিজরত সেজন্যই ( বর্ণনায় ইমাম বুখারী, সূত্র আলকামাহ বিন ওয়াকাস আল লায়থি)।

আন – নওয়াবি (রহঃ) বলেন: এই হাদিসের গুরুত্ব সম্পর্কে মুসলমানরা একমত – এর সূত্র নির্ভরযোগ্য ও এই এক হাদিসের মধ্যে অনেক কল্যাণ আছে। আশ – শাফেয়ী ও অন্যরা বলেন: ইসলামের চার ভাগের এক ভাগ আছে এই একটি হাদিসে। আবদুর রাহমান বিন মাহদী ও অন্যান্যরা বলেন: যে বই লিখে তার জন্য এটা অপরিহার্য যে সে এই হাদিস দিয়ে বইটি শুরু করবে – এটা ছাত্রদেরকে শুদ্ধভাবে আবারও নিয়্যত করার কথা মনে করাবে। আল – বুখারী (রঃ)ও আরো অনেকে তাদের বইয়ের শুরুতে এই হাদিসের উল্লেখ করতেন। বুখারী (রঃ) তার বইয়ের সাত জায়গায় এই হাদিসের উল্লেখ করেন।


বেশিরভাগ ইসলামিক চিন্তাবিদ, ভাষাবিদ ও আইনবিদ মনে করেন যে ‘ অবশ্যই ’ শব্দটি এটাই নিশ্চিত করে যা বলা হয়েছে ও অন্যকিছুকে প্রত্যাখ্যান করে – এর মানে নিয়্যতের উপর কাজ নির্ভরশীল ও নিয়্যত সঠিক না হলে সে কাজের ফলাফল শূন্য।
তারা বলেন, “ অবশ্যই কাজের ফলাফল নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল” , এটা বলার পর রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই কথা , “ একজন মানুষ তাই পাবে যা সে নিয়্যত করে ” , এটা নিয়্যতের গূরুত্ব বোঝাতে উল্লেখ করা হয়েছে । যে কোন কাজের জন্য শর্ত হলো নিয়্যত সুনির্দিষ্ট করা ।

কেউ যদি সালাত আদায় করতে চায় , তবে শুধু এটা বলা তার জন্য যথেষ্ট হবে না যে আমি সালাত আদায় করবো ; বরং তাকে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়্যত করতে হবে : “ আমি ফজরের দুই রাকাত ফরয সালাত অথবা আসরের চার রাকাত ফরয আদায় করছি ” ।

রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বক্তব্যের শেষের অংশটুকু যদি না থাকতো , তবে প্রথম অংশকে একজন এভাবে ব্যাখ্যা করতে পারতো যে এটি সুনির্দিষ্টভাবে নিয়্যতের বদলে সাধারণভাবে নিয়্যত করার অনুমতি দিচ্ছে ।

রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই কথা , “ তাই যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য হিজরত করে ”, এর মানে হলো , যে ব্যক্তি তার হিজরতের জন্য আল্লাহর সন্ত্তষ্টি কামনা করে , সে আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার পাবে ; আর যে দুনিয়ার মোহে বা স্ত্রী পাবার নিয়্যতে হিজরত করে , সে শুধু তাই –ই পাবে এবং এই হিজরতের জন্য সে পরকালে আল্লাহর কাছ থেকে কিছুই লাভ করবে না ।


হিজরতের আভিধানিক অর্থ হলো কোনকিছু ত্যাগ করা। এখানে হিজরত বলতে বোঝানো হয়েছে কেউ কোন ভূমি বা দেশ ত্যাগ করলো । এখানে দুনিয়ার মোহের পাশাপাশি নারীর উল্লেখ করার বিষয়টি দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায় ।
উম্মে কাইম নামের এক নারীকে বিয়ে করার জন্য একজন মুসলমান পুরুষ হিজরত করে । সেজন্য তার নাম হয়ে যায় –এই সে যে উম্মে কাইমের জন্য হিজরতকারী । আরেকটি ব্যাখ্যা হলো সাবধানতা অবলম্বনকে গূরুত্ব দেয়ার জন্য এখানে নির্দিষ্ট একটি উদাহরণের উল্লেখ করা হয়েছে । আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন ।

Reply

Muslim Woman
12-16-2015, 04:06 PM
:sl:


শরীয়াহতে এটা সুপ্রতিষ্ঠিত যে আল্লাহ এমন কোন আমর বা ইবাদত কবুল করেন না , যা তাঁর সন্ত্তষ্টির জন্য করা হয় নি ।

কুরআন ও সুন্নাহতে এর অনেক প্রমাণ আছে। যেমন .

১.সূরা ক্বাহফে আল্লাহ বলেন,

বলুন: আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ; আমার প্রতি ওহী নাযিল হয় যে, তোমাদের মাবুদ হলেন এক। তাই যে তার মাবুদের সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন ভাল কাজ করে। এবং তার মাবুদের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে। ( ১৮: ১১০ )।

২. আল্লাহ আরো বলেন , তাদেরকে এছাড়া কোন আদেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে ( সূরা বায়্যিনা: ৯৮:৫ )।

৩. রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন , অবশ্যই কাজের ফলাফল নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল; একজন মানুষ তাই পাবে যা সে নিয়্যত করে। তাই যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর জন্য হিজরত করে, তার হিজরত আল্লাহও রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য আর যে হিজরত করে দুনিয়াতে কোন লাভের জন্য বা কোন নারীকে বিয়ের জন্য, তার হিজরত সেজন্যই । এই হাদীসটি আল বুখারী র: তার সহীহ হাদীস গ্রন্হের শুরুতে উল্লেখ করেছেন । এছাড়াও ইমাম মুসলিম র: ও অন্যরাও উমর বিন খাত্তাব র: এর সূত্রে এই হাদীসের উল্লেখ করেছেন ।



৪. রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন , উম্মাহকে সম্মান , দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠা লাভ , বিজয় ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের সুখবর দাও । এদের কেউ যদি পরকালের কোন কাজ এই দুনিয়ায় ফল লাভের আশায় করে , তবে পরকালে সে ঐ কাজের কোন বিনিময়ই পাবে না ( বায়হাকী ) ।

এই হাদীসটি উল্লেখিত হয়েছে আহমদ ও তার ছেলের ‘ মুসনাদ ’ বইতে ও ইবনে হিবরানের সহীহতে ও তিনি বলেন , এর ধারাবাহিকতা বিশ্বাসযোগ্য । এতে যারা একমত তারা হলেন আদধাহাবী ও আল মুনধিরী । আল আবানি বলেন , ইমাম আল বুখারি র: এর শর্ত মোতাবেক আহমদ বিন হাম্বলের ছেলে আবদুল্লাহর ধারাবাহিক বর্ণনা নির্ভরযোগ্য ।


৫. এক লোক রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কাছে জানতে চাইলো: কেউ যদি পুরস্কারও সম্মানের আশায় যুদ্ধ করে, তবে সে কী পাবে? রাসূল صلى الله عليه وسلم উত্তর দিলেন, কিছু না। লোকটি তিনবার প্রশ্ন করলো, রাসূল صلى الله عليه وسلم তিনবার একই উত্তর দিলেন। তারপর বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন কাজ গ্রহণ করেন না যদি সেটা আন্তরিকতার সাথে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা না হয় ( হাদিস বর্ণনায় আবু উমামাহ )।
৬. রাসূল صلى الله عليه وسلم জানান, আল্লাহ বলেছেন: আমি স্বয়ংসম্পূর্ণ - আমার কোন অংশীদারের দরকার নেই। তাই কেউ যদি কোন কাজ করে যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করেছে, তবে আমি তার থেকে মুক্ত ও যাকে সে আমার অংশীদার বানিয়েছে, তার জন্য ওকে ছেড়ে দেব ( বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা )। তাই যে কোন কাজে আল্লাহর জন্য নিয়ত করা জরুরী।


ইবনে আল কাইয়্যিম বলেন: ঠিক যেমনটি উনি একমাত্র উপাস্য কোন অংশীদার ছাড়া, এটি অপরিহার্য যে উপাসনা হবে শুধু তাঁরই জন্য। তাই যেভাবে উনি উপাস্য হিসাবে একক, ইবাদতের জন্যও সবার থেকে তাঁকে আলাদা করতে হবে। সৎ কাজ হচ্ছে তাই যা রিয়া বা লোক দেখানো না ও সুন্নতপন্থী।



সুলায়মান বিন আবদুল্লাহ رضي الله عنهم বলেন: কোন কাজ গ্রহণ হওয়ার জন্য দুইটি স্তম্ভের দরকার - তা সঠিক হতে হবে ও আন্তরিকতার সাথে করতে হবে। সৎ কাজ হচ্ছে তাই যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে মানানসই যেমনটি কুরআনে আদেশ দেয়া হয়েছে: সে যেন ভাল কাজ করে ( সূরা কাহফ; ১৮: ১১০ )।



আন্তরিক কাজ সেটাই যা গোপন ও প্রকাশ্য শিরক থেকে মুক্ত যেমনটি আল্লাহ বলেন: এবং তার মাবুদের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে ( সূরা কাহফ; ১৮: ১১০)।



যে জ্ঞানের সন্ধান করছে, সে তার নিয়্যতকে শুদ্ধ করবে - “ আর জ্ঞানের সন্ধানের সময় সঠিক নিয়্যত হচ্ছে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা ও সেজন্য কাজ করা, তাঁর শরীয়তকে জীবন দান বা শরীয়াহ আইনের প্রচলন ঘটানো, নিজের মনকে আলোকিত ও আত্মিক জগতকে সুন্দর করা, কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা ও আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য যে মহা-পুরষ্কারের আয়োজন রেখেছেন, সেটা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করা।



সুফিয়ান আস সাওরী (রহঃ) বলেন, নিয়্যত সংশোধনের মতো কঠিন চেষ্টা অন্য কোন কাজে আমাকে কখনো করতে হয় নি। এই দুনিয়ায় কোন কিছু পাওয়ার লোভে অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ কোন পদ লাভ, সম্মান ও টাকা – পয়সা বৃদ্ধি বা আশেপাশের মানুষের চোখে জ্ঞানী ও মহান ব্যক্তির মর্যাদা লাভ, জ্ঞানী – গুণী - সম্মানিত ব্যক্তিদের আসরে যাওয়ার সুযোগ অর্জন ইত্যাদির জন্য একজন জ্ঞান চর্চা করবে না। তাহলে তা হবে খারাপের সাথে ভালোর বদল।



আবু ইউসুফ র: বলেন, হে মানুষ, তোমরা তোমাদের জ্ঞান দিয়ে আল্লাহকে খুজো। জ্ঞানের সন্ধানে আমি বিনীত না হয়ে কোথাও কখনো বসি নি আর সে জায়গা থেকে সবার চেয়ে বেশি জ্ঞান অর্জন করেই আমি উঠেছি। সবার থেকে আমি সেরা তা দেখানোর আশায় কখনো কোথাও বসি নি - নিজে থেকে তা প্রকাশ পেয়ে গেলে তা আলাদা কথা।



জ্ঞান হলো ইবাদতের কাজ ও আল্লাহর কাছে যাওয়ার একটি উপায়। তাই এই ইবাদতে আপনার নিয়্যত যদি খাঁটি হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে, বিশুদ্ধ করা হবে ও কল্যাণকর হবে। যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছুর ইচ্ছা থাকে, তবে তা নষ্ট ও অপচয় হবে - আপনি তার কল্যাণ হারাবেন। এমন হতে পারে যে কেউ মহৎ উদ্দেশ্য ছাড়া কোন কাজ করলো আর তার লক্ষ্য পূরণ হলো না। ফলে তার সব পরিশ্রম ও চেষ্টা বৃথা গেল।



উপরে যা বলা হয়েছে তার সার - সংক্ষেপ সহীহ মুসলিমেরএকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে : কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তিকে প্রথমে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। এরা হলো : আলেম, মুজাহিদ ও দাতা। আল্লাহ জ্ঞানী বা আলেমকে প্রশ্ন করবেন: তুমি দুনিয়ায় কী করেছ? সে বলবে: আমি আপনার জন্য জ্ঞান অর্জন করেছিলাম ও আপনার সন্তুষ্টির জন্য সেই জ্ঞান দান করেছি। তখন তাকে বলা হবে, তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি জ্ঞান অর্জন করেছো যেন তোমাকে জ্ঞানী বলা হয়। তুমি যা চেয়েছিলে তা দুনিয়াতে পেয়ে গিয়েছ। তখন আদেশ করা হবে সেই জ্ঞানীকে দোযখে ফেলে দেয়ার জন্য।



দানকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ প্রশ্ন করবেন: তুমি দুনিয়ায় কী করেছো? সে বলবে: আমি আপনার জন্য হালাল ভাবে সম্পদ অর্জন করেছিলাম ও আপনার পথে তা দান করেছি। তখন তাকে বলা হবে, “ তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি সম্পদ দান করেছো যেন তোমাকে দানশীল বলা হয়। তুমি যা চেয়েছিলে তা দুনিয়াতে পেয়ে গিয়েছ ”। তখন আদেশ করা হবে সেই দানশীল ব্যক্তিকে দোযখে ফেলে দেয়ার জন্য।



মুজাহিদকে প্রশ্ন করা হবে: তুমি দুনিয়ায় কী করেছিলে? সে বলবে: আমি আপনার জন্য মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত লড়াই করেছিলাম। তাকে বলা হবে, “ তুমি মিথ্যাবাদী। তুমি এজন্য লড়াই করেছো যেন তোমাকে বীর যোদ্ধা বলা হয় ও তাই হয়েছে। তুমি দুনিয়াতেই তোমার পুরস্কারপেয়ে গিয়েছ ”। এরপর তাকে দোযখে ফেলে দেয়ার আদেশ হবে।



আল – নওয়ারী রঃ বলেন: লোক দেখানো কাজ করা মানা, ও তা করলে যে কঠিন শাস্তি পেতে হব, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এই হাদিস তার একটি প্রমাণ। কোন কাজের জন্য সঠিক নিয়্যত থাকার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: তাদেরকে এছাড়া কোন আদেশ দেয়া হয় নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে ( সূরা বায়্যিনাহ; ৯৮: ৫ )। এটা আরো বোঝায় যে জিহাদ, জ্ঞান চর্চা, দান - এসবের মর্যাদা ও প্রতিদান সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা তাদের জন্যই প্রযোজ্য যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এসব করবে।




উপরে উল্লেখিত হাদীস প্রশ্নাতীতভাবে বুঝিয়ে দেয় যে একজন শিক্ষার্থী অবশ্যই তার জ্ঞানচর্চার সময় নিয়্যত পরিশুদ্ধ করবে । সে এভাবে নিয়্যত করবে যে তার জ্ঞানের অন্বেষণ আল্লাহ ছাড়া অন্য আর কারো জন্য নয় ; সে আল্লাহর সন্ত্তষ্টির জন্য ও আল্লাহর কাছ থেকেই পুরস্কার লাভের আশায় জ্ঞান অর্জন করবে। অন্যদের কাছে সম্মানিত হওয়ার আশায় সে জ্ঞানচর্চা করবে না যেমনটি রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে জ্ঞান অর্জন করতে চায় বিদ্বানদের সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য , অজ্ঞদের থেকে নিজেকে সেরা হিসাবে প্রমাণ করার জন্য অথবা লোকে যেন তার দিকে সম্মানের চোখে তাকায় , তাহলে তার জায়গা আগুনে অর্থাৎ সে জাহান্নামী। আল আবানি র: সহীহ ইবনে মাজাহ , মিশকাত আল মাসাবীহ ও আত তালিক আর রাগিব বইগুলিতে এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন ।

Reply

Muslim Woman
12-16-2015, 04:08 PM
:sl:




২ . শরীয়াহ বিরোধী সবকিছু থেকে মন ও আচরণকে শুদ্ধ করতে হবে



জ্ঞান অর্জনের পথে যে ছাত্র, সে নিজেকে শুদ্ধ রাখবে সব বিদআত থেকে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাহ, জীবনের সব ক্ষেত্রে সে প্রয়োগ করবে ও উযু বজায় রেখে সাধ্যমত দেহ ও পোশাক পবিত্র রাখবে।

আবদুল মালিক আল মায়মুনি বলেন: ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল (রঃ)এর চেয়ে আর কাউকে আমি এত পরিষ্কার কাপড় পরতে, গোঁফ ছাটাতে মনোযোগী, চুল – দাড়ি পরিপাটি রাখা ও ধবধবে সাদা – পাক কাপড় পরতে দেখি নি ( বর্ণনায় ইবনে আবু হাতিম )।

আহমেদ বিন হাম্বল রঃ এর সব কাজ ছিল সুন্নাহ অনুসারে যেমনটি তিনি বলেন: আমি কখনোই এমন কোন হাদিস লিখিনি যা আমি নিজে আমল করিনি। একবার আমি জানতে পারলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন ( গা থেকে দুষিত রক্ত বের করে দেয়া ) ও এক দিনার মজুরী দিয়েছিলেন। সেজন্য আমিও শিঙ্গা লাগাই ও যে এটা করে তাকে এক দিনার দেই।

পরিষ্কার কাপড় পরা নিয়ে কেউ যেন ভুল ধারণা না রাখে ও এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে বরং একজন এর চেয়ে কিছুটা কম করবে ; এটা বিবেচনায় রাখতে হবে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘ বাদহাদা ’ আসে ঈমান থেকে। ইবনে আল আতহীর (রঃ) বলেন: বাদহাদা হলো সাদাসিধা ভাবে মানুষের সামনে হাজির হওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝিয়েছেন, পোশাকের মধ্য দিয়ে একজন বিনয় প্রকাশ করবে - অহংকার নয়।


আবু আবদুল্লাহ আল বুসিনজী বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছেন - বাদহাদা আসে ঈমান থেকে, সেটা হলো সেই বিনয় যা একজন তার পোশাকের মধ্য দিয়ে প্রদর্শন করেন। এটা হলো নম্রতা যা দামী, চটকদার কাপড় পরা থেকে মুক্ত থাকতে পারলে প্রকাশ পায়।

আল খাতীব رضي الله عنهم বলেন: শিক্ষার্থী অবশ্যই হাসি- তামাশা, অর্থহীন ও নীচু শ্রেণীর কথাবার্তা যেমন অপরিপক্ক কথা, অট্টহাসি, ফিকফিক করে হাসা ও অতিরিক্ত কৌতুক থেকে দূরে থাকবে। মাঝেমাঝে অল্প হাসার অনুমতি তার আছে – সেটা এমন হবে যেন জ্ঞানের সন্ধানে যে আছে, তার আদবের সীমা না ছাড়ায়।

সবসময় কেউ যদি জ্ঞানের ছাত্রের উপযুক্ত না এমন সব কথা বলে ও অপরিপক্ক ও ছেলেমানুষী আচরণ, বেশি বেশি হাসি – তামাশা করে, তবে তা তার প্রতি অন্যের শ্রদ্ধাবোধ কমিয়ে দেবে ও সেটা তার ব্যক্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর।

মালেক রঃ বলেন: ছাত্ররা স্থিরতা, বিনয় ও প্রশান্তভাবের অধিকারী হবে ও তার আগে যে আলিমগণ চলে গেছেন, তাদের সে অনুসরণ করবে। সাইয়্যিদ বিন আমীর বলেন, আমরা হিসাম – আদ – দাসতাওয়াই এর সাথে ছিলাম। আমাদের মধ্যে একজন জোরে হেসে উঠলে হিসাম বললেন: তুমি হাসছো যখন তুমি হাদীস নিয়ে পড়ছো? ( বর্ণনায় মুহাম্মদ বিন আল হুসাইন )।

একজন ছাত্র হিসামের সামনে হেসে উঠলে তিনি বলেন: হে তরুণ; তুমি জ্ঞানের সন্ধান করছো আর হাসছো? ছেলেটি উত্তর দিল: আল্লাহই কি আমাদের কাঁদান ও হাসান না? হিসাম বললেন, তাহলে তুমি কাঁদো (তরুণটি সূরা নাজমের ৪৩ নং আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়েছিল; বর্ণনায় আবদুর রহমান বিন মাহদী। )

বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করার জন্য সব মুসলমানের উচিত সুন্নাহ মেনে চলা যেমন দেহ পাক্ রাখা, পরিষ্কার কাপড় পরা, মানুষের সামনে যথাযথভাবে হাজির হওয়া। বিশেষত যারা ছাত্র, তাদের জন্য এসব পালন করা অবশ্য কর্তব্য কেননা তারা তাদের জ্ঞান দিয়ে ভাল কাজের প্রতি উৎসাহিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।




রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার মধ্যে অণু পরিমাণ কিবর আছে, সে বেহেশতে যাবে না ( বর্ণনায় মুসলিম; সূত্র আবদুল্লাহ বিন মাসউদ )। একজন এটা শুনে বললো, অনেকে এটা পছন্দ করে যে তার কাপড় ,জুতা দেখতে সুন্দর হোক। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, অবশ্যই আল্লাহ সুন্দর ও তিনি সুন্দরকে ভালবাসেন। কিবর হলো সত্যকে অস্বীকার করা ও মানুষকে তুচ্ছ করা ( সহীহ মুসলিম )।

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্দর সুগন্ধী ভালবাসতেন ও নিয়মিত সুগন্ধী ব্যবহার করতেন। আবু মুসা বিন আনাস বিন মালিকের পিতা জানান , রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সুককাহ ছিল ও তিনি তা ব্যবহার করতেন। আল আলবানি বলেন: সুককাহ হলো কালো মৃগনাভি; সময়ের সাথে সাথে এর সুগন্ধ বাড়ে। এর আরেকটি মানে হতে পারে মৃগনাভি রাখার পাত্র, এটাই মনে হয় সঠিক ( বর্ণনায় দাউদ, মুসলিম)।



রাসূল ﷺ দূর্গন্ধ অপছন্দ করতেন ও তা থেকে ফিরে যেতেন। যেমন আবু সাঈদ আল খুদরী رضي الله عنهم বলেন, যখন খায়বার জয় করা হলো তখন আমরা কয়েকজন সাহাবী ক্ষুধার্ত ছিলাম। তাই রসুন গাছের কাছে গিয়ে প্রচুর রসুন খাই যতক্ষণ না মন সন্তুষ্ট হয়। এরপর মসজিদে যাই। রাসূল ﷺ গন্ধ পেয়ে বললেন: যে এরকম বাজে গন্ধযুক্ত কিছু খায়, সে মসজিদে আসবে না। সবাই বলা শুরু করলো, রসুন হারাম হয়ে গিয়েছে।। রাসূল ﷺ এটা জানতে পেরে বললেন: হে মানুষ; আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা আমি হারাম করতে পারি না। তবে রসুনের গন্ধ আমি অপছন্দ করি ( বর্ণনায় মুসলিম )।



রাসূল ﷺ বলেন, যে রসুন, পেয়াজ ও পেয়াজের তরকারী খায়, সে ( ওসব খেয়ে ) মসজিদে আসবে না। কেননা, মানুষের মতো ফিরিশতারাও এসব গন্ধে কষ্ট পায় ( বর্ণনায় জাবির رضي الله عنهم )।

রাসূল ﷺ বলেছিলেন, মুসলমানরা চল্লিশ দিনের বেশি গোঁফ না ছেটে, নখ, চুল, বগলের লোম না কেটে থাকবে না। আনাস বিন মালিক رضي الله عنهم বলেন, রাসূল ﷺ গোঁফ ছাটার জন্য ও নখ ও বগলের লোম কাটা ও যে চুল দেখা যায় না তা কাটতে ৪০ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন। আন নাওয়ায়ী (রহঃ)বলেন: এর মানে ৪০ দিনের বেশি না কেটে এসব রাখা যাবে না; আবার এর মানে এই না ৪০ দিন পর্যন্ত রাখতেই হবে ( সহীহ মুসলিম )।



রাসুল ﷺ আরো উৎসাহ দিয়েছেন মিসওয়াক ব্যবহার করতে। তিনি বলেছেন, যদি আমি এই ভয় না পেতাম যে উম্মাতের জন্য এটা খুব কঠিন হবে, তাহলে প্রত্যেক সালাতের আগে মিসওয়াক ব্যবহার করতে আদেশ দিতাম ( বর্ণনায় আবু হুরায়রা رضي الله عنهم, বুখারী ও মুসলিম)। তাই এসব পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ছাত্ররা সতর্ক থাকবে।

রাসুল ﷺ এর সুন্নাহ মেনে এসব পালন করতে হবে ও দৃঢ়ভাবে একে ধরে রাখতে হবে। যারা জ্ঞানের ছাত্র, তাদেরকেই বেশি করে এসব ব্যপারে দৃষ্টি রাখতে হবে; কেননা তারা রাসুল ﷺ এর ওয়ারিস। এটাই স্বাভাবিক যে তারাই রাসুল ﷺ কে বেশি মেনে চলবে ও তাঁর দেখানো আদর্শে পথ চলবে।



অন্তরের পবিত্রতার জন্য জ্ঞানের ছাত্ররা অবশ্যই নিজের আত্মাকে শুদ্ধ করবে অপছন্দীয় ও নিন্দনীয় স্বভাব থেকে। যেহেতু জ্ঞান হলো মনের ইবাদত, গোপন প্রার্থনা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। বাহ্যিক অঙ্গগুলির উপাসনা গ্রহণযোগ্য হয় না, যদি তা বাহ্যিক অপবিত্রতা থেকে মুক্ত না হয়। আত্মিক উপাসনাও তেমনি কবুল হয় না যতক্ষণ না একজন নিজেকে পবিত্র করছে অপবিত্র আচরণ ও স্বভাব থেকে।


আল্লাহ বলেন: অবশ্যই মুশরিকরা অপবিত্র ( সূরা তওবা; ৯: ২৮ )। এই আয়াত দেখায় যে পবিত্রতা শুধু বাইরের দিকেই সীমিত না যা ইন্দ্রিয়গুলি দিয়ে অনূভব করা যায়; যেহেতু অবিশ্বাসীরা গোসল করে পরিষ্কার কাপড় পরে বাইরের দিক পবিত্র রাখতে পারে কিন্তু তার আত্মিক দিক নোংরা ও অপবিত্র। অন্যভাবে বলা যায়, তার অন্তর নাপাকীতে ভরা।



নাজাশাহ ( অপবিত্রতা ) একটি পরিভাষা যা ব্যবহৃত হয় যা থেকে দূরে থাকতে হবে ও যেটা থেকে ফিরে আসতে হবে। মনের নাপাকী সবচেয়ে গূরুত্বপূর্ণ অপবিত্রতা যা থেকে একজন দূরে থাকতে চাইবে। কারন এখন যদিও এটা শুধুই অপবিত্রতা, পরে স্বাভাবিকভাবেই এর এমন বিকাশ হবে যা তোমাকে ধ্বংস করবে।
Reply

Welcome, Guest!
Hey there! Looks like you're enjoying the discussion, but you're not signed up for an account.

When you create an account, you can participate in the discussions and share your thoughts. You also get notifications, here and via email, whenever new posts are made. And you can like posts and make new friends.
Sign Up
Muslim Woman
12-16-2015, 04:11 PM
:sl:




একবার জিবরাইল আলাইহিস সালাম রাসুল ﷺ এর সাথে দেখা করার কথা দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আসতে দেরী করলেন। ফলে রাসুল ﷺ বিচলিত হলেন। পরে জিবরাইল আলাইহিস সালাম অভিযোগ করে বললেন, আমরা এমন ঘরে ঢুকি না যেখানে ছবি বা কুকুর আছে ( সহীহ বুখারী; বর্ণনায় ইবনে উমর رضي الله عنهم )।



আবু হামিদ আল গাযযালী رضي الله عنهم বলেন: মনও হলো বাসা। এই বাসা হলো ফিরিশতাদের যেখানে তারা নেমে আসে ও বাস করে। নিন্দনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যেমন রাগ, লোভ, মিথ্যা বলা, হিংসা, উদ্ধত ভাব, আত্মপ্রশংসা ইত্যাদি হলো ঘেউ ঘেউ করা কুকুরের মতো। তাই কিভাবে ফেরেশতা এমন জায়গায় ঢুকবে?


ইবনে জামাহ رضي الله عنه বলেন: জ্ঞানের পথের ছাত্র তার মনকে নৈতিক ত্রুটি, প্রতারণা, হিংসা ও খারাপ স্বভাব থেকে মুক্ত রাখবে যাতে সে জ্ঞান অর্জন করতে পারে, তা মনে রাখতে পারে, কোন বিষয়ের বিস্তারিত অর্থ ও জ্ঞানের গোপন সম্পদ আবিষ্কার করতে পারে।


অনেকে যেমনটি বলেন - জ্ঞান হলো গোপন ইবাদত, মনের উপাসনা ও আল্লাহকে কাছে পাবার আত্মিক উপায়। নোংরা ও নাপাকী থেকে মুক্ত না হলে বাহ্যিক ইন্দ্রিয়সমূহের ইবাদত কবুল হয় না; তেমনি মনের ইবাদত জ্ঞান অর্জন করা সহজ হবে না যদি সে নীচু, ঘৃণ্য স্বভাব ও আচরণ থেকে মুক্ত না হয়। যদি তুমি তোমার মনকে জ্ঞানের জন্য পরিষ্কার রাখো, এর কল্যাণ স্পষ্ট বোঝা যাবে - ঠিক যেমন এক টুকরো জমি চাষের পর ফলনশীল হয়। হাদীসে বলা হয়েছে: অবশ্যই দেহের মধ্যে এক টুকরা মাংস আছে। যদি সেটা ভাল থাকে, তবে বাকী শরীর ভাল থাকবে। যদি এটা নষ্ট হয়, তবে বাকী দেহ নষ্ট হবে। অবশ্যই এটা হলো মন বা অন্তর ( ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম ও ইবনে হিববানের বর্ণিত একটি বড় হাদীসের অংশ এটি )।


কোন আলোর জন্য এমন মনের ভিতরে ঢোকা নিষেধ, যেখানে সর্বশক্তিমান ও মহিমান্বিত আল্লাহ যা ঘৃণা করেন তা থাকে। ইবনে আল কাইয়্যিম র: বলেন: পাপ এই দুনিয়ায় দেহ - মনে কুৎসিত, নিন্দনীয় ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে; আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না এসবের প্রভাব পরকালে কী হবে। যার উপর এই প্রভাব পড়ে, সে জ্ঞান অর্জন করতে পারে না; কেননা জ্ঞান হলো এমন এক আলো যা আল্লাহ মনের ভিতরে রেখে দেন ও পাপ তা বের করে দেয়।



যখন আশ শাফেয়ী রঃ পড়ে শোনাবার জন্য ইমাম মালেক রঃ এর সামনে বসেন, তখন শাফেয়ীর বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান, বোঝা ও উপলব্ধি করার ক্ষমতা দেখে ইমাম রঃ অভিভূত হোন। তিনি বলেন: আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার মনের ভিতরে আল্লাহ আলো দিয়েছেন। তাই পাপের অন্ধকার দিয়ে এই আলো মন থেকে বের করে দিও না।ইমাম শাফীয়ি রঃ বলেন, আমি ওয়াকির কাছে মনে রাখার ব্যাপারে আমার দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ করলাম। তিনি উপদেশ দেন পাপ ত্যাগ করতে এবং বলেন: জেনে রাখো - জ্ঞান হলো রহমত ও আল্লাহর রহমত পাপীদের কাছে পৌঁছায় না ( বর্ণনায় ইবনে আল জাওরী র.।



আবু আবদুল্লাহ বিন আল জালা বলেন: আমি এক খ্রিষ্টান বালকের দিকে তাকিয়ে ছিলাম যার চেহারা ছিল খুব সুন্দর। আবু আবদুল্লাহ আল বালখী আমাকে বললেন: তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম: চাচা, আপনি কি এই সুন্দর চেহারা দেখছেন না? এত সুন্দর মুখ কিভাবে আগুনে শাস্তি পাবে? তিনি আমার বুকে ধাক্কা দিয়ে বললেন, তোমার এই কাজের পরিণাম একদিন তুমি পাবেই। এই ঘটনার চল্লিশ বছর পর শাস্তিটা পেলাম , আমি কুরআন ভুলে গেলাম।

আবু আল আদিয়ান বলেন: আমি আমার শিক্ষক আবু বকর আদ দাককারের সাথে ছিলাম। সেখানে এমন একটা কিছু ঘটলো যা ঠিক ছিল না , আমি তা তাকিয়ে দেখলাম। তিনি এটা খেয়াল করে বললেন: বৎস, এই তাকানোর পরিণাম তুমি ভোগ করবে, যদিও তা অনেক পরে হয়। বিশ বছর পার হয়ে গেল অপেক্ষায় – খারাপ কিছু ঘটলো না। এক রাতে আমি এ নিয়ে চিন্তা করে ঘুমাতে গেলাম। জেগে উঠে বুঝলাম আমি পুরো কুরআন ভুলে গিয়েছি।

আবু হামিদ رضي الله عنهم বলেন, যদি তুমি বলতে চাও - কিন্তু আমি তো এমন অনেক ছাত্র দেখেছি যাদের আদব ভাল না কিন্তু তারা যথেষ্ট জ্ঞানী - এই দুইয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এই ছাত্র প্রকৃত, দরকারী জ্ঞান যা তাকে পরকালে কল্যাণ ও সুখ এনে দেবে - তার থেকে অনেক দূরে রয়েছে। জ্ঞান অর্জনের প্রথম ধাপ থেকে তার কাছে এটা স্পষ্ট যে পাপ হলো প্রাণঘাতি ও ধ্বংসাত্মক বিষ। তুমি কি এমন কাউকে কখনো দেখেছ যে প্রাণঘাতি বিষের স্পর্শে আসতে চাচ্ছে? এটা জেনেও যে তা বিষ ? তুমি যা দেখেছো তা হলো তারা বানিয়ে বানিয়ে কথা বলছে যা তাদের মন অস্বীকার করছে; আর একে কোন ভাবেই জ্ঞান বলে না।

ইবনে মাসউদ رضي الله عنهم বলেন: জ্ঞান কোন ধারাবাহিক বর্ণনা না, বরং এটা আলো যা মনের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। অনেকে বলেন - জ্ঞান হলো ভয় যেমনটি আল্লাহ বলেন: অবশ্যই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী, তারাই তাঁকে ভয় করে
( সূরা ফাতির; ৩৫: ২৮ )। কেউ কেউ এ নিয়ে বলেন: আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য জ্ঞানের সন্ধান করেছিলাম। আর জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য হতে চায় নি। তাই জ্ঞান আমাদের থেকে চলে গেল ও তার আসল পরিচয় আমাদের কাছে প্রকাশ করলো না।

তাই তুমি যদি বলো, আমি একদল জ্ঞানী ও বিচারকদের দেখেছি যারা খুবই মেধাবী ও জ্ঞানীদের মধ্যে যাদেরকে সবচেয়ে সফল বিবেচনা করা হয় কিন্তু নিন্দনীয় আচরণ থেকে তারা মুক্ত নয়; তবে আমরা বলবো: যদি তুমি প্রকৃত জ্ঞান কী তা বুঝতে পারো ও পরকাল সম্পর্কে জানতে পারো, তাহলে তোমার কাছে এটা স্পষ্ট হবে যে তাদের মনকে যা আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তা কোন কল্যাণকর জ্ঞান নয়। বরং সেটাই প্রকৃত কল্যাণকর জ্ঞান যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য,মহিমান্বিত আল্লাহর জন্য আমল করা হয়।


মনের পবিত্রতা ও দেহের অঙ্গের শরীয়াহ আইনের প্রতি সমর্পণকে ঘিরে এসব কিছু আবর্তিত হয়। তাই শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে আত্মিক ও বাহ্যিক দুই অবস্থার দিকেই যা হবে সুন্নাতপন্থী; যাতে আল্লাহ তার জন্য জ্ঞানের আলো ও সম্পদ উন্মুক্ত করে দেন। এসব হলো আল্লাহর অকৃপণ দান যা তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে দেন ও আল্লাহ হলেন অফুরন্ত দানের মালিক।


Reply

Muslim Woman
01-22-2016, 04:38 PM
:sl:




৩ .জ্ঞানের দিকে পুরো মনোযোগ দিতে হবে ও সব বাধা দূর করতে হবে

ইবনে আল কাইয়্যিম رضي الله عنهم বলেন: তুমি কী পাচ্ছো তা নির্ভর করে অভ্যাস ত্যাগ ও অন্য কিছুর সাথে একাত্ম হওয়ার উপর।

কিছু নিয়ম চালু আছে যাতে মানুষ অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছে ও এসব রীতিকে শরীয়াহর স্তরে বসিয়েছে বরং কিছু ক্ষেত্রে এসব রীতিকে শরীয়াহ থেকে বেশি সম্মান দেয়া হয়। যারা এসব মানতে চান না, তাদেরকে কঠোরভাবে তিরস্কার করা হয়; এমনো হয় এদেরকে কাফির, বেদাআত সৃষ্টিকারী বা পথভ্রষ্ট বলা হয়। প্রচলিত এসব নিয়মের জন্য এরা রাসুল ﷺ এর নিয়মকে ধ্বংস করে ফেলে ও নিজেদের নিয়মকে রাসুল ﷺ এর অংশীদার বানায়।

এদের কাছে সেটাই ভাল যা তাদের নিয়ম মেনে চলে ও তাই খারাপ যা এসবের বিরোধী। এসব অভ্যাস ও রীতিকে আদমের সন্তানদের বিভিন্ন দল গ্রহণ করেছে যেমন রাজা, নেতা, বিচারক, সুফি, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ। একদম ছোট থাকতেই একজনকে এসব শেখানো হয়; বৃদ্ধরা এসব শিখেই বড় হয়েছে - এসব রীতিকে সুন্নাহ হিসাবে পালন করা হয়। বরং যারা এসব পালন করে, তারা এসব অভ্যাসকে সুন্নতের থেকেও বেশি গুরুত্ব দেয়। যে এসব প্রচলিত অভ্যাস দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, সে আসলে খুবই হতভাগ্য - এর শেষ ঘটে কুরআন ও সুন্নাহ ত্যাগ করার মধ্য দিয়ে।

আল্লাহর পথে যাওয়ার সময় শরীয়াহ বিরোধী বাহ্যিক ও আত্মিক নানা বাধা মনের ক্ষতি করে। এসব তিনটি বাধা হলো: শিরক, বেদাত ও পাপ। শিরকের বাধা দূর করার জন্য তাওহীদকে অবলম্বন করতে হবে। বেদআতের বাধা দূর করতে সুন্নাহ মেনে চলতে হবে; প্রকৃত তওবার মধ্য দিয়ে পাপের বাধা সরাতে হবে।

আল্লাহ ও পরকালের পথে বান্দা যাত্রা শুরু না করা পর্যন্ত এসব বাধা তার কাছে স্পষ্ট হয় না। বাধাগুলি লক্ষ্য করার পরে সে বুঝতে পারে কিভাবে এসব তাকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছিল। আল্লাহর পথে রওনা না হলে সে ওভাবেই থেকে যাবে, এসব বাধার গোপন প্রভাব বুঝতে পারবে না।
এই তিনটি বাধা থেকে দূরে যাওয়ার জন্য যে শক্তি দরকার, তার জন্য উচ্চতর লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। তা না হলে এসবের সাথে সম্পর্ক শেষ করা সম্ভব না। মন এমন কিছু ছাড়তে চায় না, যা সে পছন্দ করে। ব্যতিক্রম হলো যা ত্যাগ করা হচ্ছে তার বদলে আরো বেশি পছন্দের ও গূরুত্বপূর্ণ কিছু যদি পাওয়া যায়। যা সে চায় তার সাথে সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, অন্য কিছুর সাথে সম্পর্ক তত দূর্বল হবে।

ইবনে আল কাইয়্যিম رضي الله عنهم বলেন, লক্ষ্যে যেতে হলে দরকার বাজে অভ্যাসগুলি বাদ দেয়া ; অন্যান্য কিছুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অন্য বাধাগুলি পার হওয়া। এসব নির্ভর করবে বৃহত্তর লক্ষ্যের সাথে আপনার সম্পর্ক কতটুকু শক্তিশালী তার উপর। লক্ষ্যের প্রতি আপনার ইচ্ছা যত প্রবল হবে, সেটার জন্য কোন কিছু ত্যাগ করা তত সহজ হবে। আপনার মনে হবে আপনি যা চান তা যেন পেয়ে গিয়েছেন।

লক্ষ্যস্থলে যাওয়াটা মনে হবে অল্প কিছুদিনের ব্যাপার, ত্যাগ যা করতে হবে তা খুবই সামান্য।
বদঅভ্যাসগুলি হলো মরিচীকার মতো যেমনটি আল ইমাম আহমদ র: বলেন: যদি কেউ মৃত্যুর কথা ভাবে, তবে এই দুনিয়ার সবকিছুই গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।

যে জ্ঞানের চর্চাকারী, তার আকাঙ্খা থাকবে মৃত্যুর পরের জীবন ও আল্লাহর জন্য। সেজন্য এই লক্ষ্যস্থলের জন্য প্রবল একাত্মতা তার মনে থাকতে হবে। এই দুনিয়ার ভোগ বিলাস ও চাকচিক্য থেকে দূরে থাকার মতো ব্যস্ততার জন্য জ্ঞানচর্চা যথেষ্ট আর বাকী দিন যা আছে তা খুবই অল্প।

আল আশহাত আবু আর- রাবি বর্ণনা করেন: সুহবাহ তাঁকে বলেন , তুমি তোমার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলে ও তুমি হয়েছো ধনী ও সফল। আমি হাদীসের সাথে ছিলাম ও হয়েছি গরীব। সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সুববাহ বলেছেন: যে হাদীস নিয়ে পড়াশোনা করবে, সে গরীব হবে। আমি এতটাই গরীব হয়ে পড়ি যে আমার মায়ের একটি পট সাত দিনারে বিক্রি করি।
Reply

Muslim Woman
01-23-2016, 01:29 PM
:sl:




আয যুবায়ের বিন আবু বকর বলেন: আমাকে নিয়ে আমার ভাতিজি বলে, আমাদের পরিবারে চাচা তার স্ত্রীর সাথে সবচেয়ে ভাল ব্যবহার করেন। চাচা দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করেন নি বা দাসী কেনেন নি। আমি বললাম: আমার স্ত্রী বলেন, এসব বই থেকে তিন সতীন তার জন্য কম যন্ত্রণাদায়ক হতো।

আবু তাহান বলেন: সুহবাহ তার নিজের অবস্থার বর্ণনা করেছেন ও যারা হাদীসের ছাত্র তাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন। যারা হাদীস চর্চা করে তাদের সময় এর পিছনেই চলে যায়; তাই তারা নিজের ও পরিবারের জন্য আয় করতে পারে না। ফলে তারা অন্যের উপর বোঝা হয়ে যায় - এটা সহীহ হাদীসে যা আদেশ করা হয়েছে তার বিরোধী।

সুববাহের কথা থেকে এই মানে করা ঠিক হবে না যে, বেশি অর্থ রোজগার করতে না পারায় তিনি দু:খ পেতেন। তিনি ছিলেন মহৎ ও নির্লোভ চরিত্রের অধিকারী - এতটাই তিনি নির্লোভ ছিলেন যে একবার আল – মাহদী তাকে ত্রিশ হাজার দিরহাম উপহার দিলে সুহহাব সাথেসাথে তা গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। তার কথা থেকে এটাও মনে করা ঠিক হবে না যে, তিনি মানুষকে হাদীস চর্চা থেকে বিরত থাকতে বলতেন। বরং তিনি হাদীস চর্চার পাশাপাশি জীবিকা অর্জনের জন্য ছাত্রদের উৎসাহ দিতেন।



সুফিয়ান বিন উয়াহনাহ বলেন: এসব কালির পাত্র যে মানুষের ঘরে ঢুকে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য জীবন কঠিন হয়ে যায়। আত - তাহহান বলেন: কালির পাত্র বলতে এখানে হাদীসের চর্চাকারীরা যে কালি তাদের সাথে রাখেন যেন যখন যে হাদীস তারা শুনতে পান, তা লিখে রাখতে পারেন সেটা বোঝানো হয়েছে।

সুফিয়ান সওরী র: বুঝিয়েছেন হাদীসের ছাত্রদের বেশিরভাগই লেখা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে পরিবারের জন্য আয় করতে পারেন না। ফলে তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা অভাবের মধ্যে থাকে। কালির পাত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্যই এদের এই কঠিন অবস্থা।
Reply

Muslim Woman
01-24-2016, 07:34 AM
:sl:



ইবনে জামাহ বলেন: ছাত্ররা জ্ঞানের পথে তাদের তারুণ্য ও সময়কে যতটুকু সম্ভব কাজে লাগাবে। কালকের জন্য আজকের পড়া ফেলে রাখতে তারা যেন প্ররোচিত না হয়। প্রতিটি ঘন্টা যা তাদের জীবন থেকে চলে যাচ্ছে তা খুবই মূল্যবান ও তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না। জ্ঞান অর্জনের পথে যে সব বাধা আছে ও যা তার মনোযোগ নষ্ট করে, সে সবের সাথে সম্পর্ক সাধ্যমতো শেষ করতে হবে। এর বদলে তার শক্তি ও সামর্থ্যকে জ্ঞান অর্জনের পথে কাজে লাগাতে হবে।

এজন্যই যারা সালাফ তারা পরিবার ও দেশ থেকে দূরে চলে যেতে পছন্দ করতেন। কেননা, যদি কারো চিন্তা - ভাবনা অনেক কিছুকে ঘিরে হয়, তাহলে সে জ্ঞানকে আবিষ্কার করতে পারবে না - আল্লাহ মানুষের মনে দুইটি অন্তর দেন নি। [ অনুবাদকের ব্যাখ্যা: একটি মন জ্ঞান চর্চা করবে, অন্যটি সংসার চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে, এমনটি সম্ভব নয় ]।

আল খাতীব আল বাগদাদী র: বলেন: জ্ঞান তখনই একজনের হয় , যখন সে তার কারখানা বন্ধ করে , বাগান ধ্বংস করে , বন্ধুদের ত্যাগ করে ও পরিবারের সব সদস্য মারা গিয়েছে বলে তাকে আর কারো জানাযায় যেতে হয় না। হয়তো একটু বেশি বলা হয়ে গিয়েছে - এখানে মূল কথা হলো জ্ঞানের জন্য একজন তার সব চিন্তা ও মনোযোগকে কাজে লাগাবে। অন্যকিছুর সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করা মানে তার উপর যারা নির্ভর করে, তাদের প্রতি দায়িত্বে অবহেলা করা বা আয় না করে অন্যের করুণার উপর নির্ভর করা - যারা হয়তো সাহায্য করবে বা করবে না - তা নয়।

আশ শাফেয়ী র: বলেন: যার বাসায় খাবার নেই , তার সাথে পরামর্শ করবে না ; কেননা সে যুক্তিহীন মানুষ। জ্ঞানের পথে মনোযোগ নষ্ট করে এমন বিষয়ের সাথে সম্পর্ক না রাখার মানে যা করার দরকার নেই, তাতে সে নিজেকে ব্যস্ত রাখবে না। আয় করা ও মন এবং শক্তিকে জ্ঞান চর্চায় ব্যবহারে ভারসাম্য রাখতে হবে। আবু ইউসুফ আল কাজী বলেন: জ্ঞান তোমাকে তার এতটুকুও দেবে না যতক্ষণ না তুমি তাকে তোমার পুরোপুরি দিচ্ছ।




আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: সেরা দিনার হলো সেটি যা একজন তার পরিবারের জন্য, আল্লাহর পথে পশু ও সাথীদের পিছনে খরচ করে ( বর্ণনায় সাওবান )। হাদীস বর্ণনাকারী আবু কিলাবাহ (রহঃ) বলেন: রাসূল ﷺ পরিবারের কথা আগে বলেছেন। তার চেয়ে বড় পুরস্কারআর কে পাবে, যে তার সন্তানদের জন্য খরচ করে ও তাদেরকে সুরক্ষা দেয়? রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন: আল্লাহর পথে তুমি যা খরচ করো যেমন দাস মুক্তি, গরীবকে দান করা ও পরিবারের ভরণপোষণ, এসবের মধ্যে সবচেয়ে বড় পুরস্কারপাবে যা তুমি পরিবারের জন্য খরচ করলে ( বর্ণনায় আবু হুরায়রা র: )।


খায়তামাহ বলেন, আমরা একদিন আবদুল্লাহ বিন উমরের রা: সাথে ছিলাম। তার কোষাগারের কর্মচারী সেখানে আসলে তিনি জানতে চান - দাসদের খাবার দিয়েছ? নাসূচক উত্তর শুনে তিনি বললেন, যাও, ওদের খেতে দাও। রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন: পাপের জন্য এটাই যথেষ্ট যে একজন তার অধীনে যারা আছে তাদেরকে সময়মতো খেতে দেয় নি ( সহীহ মুসলিম )।

Reply

Muslim Woman
01-25-2016, 04:57 PM
:sl:



সুফিয়ান আস সাওরীর র: কাছে কেউ জ্ঞান অর্জনের জন্য আসলে তিনি তাকে প্রশ্ন করতেন: তোমার কি কোন রোজগার আছে? যদি নিজের খরচ চালানোর মতো ক্ষমতা তার থাকতো, তবেই তিনি তাকে অনুমতি দিতেন তার কাছে শিক্ষা গ্রহণের। তা না হলে বলতেন, যাও, আগে কিছু রোজগার করো।

এই আলোকে আমরা সালাফদের কথা এভাবে ব্যাখ্যা করবো যে, তারা বেঁচে থাকার জন্য কমপক্ষে যতটুকু দরকার ঠিক সেটাই নিজের ও পরিবারের জন্য চাইতেন। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে দুনিয়াদারির অনর্থক কাজে তারা ব্যস্ত হতেন না। ও সব প্রলোভন থেকে মুক্ত থাকতেন। সালাফরা জ্ঞানকে এতই ভালবাসতেন যে, সেটা তাদের দুনিয়ার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। এ নিয়ে আবু হুরায়রা رضي الله عنهم বলেন, তোমরা বলো আমি রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কাছ থেকে শোনা কথা অনেক বেশি বর্ণনা করেছি। তোমরা জানতে চাও কেন মুহাজির ও আনসাররা আমার মতো এত বেশি হাদীস বর্ণনা করে নি?


আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে তাদের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো আর আমি রাসুল صلى الله عليه وسلم এর কাছে থাকতাম; আর তারা যা মুখস্থ করতো না, আমি তা মুখস্থ করতাম। এ সময় যা খেতে পেতাম তাতেই আমি খুশি থাকতাম।

আমার আনসার ভাইয়েরা তাদের সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকতো আর আমি আস – শুফফার এক গরীব মানুষ সেই হাদীস মুখস্থ করতাম যা তারা ভুলে যেত। রাসুল صلى الله عليه وسلم বলেছিলেন, “ আমার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে তার কাপড় গুটিয়ে নেবে না, সে তাই মনে রাখতে পারবে যা আমি বলেছি।” তাই রাসুল صلى الله عليه وسلم এর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি চাদর মেলে বসে থাকতাম। যখন তিনি কথা শেষ করতেন, তখন চাদর গুটিয়ে বুকে ধরতাম। তাই আমি রাসুল صلى الله عليه وسلم এর বলা কথা ভুলি নি ( বর্ণনায় ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম )।


ক্ষুধা লাগলেও খেতে না গিয়ে রাসুল صلى الله عليه وسلم এর সাথে আমি থাকতাম। ঐ সময়ে আমি ভাজা রুটি খেতাম না বা রঙিন কাপড় পরতাম না। কোন নারী , পুরুষ আমাকে খাবার বেড়ে খাওয়ায় নি; আমি পেটে পাথর বেধে রাখতাম আর কাউকে কুরআনের কোন আয়াত শুনাতে বলতাম যদিও তা আমার জানা থাকতো ( বুখারী )।

Reply

Muslim Woman
01-26-2016, 07:20 AM
:sl:


ইমাম বুখারী তার বইয়ের সহীহ জ্ঞান অধ্যায়ে আবু হুরায়রার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। লোকে বলে আবু হুরায়রা খুব বেশি হাদীস বলে। পবিত্র কুরআনে যদি এই দুইটি আয়াত না থাকতো , তবে আমি একটি হাদীসও বর্ণনা করতাম না :

মানুষের জন্য যা আমি কিতাবে বর্ণনা করি, তারপর যারা আমার নাযিল করা সুস্পষ্ট নিদর্শন ও পরিষ্কার পথনির্দেশ গোপন করে, এরাই হচ্ছে সেই লোক যাদের আল্লাহ অভিশাপ দেন, অভিশাপ দেয় অন্যান্য অভিশাপকারীগণও।

তবে যারা ফিরে আসবে ও নিজেদের শুধরে নেবে, খোলাখুলিভাবে তারা ( সে সব সত্য ) কথা প্রকাশ করবে ( যা এতদিন আহলে কিতাবরা গোপন করে এসেছিল ), তারা হবে সেই লোক যাদের উপর আমি দয়া দেখাবো, আমি পরম ক্ষমাকারী, দয়ালু ( সূরা বাকারা ; ১৫৯ : ১৬০ )।

অবশ্যই আমাদের মুহাজির ভাইয়েরা ব্যবসা ও আনসার ভাইয়েরা তাদের সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন আর আবু হুরায়রা রাসুল صلى الله عليه وسلم এর সাথেসাথে থাকতেন। অন্যরা যাতে অংশ নিতো না, তিনি তাতে যোগ দিতেন ও অন্যরা যা মুখস্থ করতো না, তিনি তা মুখস্থ করতেন।

হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী র: বলেন, তিনি (বুখারী ) তার বইয়ের এই অধ্যায়ে আবু হুরায়রা র: ছাড়া আর কারো কথা বলেন নি। এর কারণ আবু হুরায়রা রা: সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাদীস মুখস্থ করেছেন। আশ শাফেয়ী র: বলেন: আবু হুরায়রা رضي الله عنهم তার সময়কালে সবচেয়ে বেশি বর্ণনা মুখস্থ করেছেন। আবু হুরায়রার জানাযায় দাড়িয়ে ইবনে উমর رضي الله عنهم আল্লাহর করুণা প্রার্থনা করেন এই বলে যে তিনি রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কথা মুসলমানদের জন্য মুখস্থ করেছিলেন।

আন নাওয়ায়ী বলেন : তিনি রাসূল صلى الله عليه وسلم এর সাথে সবসময় থাকতেন ; নিজের জন্য যে জীবিকার ব্যবস্থা হতো , তিনি তাতেই সন্তুষ্ট হতেন ; টাকা জমানোর দিকে তার কোন আকর্ষণ ছিল না ( সহীহ মুসলিম )।

Reply

Muslim Woman
01-28-2016, 03:52 AM
:sl:



রাসূল صلى الله عليه وسلم একবার আবু হুরায়রা রা: কে বলেছিলেন, তুমি কি আমার কাছে গণীমতের মাল নিয়ে জানতে চাইবে না যা অন্য সাহাবীরা জানতে চেয়েছে? আবু হুরায়রার জবাব ছিল, আমি আপনার কাছে তাই জানতে চাই যা আল্লাহ আপনাকে জানিয়েছেন ( বর্ণনায় ইবনে কাসির )।

আবু হুরায়রা যদিও হজরত মুহাম্মদ صلى الله عليه وسلم এর সাথে বেশিদিন থাকার সুযোগ পান নি, সাহাবীদের মধ্যে তিনিই বেশিরভাগ হাদীস মুখস্থ করে নেন। মনে করা হয় ত্রিশ বছর বয়সে তিনি ইসলাম কবুল করেন। এরপর থেকে তিনি রাসূলের صلى الله عليه وسلم ইন্তিকালের আগে পর্যন্ত তাঁর সাথে সবসময় থাকতেন। তাই মাত্র তিন বছর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর সাথে থাকার সুযোগ পাওয়ার পরেও তিনি সবচেয়ে হাদীস মুখস্থ ও বর্ণনা করেন।

এটা সম্ভব হয়েছিল কেননা জ্ঞানের ব্যপারে তিনি ছিলেন খুবই আন্তরিক; এ বিষয়ে দুনিয়ার সব বাঁধা তিনি দূর করেছিলেন ও মনকে অন্য সব কিছু থেকে মুক্ত রেখেছিলেন।

জ্ঞানের পথে যা বাধা দেয়, তা থেকে ছাত্রদের দূরে থাকতে হবে; কেননা কারো মনোযোগ যদি এদিক - সেদিক ছড়িয়ে যায়, তবে সে জ্ঞানকে পাবে না। সালাফরা সবকিছু থেকে জ্ঞানকে বেশি গূরুত্ব দিতেন। যেমন আল ইমাম আহমদ র: চল্লিশের পরে বিয়ে করেন।


আবু বকর আল আম্বারীকে এক দাসী দেয়া হয়েছিল। সে যখন একবার আম্বারীর কাছে যায়, তখন তিনি একটি বিষয়ে রায় কী হবে তা নিয়ে ভাবছিলেন। দাসীকে ঘরে ঢুকতে দেখে তিনি বললেন, একে ফেরত পাঠাও। দাসী জানতে চাইলো তার অপরাধ কী? তিনি বললেন, তোমার জন্য আমার মনোযোগ নষ্ট হয়েছে। জ্ঞানের চেয়ে তুমি আমার কাছে মূল্যবান না।

আশ শাফেয়ী র: বলেন, কেউ ধনী ও মর্যাদাবান থাকার সময় জ্ঞানের খোঁজ করলে সে সফল হবে না; বরং যারা বিনীতভাবে কম মর্যাদার স্থানে থেকে জ্ঞানীদের সেবা দেয়, তারা সফল হবে।
মালিক বিন আনাস رضي الله عنهم বলেন, কেউ জ্ঞানের খোঁজ পাবে না যতক্ষণ না সে অভাবের মুখোমুখি হয় ও জ্ঞানকে সবকিছুর উপর গূরুত্ব দেয়।

Reply

Muslim Woman
01-28-2016, 03:43 PM
:sl:

৪. কম খাও , সাবধান হও ও সবসময় আল্লাহর যিকির করো

ইবনে জামাহ বলেন : জ্ঞান অর্জনের জন্য ও জ্ঞান চর্চার সময় বিরক্তিবোধ না করার সেরা উপায় হলো খুব কম খাও ও হালাল খাবার খাও । আশ শাফেয়ী رضي الله عنهم বলেন : গত ষোল বছর ধরে আমি পেট ভরে খাই নি ।

এর কারণ হলো বেশি খেলে বেশি পানি পান করতে হয় , বেশি ঘুমাতে হয় , সব চেতনাগুলি ধীরে ধীরে তখন ভোঁতা হয়ে যায় ও দেহ অলস হয়ে যায় ।
শরীয়াহতে বেশি খাওয়া অপছন্দ করা হয়েছে । বেশি খেলে শরীরে বিভিন্ন অসুখ দেখা দেয় । বলা হয়ে থাকে , যা রোগ তুমি দেখো তার বেশিরভাগ হয় খাওয়া ও পান করা থেকে ।

কোন আলিম বা আউলিয়া সম্পর্কে এটা জানা যায় নি যে তিনি বেশি খেতেন । বেশি খাওয়া হলো বুদ্ধিহীন প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য । একজন মানুষের বুদ্ধিমত্তা হলো তার কাজের উৎস । এটি খুবই মহান একটি গুণ যাকে ঘৃণ্য একটি বিষয় অতিরিক্ত খাওয়া দিয়ে ক্ষতি ও নষ্ট করা যেতে পারে না ।

অন্য কোন খারাপ দিক যদি নাও থাকে , বেশি খাওয়ার জন্য বেশিবার যে টয়লেটে যেতে হয় -- একজন বুদ্ধিমান মানুষের জন্য এই বদঅভ্যাস থেকে দূরে থাকতে শুধু এই কারণই যথেষ্ট । যে বেশি খাওয়া , পান করা ও বেশি ঘুমের পক্ষে , তার জন্য জ্ঞান অর্জনে সফল হওয়া অসম্ভব ।

ইবনে কুদামাহ رضي الله عنهم বলেন : খাওয়ার লোভ সবচেয়ে ক্ষতিকর ও এটাই আদম আলাইহিস সালামকে বেহেশত থেকে বের করে এনেছিল । খাওয়ার লোভ থেকে আসে শারীরিক সম্পর্ক ও সম্পদের প্রতি আকর্ষণ । এসব অনেক সমস্যার দিকে নিয়ে যায় ।
Reply

Muslim Woman
01-29-2016, 03:42 PM
:sl:

উকবাহ আর রাশিবী বলেন : আমি আল হাসানের কাছে গেলাম যখন তিনি খাচ্ছিলেন । তিনি আমাকে তাঁর সাথে খেতে বললে আমি জানাই , আমি ততক্ষণ পর্যন্ত খেয়েছি যখন আর খাওয়া সম্ভব না । শুনে তিনি বলেন , “ সুবহান আল্লাহ । মুসলমানরা কি এতটা খায় যখন সে আর খেতে না পারে ”?

পরিমিত খাওয়া হচ্ছে তাই যখন কিছু ক্ষুধা থাকতে একজন হাত গুটিয়ে নেয় অর্থাৎ খাওয়া শেষ করে ।

এটা দেহকে শক্তিশালী করে ও অসুখকে দূরে রাখে , কেননা এই ব্যক্তি ক্ষুধা না লাগা পর্যন্ত খায় না আর ক্ষুধা থাকতেই খাওয়া শেষ করে । অবশ্য বেশি কম খেলে শরীর দূর্বল হয়ে যেতে পারে ।

কিছু মানুষ এত কম খেতো যে তারা তাদের কর্তব্য পালনের মতো সুস্থ থাকতো না । না জেনে তারা মনে করতো এটা ভাল অভ্যাস কিন্ত্ত আসলে তা না ।

যারা ক্ষুধার্ত থাকতে উৎসাহ দিয়েছেন ও এই অবস্থার প্রশংসা করেছেন তারা পরিমিত খাওয়ার কথা বলেছেন যা উপরে বলা হয়েছে । এসব কিছু করা হয় সাবধানতা থেকে । সাবধানতা হলো আল্লাহর পথে যাত্রাস্থল ।


রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন একজন মানুষের ধর্ম তখন নিখুঁত হয় যখন যে বিষয়ের সাথে তার সম্পর্ক নেই , অন্যের সেসব বিষয়ে সে অহেতুক নিজেকে জড়িত করে না । বিনা দরকারে কোন বিষয়ে কথা বলা , কোন কিছুর দিকে তাকানো , শোনা , ধরা , সেদিকে যাওয়া বা তা নিয়ে চিন্তা – ভাবনা করা , দৈহিক বা মানসিকভাবে সে বিষয়ের সাথে নিজেকে জড়ানো – এসব কিছু এই হাদীসের আওতায় আসবে ।
Reply

Muslim Woman
01-30-2016, 04:36 PM
:sl:



ইবরাহীম বিন আদহাম বলেন : সাবধানতা হলো যা সন্দেহজনক তা ত্যাগ করা । যা তোমার সাথে সম্পর্কযুক্ত না এমন কিছু ত্যাগ করা মানে যাতে তোমার দরকার নেই , সেটাও ত্যাগ করা । সাবধানতার সবচেয়ে গূরুত্বপূর্ণ দিক হলো যাতে সন্দেহ আছে তা থেকে দূরে থাকা । যে সন্দেহযুক্ত বিষয়ের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে , সে পাপের সাথেও নিজেকে জড়িয়ে ফেলবে । পাপ হচ্ছে সীমানা যা আল্লাহ স্থাপন করেছেন । যে এই সীমানার কাছে ঘোরাফেরা করবে , সে সেই সীমানা পার হয়ে যাবে ( ইমাম বুখারী , ইমাম মুসলিম ) ।

আল বাগহাওয়ী বলেন : সাবধানতার বিষয়টি যখন আসে ,তখন এই হাদীসটি খুবই গূরুত্বপূর্ণ । এটা শেখায় যে কেউ যদি বুঝতে না পারে কোনকিছু বৈধ না অবৈধ , তবে সাবধানী ব্যক্তি তা থেকে দূরে থাকবে । কেননা সে যদি তা ত্যাগ না করে , সন্দেহযুক্ত বিষয় নিয়ে এগিয়ে যায় ও এটাকে অভ্যাসে বানিয়ে ফেলে , তবে তা তাকে সেখানে নিয়ে যাবে যা হারাম ।

বেশি সন্দেহপূর্ণ বিষয়কে দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায় । প্রথম শ্রেণী হলো সেটা যা হালাল না হারাম তা নিয়ে কোন সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় না । এই না থাকাটাই নিশ্চিত করছে যে একজন এ থেকে দূরে থাকবে ।
দ্বিতীয় শ্রেণী হলো তা যার সূত্র আছে ও স্পষ্ট ভিত্তি আছে বলার জন্য যে এটা হালাল বা হারাম । তাই এ বিষয়ে যা স্পষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত , তা একজন মেনে নেবে । এ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত মতের বাইরে চলে যাওয়া উচিত হবে না ,যদি না তার এ নিয়ে নিশ্চিত কোন জ্ঞান থাকে । যেমন কোন মানুষ যদি সন্দেহ করে যে উযু আছে কি নেই , তবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সে ইবাদত করবে ।

এছাড়াও যদি কেউ মরুভূমিতে এমন পানি পায় যা পাক্ কি না তাতে সে নিশ্চিত নয় , তবে পানির বিষয়ে যে মূল নীতিগুলি আছে সে তাতে দৃঢ় থাকবে ও শয়তানের কূ-মন্ত্রণায় পড়বে না ।
ইবনে হাযার رضي الله عنهم বলেন , কোনটা হালাল তা স্পষ্ট , কোনটা হারাম তা স্পষ্ট ; এটা বোঝায় যে নিয়ম তিন ভাগে বিভক্ত । কেননা , প্রতিটি বিষয়ের জন্য ধর্মগ্রন্থে হয় স্পষ্ট নির্দেশনা আছে সেটার গূরুত্ব বিষয়ে ও তা করতে হবে সে নিয়ে অথবা স্পষ্ট আদেশ আছে যে এটা ক্ষতিকর , এর মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা যাবে না অথবা এই দুই ধরনের কোন বক্তব্য নেই ।

তাই প্রথমটি স্পষ্টতই হালাল ও দ্বিতীয়টি স্পষ্টতই হারাম । তাই রাসূল صلى الله عليه وسلم যখন বলেন , “ কোনটা হালাল তা স্পষ্ট ”, তখন তিনি বুঝিয়েছেন এতে অতিরিক্ত কোন ব্যাখ্যার দরকার নেই ও এটা সবার জানা । তৃতীয় ভাগটি হলো অস্পষ্ট । যারা সতর্ক থাকতে পছন্দ করে তারা এটাকে ভয় পায় কেননা তারা জানে না এটা হালাল না হারাম । এক্ষেত্রে সে এটা এড়িয়ে চলবে । কেননা , যদি এটা হারাম হয় তবে সে নিরাপদ থাকলো । আর যদি হালাল হয় , তবে ভাল নিয়তে এটা না করার জন্য সে পুরস্কার পাবে ।
তাই জ্ঞানের সন্ধানীরা জীবনের সব ক্ষেত্রে সাবধান থাকবে । খাবার , পানীয় , কাপড় ও আবাস যেন হালাল হয় সেদিকে তারা বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবে । সে ও তার পরিবারের সদস্যদের যা যা দরকার হয় , সেসব বিষয়ে এই সাবধান থাকার মত সে প্রয়োগ করবে যেন তার মন আলোকিত হতে পারে । এভাবে সে জ্ঞানের আলো পেতে নিজেকে অভ্যস্থ করবে এবং এ থেকে কল্যাণ পাবে ।
Reply

Muslim Woman
01-31-2016, 08:00 AM
:sl:


হালাল হলেই শিক্ষার্থী কোন কিছুর দিকে আপনাআপনি বেশী ঝুঁকে পড়বে না - যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব ও দরকার না হওয়া পর্যন্ত সে সাবধানতা অবলম্বন করবে । তাই সে হালাল জিনিষও বেশি বেশি উপভোগ করবে না বরং সে উচ্চতর স্তরের খোঁজ করবে ও অতীতের সঠিক পথের জ্ঞানীদের অনুসরণ করবে । তারা যা হালাল ছিল সে বিষয়েও সাবধানতা অবলম্বন করতেন ।

ছাত্ররা যাকে সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করার চেষ্টা করবে তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم । রাসূল صلى الله عليه وسلم রাস্তায় পড়ে থাকা কোন একটি খেজুরও খেতেন না এই ভয়ে যে যদি এটা দানের হয়ে থাকে ; যদিও এমনটি না হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক ।

জ্ঞানের সন্ধানকারীরা অবশ্যই এসব অনুসরণ করবে ; তারা যদি সাবধানতা অবলম্বন না করে তবে কারা তা করবে ? আনাস رضي الله عنهم বলেন : রাসূল صلى الله عليه وسلم রাস্তায় একটি খেজুর দেখতে পান যা গাছ থেকে পড়েছিল । তিনি বলেন : এটা হয়তো দানের হতে পারে । তা না হলে আমি এটা খেতাম ( বুখারী , মুসলিম ) ।

আবু হুরায়রা رضي الله عنهم বলেন : রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , আমি আমার পরিবারের কাছে গেলাম ও আমার বিছানায় একটি খেজুর দেখতে পেলাম । আমি সেটা সেটা মুখের কাছে আনলাম খাওয়ার জন্য , তারপর ভয় পেলাম যে এটা দানের হতে পারে । তাই আমি তা নামিয়ে রাখলাম ।

ইবনে হাজার বলেন : এখানে রাসূল صلى الله عليه وسلم নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে তিনি খেজুর বিছানায় পেয়েছিলেন । তারপরেও তিনি সাবধানতা হিসাবে সেটা খান নি । আন নাওয়ায়ী বলেন , এই হাদীস সাবধানতার একটি উদাহরণ । খেজুরটি খাওয়া হারাম ছিল না এই সন্দেহ করে যে এটি দানের হতে পারে ; বরং এটি সাবধানতা থেকে করা হয়েছে ( মুসলিম) ।
Reply

Muslim Woman
01-31-2016, 04:19 PM
:sl:


আল্লাহর যিকির

সবচেয়ে গূরুত্বপূর্ণ যে বিষয়ে ছাত্ররা বিশেষভাবে সাবধান থাকবে তা হলো , সব পরিস্থিতিতে আল্লাহকে স্মরণ করা বা যিকির করা ।
একজন যা চায় তা পাওয়ার সেরা উপায় হলো আল্লাহর যিকির । যে এই পথ থেকে ফিরে যায় , সে অবশ্যই সব কল্যাণ থেকে দূরে থাকলো ও সঠিক পথ থেকে সরে গেল ।


যে এই পথে পরিচালিত হলো সে সত্যিই হেদায়েতপ্রাপ্ত ও সেরা নেতা এবং পথপ্রদর্শক দিয়ে পরিচালিত । ইবনে আল কাইয়্যিম বলেন : আল্লাহর দিকে ছুটে যাওয়া , তাঁর উপর নির্ভর করা , তাঁর প্রতি সন্ত্তষ্ট থাকা , আল্লাহর জন্য ভালবাসায় মন পূর্ণ করা , সবসময় যিকির করা , আল্লাহকে জানার আনন্দ - এ সব কিছুর পুরস্কার সাথেসাথে পাওয়া যায় । এ হলো দুনিয়ার বেহেশত ও এমন একটি জীবন যার সাথে রাজা - বাদশাহর জীবনও তুলনা করা যায় না ।


আমি শুনেছি শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ র: বলেন : অবশ্যই এই দুনিয়ায় একটি বেহেশত আছে । যে এখানে ঢুকবে না , সে পরকালের বেহেশতও ঢুকতে পারবে না । একবার তিনি আমাকে বলেন : শত্রুরা আমার কী করবে ? আমার বেহেশত ও বাগান আমার বুকের ভিতরে । আমি যেখানেই যাই না কেন , এই দুইটি আমার সাথে থাকে । বন্দী জীবন হলো আল্লাহর সাথে আমার একান্ত সান্নিধ্য , আমার নিহত হওয়া হলো শহীদের মৃত্যু ও দেশ থেকে নির্বাসন হলো আমার সফর ।

আল্লাহ জানেন , আমি শেখ ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ র: এর মতো এমন পবিত্র জীবনের অধিকারী আর কাউকে পাই নি যদিও তিনি কঠিন সব বিপদ , অত্যন্ত দু:খ - কষ্টের মধ্যে বন্দী ও খুন হওয়ার আশংকার মধ্যে ছিলেন । এত সব কিছুর মধ্যে তিনি পাক – পবিত্র জীবনযাপন করতেন ; দৃঢ় ও উদার মনের ছিলেন ; আধ্যাত্মিকভাবে সুখী আত্মা ও আলোকিত চেহারার অধিকারী ছিলেন । যখন আমরা ভয় পেতাম , মনে খারাপ চিন্তা আসতো , মনে হতো দুনিয়া শ্বাসরোধ করে দিচ্ছে আমাদের - তখন আমরা তাঁর কাছে ছুটে যেতাম । শুধু তাঁকে দেখে ও তাঁর কথা শুনেই ভয় , দু:চিন্তা দূর হয়ে আমরা আশ্বস্ত হতাম ।

সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর সাথে সাক্ষাতের আগেই বান্দাদের জন্য এই দুনিয়ায় বেহেশত দেখার অনুমতি দিয়েছেন ও সেই বেহেশতের দরজা খুলে দিয়েছেন ; এর স্বাদ ও আনন্দের ভাগ দিয়েছেন যার জন্য দাস তার শক্তি , সামর্থ্য উৎসর্গ করেছিল । কিছু জ্ঞানী মানুষ বলেন যদি রাজারা ও তাদের ছেলেরা জানতো আমরা কী অভিজ্ঞতা লাভ করছি , তাহলে তা পাওয়ার জন্য তরবারী নিয়ে আমাদের সাথে লড়াই করতো । আরেকজন বলেন : সেই মানুষ বঞ্চিত , যারা এই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল সবচেয়ে উপভোগ্য জিনিষটির স্বাদ না পেয়ে । তাকে প্রশ্ন করা হলো সেটা কী ? তিনি বললেন , আল্লাহর ভালবাসা , তাঁকে জানা ও তাঁকে মনে করা । ভালবাসা , জ্ঞান ও সবসময় যিকির করা ; তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়া , তাঁর স্মরণে শান্তি লাভ , ভালবাসা , ভয় , আশা , নির্ভরতা ও মনোযোগ – সবই আল্লাহর জন্য ; এই দুনিয়ার বেহেশত ও তার আনন্দের সাথে এখানকার অন্য আনন্দের তুলনা হয় না । যারা আল্লাহকে ভালবাসে , তাদের জন্য এটা চোখের শান্তি এবং যারা তাকে জানে তাদের জন্য এটাই সত্যিকারের জীবন ।
Reply

Muslim Woman
02-01-2016, 06:10 AM
:sl:




ইবনে আল কাইয়্যিম বলেন : আমি শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহর সাথে একদিন ছিলাম যখন তিনি ফজরের সালাত পড়ছিলেন । এরপর তিনি যিকির করতে থাকেন দুপুরের আগে পর্যন্ত । আমার দিকে ফিরে তিনি বললেন , এটাই আমার খাবার । যদি আমি এটা না পাই , তবে আমি মুক্তি পাবো না । একবার তিনি আমাকে বলেছিলেন : আমি যিকির থেকে কখনোই বিরত হই না । ব্যতিক্রম হলো , এই ইচ্ছা নিয়ে আমি মাঝেমাঝে বিশ্রাম নেই যাতে শক্তি সঞ্চয় করে আরো বেশি যিকির করতে পারি ।

তামা , রূপা ইত্যাদিতে যেমন মরিচা পড়ে , তেমনি মনেও মরিচা ধরে । একে উজ্জ্বল করতে হয় যিকির দিয়ে । মনকে চকচকে আয়নার মতো পরিষ্কার করে যিকির । মনকে যদি খালি রাখো , এটায় আবারো মরিচা ধরবে । যদি আল্লাহকে স্মরণ করো , এটা আবারো চকচকে হবে । মনে মরিচা পড়ে দুইটি কারণে : তা হলো অসাবধানতা ও পাপ । তওবা ও যিকিরে এই মরিচা দূর হয় । তাই যে বেশি অসাবধান , তার মনে বেশি মরিচা ধরে । যার মনে মরিচা ধরে , সে আর কোনকিছুর আসল চেহারা দেখতে পায় না । তাই সে মিথ্যাকে সত্য দেখবে আর সত্যকে মিথ্যা জানবে । তাই যদি মরিচা বাড়ে আর মনকে অন্ধকার করে ফেলে , তাহলে তার বোঝার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে । সে আর সত্যকে সত্য বলে মানতে পারবে না ; মিথ্যাকে মিথ্যা বলে অস্বীকার করবে না । এটা হচ্ছে মনের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি । এ সবকিছু আসে অসাবধানতা থেকে ও নফসের ইচ্ছামতো চললে অর্থাৎ মনের ইচ্ছার বশ হলে । তখন মনের আলো নিভে যায় ও মন অন্ধ হয় ।

‘ তুমি তার আনুগত্য করবে না যার মনকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করে দিয়েছি , যে তার খেয়াল – খুশির অনুসরণ করে ও যার কাজ সীমা লংঘন করে ’ ( সুরা কাহফ ; ১৮ : ২৮) ।

তাই আল্লাহর কোন দাস যদি কাউকে অনুসরণ করতে চায় , তাহলে সে দেখবে – এ কি তাদের মধ্যে যারা আল্লাহকে স্মরণ করে , না কি এ অসাবধানীদের দলে ? এ কি নিজের খেয়ালখুশিতে চলে না ওহী মেনে চলে ? তাই সে যদি নিজের নফসকে গুরুত্ব দেয় ও অসাবধানীদের দলের হয় , তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্ত । তার সব কাজ , সাফল্য নষ্ট হয়ে যাবে । এগুলি অপচয় কেননা এসব তার কোন কাজে আসবে না । এ হচ্ছে সত্যের বিপরীত । এমন লোকদের মেনে চলতে আল্লাহ মানা করেছেন । তাই একজন তার শিক্ষক ও নেতার আদর্শ কী তা খেয়াল করবে । যদি এসব দোষ তাদের থাকে , তবে সে তাদেরকে এড়িয়ে চলবে । যদি সে এমন কাউকে পায় যে সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করে , সুন্নাহ মেনে চলে ও যার আমল নষ্ট হয় নি , সে তার সাথে ঘনিষ্ঠ হবে । জীবিত ও মৃত মানুষের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো আল্লাহর স্মরণ । যে তার রবকে স্মরণ করে ও যে তা করে না , তারা হলো জীবিত ও মৃত মানুষের মতো ।
Reply

Muslim Woman
02-01-2016, 03:49 PM
:sl:



শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ র: বলেন : অনেক সময় আমি একটি আয়াতের বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাই । তখন আমি আল্লাহকে বলি , আমি যেন আয়াতের সঠিক মানে বুঝতে পারি । আমি এভাবে বলি : হে আদম আলাইহিস সালাম ও ইবরাহিম আলাইহিস সালামের শিক্ষক , আমাকে শেখান । আমি কোন পরিত্যক্ত মসজিদে যাই , সিজদা করি ও আল্লাহকে বলি : হে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের শিক্ষক , আমাকে শেখান ।

রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন , যে তার প্রভুকে স্মরণ করে ও যে তা করে না ,তারা হলো জীবিত ও মৃত মানুষের মতো ( বর্ণনায় আবু মুসা আল আশারী رضي الله عنهم ; বুখারী হাদীস ) ।

ইমাম মুসলিম র: বলেন , যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় ও যে ঘরে তা করা হয় না , সে দুইটি হলো জীবিত ও মৃত মানুষের ঘরের মতো ।
আশ সাওকানি র: বলেন , আল্লাহর যিকিরের চমৎকার সৌন্দর্য ও পবিত্র মাহাত্ম্য এই রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে । এটা দেখায় , আল্লাহকে যে ভুলে থাকে , যদিও সে আক্ষরিক অর্থে জীবিত , আসলে সে বেঁচে নেই । বরং সে মরা মানুষের মতো । জীবিত মানুষ যেভাবে আল্লাহর আদেশ মেনে চলে , মৃত মানুষ তা করতে পারে না ।

এই হাদীসে যা আছে তা কুরআনের আয়াতেও বলা হয়েছে : যে মৃত ছিল , যাকে আমি পরে জীবিত করেছি ......( সুরা আল আনাম ; ৬ : ১২২ ) । এর মানে অবিশ্বাসীরা মরা মানুষের মতো আর ইসলামের পথে পরিচালিত হওয়া মানে জীবন ।

আল- বুখারী তার বইতে একটি অধ্যায় লিখেছেন এই শিরোনামে : আল্লাহর যিকিরের মাহাত্ম্য । এই অধ্যায়ে তিনি উপরে আবু মুসা ও আবু হুরায়রার উল্লেখ করা হাদীসের কথা লিখেছেন । এতে বলা আছে , রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন : আল্লাহর কিছু ফিরিশতা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় তাদের খোঁজে , যারা আল্লাহর যিকির করে । যদি তারা এমন কাউকে পায় , তারা তখন অন্য ফিরিশতাদের ডাক দিয়ে বলে - আসো , তুমি যাদেরকে খুঁজে বেড়াচ্ছো তাদেরকে দেখে যাও । তখন আকাশ পর্যন্ত ডানা মেলে দিয়ে ফিরিশতারা যিকিরকারীকে ঘিরে ধরে ।

তাদের রব প্রশ্ন করেন যদিও তিনি তাদের থেকে বেশি জানেন - আমার বান্দারা কী বলছে ?
ফিরিশতারা জবাব দেয় : তারা বলে সুবহান আল্লাহ , আল্লাহু আকবর ও আলহামদুলিল্লাহ । আল্লাহ তখন বলেন : ওরা কি আমাকে দেখেছে ? ফিরিশতারা বলে : না , আপনার শপথ , তারা আপনাকে দেখে নি । আল্লাহ বলেন : যদি তারা আমাকে দেখতো তাহলে তারা কী করতো ?

ফিরিশতারা জবাব দেয় : যদি তারা আপনাকে দেখতো , তাহলে তারা আরো আন্তরিকভাবে আপনার ইবাদত করতো , আরো বেশি করে আপনার প্রশংসা করতো এবং সৃষ্ট কোন কিছুর মতো হওয়া থেকে আপনার মুক্ত থাকার বিষয়টি আরো বেশি বেশি করে ঘোষণা করতো । আল্লাহ বলবেন : তারা আমার কাছে কী চায় ? ফিরিশতাদের জবাব : তারা বেহেশত চায় । আল্লাহ বলেন : তারা কি সেটা দেখেছে ? ফিরিশতারা বলে , না , ও প্রভু , আপনার শপথ । তারা বেহেশত দেখে নি ।

আল্লাহ বলেন : যদি তারা এটা দেখতো তাহলে তারা কী করতো ? ফিরিশতারা বলে : যদি তারা তা দেখতো , তাহলে আরো বেশি করে তারা এটা চাইতো , বেহেশত পাওয়ার আগ্রহ অনেক বেশি হতো । আল্লাহ বলেন : তারা কী থেকে আশ্রয় চায় ? ফিরিশতারা বলে : তারা দোজখের আগুন থেকে আপনার আশ্রয় চায় । আল্লাহ বলেন , তারা কী এটা দেখেছে ? ফিরিশতারা বলে , না , ও আল্লাহ । তারা এটা দেখে নি । আল্লাহ বলেন : যদি তারা এটা দেখতো তাহলে কী হতো ? ফিরিশতারা বলে : যদি তারা তা দেখতো , তাহলে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে যেত আর এ আগুনকে খুবই ভয় পেত ।


তখন আল্লাহ বলবেন , আমি তোমাদেরকে সাক্ষী করলাম যে এদেরকে মাফ করা হলো । একজন ফিরিশতা তখন বলবে : সেখানে এমন একজন লোক ছিল যে এদের মতো ছিল না । বরং সে তার কোন এক দরকারে সেখানে গিয়েছিল । আল্লাহ বলবেন : এরা এমন মানুষ যাদের সাথীরা দু:খিত হবে না ( সহীহ বুখারী ) ।

Reply

Muslim Woman
02-02-2016, 05:57 AM
:sl:



আল হাফিয ইবনে হাযার رضي الله عنهم বলেন : আল্লাহকে স্মরণ করার মানে হলো যে সব শব্দ বলতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে তা বলা ও এই যিকির সবসময় করা। যেমন , এগুলি বলা :

সুবহান আল্লাহ ( সব মহিমা আল্লাহর ) ;
আলহামদুলিল্লাহ ( সব প্রশংসা আল্লাহর ) ;
লা ইলাহা ইল্লাললাহ ( নেই কোন রব আল্লাহ ছাড়া ) ;
আল্লাহু আকবর ( আল্লাহ শ্রেষ্ঠ ) ,
লা হাওলা ওয়ালা কুয়াআতা ইল্লা বিল্লাহ ( আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা নেই ) ,
বিসমিল্লাহ ( আল্লাহর নামে শুরু ) ,
হাসবুনা আল্লাহ ওয়া নিমাআল ওয়াকিল ( আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট ) ও তিনি সেরা মীমাংসাকারী ।


এসবের পাশাপাশি আল্লাহর ক্ষমা চাইতেই হবে ও এই দুনিয়া এবং পরকালের জন্য কল্যাণ চাইতে হবে । আল্লাহ যা করতে আদেশ বা উৎসাহ দিয়েছেন যেমন কুরআন তেলাওয়াত , হাদীস পড়া , জ্ঞান চর্চা , নফল ইবাদত ইত্যাদি আল্লাহকে স্মরণ করার অন্তর্ভুক্ত ।

যিকির অনেক সময় জিহবা দিয়ে শুধু করা হয় - যা বলা হচ্ছে তার মানে না জেনেও আল্লাহর নাম বলার জন্য যিকিরকারী পুরস্কার পাবে । তবে মানে জেনে নিয়ে যিকির করা ও শুধু জিহবা না বরং মন থেকেও সে সব বললে তা বেশি ভাল । আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করা হয় যে সব শব্দ দিয়ে ও আল্লাহর কোন দোষ – ত্রুটি আছে এমন কথা অস্বীকার করা হয় যা দিয়ে - সে সব বুঝে বলা বেশি ভাল । যদি যিকিরকারী সঠিক কোন কাজ যেমন ইবাদত , জিহাদ এসবের মধ্যে যিকির করে , তবে তা যিকিরের মাহাত্ম্য বাড়ায় । যদি যিকিরকারী আল্লাহর দিকে পুরোপুরি চলে যায় ও আন্তরিক থাকে সে যা করছে তাতে , তাহলে সেটা সবচেয়ে ভাল ও প্রায় পরিপূর্ণ একটি কাজ ।

ইমাম মুসলিম র: এর বর্ণিত হাদীস : যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় ও যে ঘরে তা করা হয় না , সে দুটি হলো যেন জীবিত ও মৃত মানুষের ঘর । ইবনে হাজার এ নিয়ে বলেন , এখানে আসলে ঘরে যারা থাকে তাদের কথা বোঝানো হয়েছে , ঘরের কথা বলা হয় নি । কোন ঘর জীবিত না মৃত মানে তার বাসিন্দারা বেঁচে আছে না মারা গিয়েছে । যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে , তার সম্পর্কে রাসুল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , সে এমন একজন , যার বাইরের দিক জীবনের আলো দিয়ে সুন্দর ও ভিতরের দিক সুন্দর জ্ঞানের আলো দিয়ে - এ বেঁচে আছে ।

যে আল্লাহর যিকির করে না , সে সবদিক থেকে ধ্বংস হয়েছে । আরো বলা হয়েছে , জীবিত ও মৃত মানুষের মতো মানে হলো যে বেঁচে আছে সে বন্ধুদের ক্ষতি করতে পারে যা মৃত মানুষ পারে না । যারা যিকিরকে দৃঢ়ভাবে ধরেছে , তারা জ্ঞানী । তারা এমন যেন খাড়া পাহাড়ের পাশ দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যায় ও যেখানে যেতে চায় সেদিকে সঠিকভাবে পরিচালিত হয় ।

যিকির ছাড়া চলার চেষ্টা করলে তাদের পা ধীরগতির হয়ে যাবে , মনে মরিচা ধরবে ও তারা পথ হারিয়ে ফেলবে - যেমনটি বলা হয় - যদি আমরা অসুস্থ হই , যিকির দিয়ে নিজেদের চিকিৎসা করি । যদি এক মুহূর্তের জন্যও যিকির থেকে বিরত হই , তাহলে আমরা হতাশায় ভুগি ।
Reply

Muslim Woman
02-02-2016, 04:33 PM
:sl:


৫. খাওয়া, ঘুম ও কথা - যত কম তত ভাল

আমরা আগে এ নিয়ে আলোচনা করেছি যে ছাত্ররা অবশ্যই কম খাবে ও যা হালাল তা খাবে। পেটের লোভ থেকে মুক্তি পাবার উপায় হলো অল্পতে খুশি থাকা।

একজন ধীরে ধীরে তার খাওয়া কমাবে যেন পরিমিত পর্যায়ে সে আসতে পারবে - মধ্যম পন্থাই সেরা। সে এই পরিমাণ খাবে যেন শক্তি বজায় থাকে ও ইবাদত ঠিকমতো করতে পারে। সে অনাহারেও থাকবে না আবার ভরপেটও খাবে না। তখন সে সুস্থ থাকবে, তার আকাংখা উঁচু স্তরে যাবে ও বিবেক পরিষ্কার থাকবে। সে যদি পরিমিত মাত্রার চেয়ে বেশি খায়, তাহলে সে বেশি ঘুমাবে ও তার বুদ্ধিমত্তা নীচু স্তরে থাকবে।

খাওয়া হালাল হওয়াটা সব মুসলমানের জন্য দরকার, বিশেষ করে যারা জ্ঞানের সন্ধানে আছে তাদের জন্য আরো বেশি দরকার। কেননা, এরা হলো হালাল , হারামের জ্ঞানের সুরক্ষিত স্থান। আমরা আগেই বলেছি খাওয়া ও পানীয়ের বিষয়ে কিভাবে সাবধান হওয়া উচিত।
রাসূল صلى الله عليه وسلم কিভাবে একটি খেজুর খেতে গিয়েও খান নি এই ভেবে যে, হয়তো সেটি দানের আর দান গ্রহণ নবী صلى الله عليه وسلم এর জন্য বৈধ ছিল না।

খাওয়া নিয়ে বেশি চিন্তা করার সময় নেই যে ছাত্রের, সে মোটা হবে না। বরং জ্ঞানের প্রতি অনুরাগে সে খাওয়ার কথা ভুলে থাকবে।

শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কখনো খাবার চাইতেন না। তিনি জ্ঞান চর্চায় এতটাই মগ্ন থাকতেন যে খাবার দেয়া হলে অনেক সময় তা পড়ে থাকতো। মাঝেমাঝে তিনি সেখান থেকে অল্প কিছু নিয়ে খেতেন। তিনি কখনো এই দুনিয়ার ভোগবিলাস , আনন্দ নিয়ে কিছু বলতেন না বা এসব কিছু চাইতেন না। বরং তার সব ভাবনা ও কথাবার্তা ছিল পরকালকে নিয়ে এবং কিভাবে আল্লাহর আরো ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে যাওয়া যায় সেটা নিয়ে।

আন নুমান বিন বাসির বলেন, উমর বিন আল খাত্তাব رضي الله عنهم বলেছিলেন কিভাবে মানুষ অভাবের সাথে লড়াই করতো। রাসূল صلى الله عليه وسلم একবার সারাদিন অনাহারে কষ্ট পান - নীচু মানের কোন খেজুরও তিনি সেদিন খেতে পারেন নি ( সহীহ মুসলিম )।

Reply

Muslim Woman
02-03-2016, 07:12 AM
:sl:



আবু হুরায়রা رضي الله عنهم একবার একদল মানুষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা ভেড়ার ভাজা মাংস খাচ্ছিলো। তারা তাকে দাওয়াত দিলে আবু হুরায়রা রাজী হলেন না। তিনি বললেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم এই দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছেন পেট ভরে এমন কি রুটি না খেয়েই ( সহীহ বুখারী )।

আনাস বিন মালিক رضي الله عنهم বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم কখনো টেবিলে বসে বা একাকী প্লেটে কিছু খান নি। তিনি আমৃত্যু পাতলা, ভালভাবে সেঁকা রুটি কখনো খান নি ( সহীহ বুখারী )।

Reply

Muslim Woman
02-03-2016, 07:13 AM
:sl:



ঘুম

ছাত্ররা ঘুমের সময় কমাবে এতদূর পর্যন্ত যেন শরীর মনের ক্ষতি না হয়। আট ঘন্টার বেশি তার ঘুমানো উচিত না। সারাদিনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় এটি -- যদি সম্ভব হয় সে আরো কম ঘুমাবে।

আস যারলুমি র: বলেন: আল হাসান বিন যিয়াদ আশি বছর বয়সে পড়াশোনা শুরু করেন। এর পরের চল্লিশ বছর তিনি সারা রাত বিছানায় ঘুমান নি। মুহাম্মদ বিন আল হাসান আশ সায়বানী (রহঃ) রাতে একদমই ঘুমাতেন না। তিনি নিজের সামনে অনেক বই রাখতেন। যদি কোন বই পড়তে পড়তে বিরক্তি বোধ করতেন, তাহলে অন্য বই নিয়ে পড়তে শুরু করতেন। তিনি সামনে পানি রাখতেন ঘুম তাড়ানোর জন্য, বলতেন: ঘুম আসে গরম থেকে আর একজন শীতল পানি দিয়ে ঘুম তাড়াবে।

আবু হুরায়রা رضي الله عنهم বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যখন কেউ ঘুমাতে যায়, তখন শয়তান তার ঘাড়ে তিনটি বাঁধন দেয় এই বলতে বলতে যে -তোমার সামনে অনেক লম্বা রাত রয়েছে, তাই ঘুমাতে থাকো। কেউ যখন জেগে উঠে আল্লাহর নাম নেয়, তখন একটি বাঁধন ঢিলা হয়। সে যদি উযু করে, তখন দুইটি বাঁধন ঢিলা হয়। সে যদি সালাত আদায় করে তাহলে সব বাঁধন ঢিলা হয়ে যায় ও সকালে সে ভাল মেজাজে থাকে ও কাজ করতে পারে। তা না হলে সে খারাপ মেজাজে থাকে ও সকালে অলসতা বোধ করবে ( বুখারী ও মুসলিম )।
Reply

Muslim Woman
02-03-2016, 04:31 PM
:sl:



আবদুল্লাহ বিন মাসউদ رضي الله عنهم বলেন, এক লোকের কথা বলা হয়েছিল যে সকাল হওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়েছিল। রাসূল صلى الله عليه وسلم এ নিয়ে বলেছেন, এমন মানুষের কানে শয়তান পেশাব করে ( বুখারী ও মুসলিম )।

আল্লাহ সঠিক পথের মানুষদের প্রশংসা করেছেন, তারা ভাল কাজ করে বলে উল্লেখ করেছেন - সেটা হলো তারা রাতে কম ঘুমায় । সেদিন নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে প্রস্রবণ বিশিষ্ট জান্নাতে , উপভোগ করবে তা যা তাদের প্রতিপালক তাদেরকে দেবেন ; কারণ পার্থিব জীবনে তারা ছিল সৎ কর্মপরায়ণ , তারা রাতের সামান্য অংশই অতিবাহিত করতো নিদ্রায় , রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং তাদের ধন - সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক ( সূরা যারিয়াত; ৫১: ১৫-১৯ )।
ইবনে কাসির র: বলেন, আল্লাহ যে বলেছেন তাদের রব যে সম্পদ দান করেছেন, তারা তা উপভোগ করবে যেহেতু তারা সঠিক পথের মানুষ ছিল,তারা বেহেশতে রবের দেয়া সব ধরণের আনন্দ, রহমত ভোগ করছে।

আল্লাহর এই কথা – ‘অবশ্যই তারা ছিল ’ বোঝাচ্ছে দুনিয়ার জীবনের কথা। তারা ভাল কাজ করে বলতে বোঝানো হয়েছে যা সূরা হাক্কাতেও বলা হয়েছে পানাহার করো তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে ( ৬৯: ২৪ )। আল্লাহ বলেছেন তারা কী ভাল কাজ করতো , ‘ রাতে তারা কম ঘুমাতো’। ইবনে জারীর আল বাসরী বলেন: তারা ইবাদতের জন্য রাত জাগে ও খুব কমই ঘুমায় । আল হাসান আল বাসরী (রহঃ) বলেন: তারা রাত জেগে ইবাদত করে ও খুব অল্প সময় ঘুমায়। এরপর সামর্থ্য থাকলে তারা ইসতিগফার করে ভোর হওয়া পর্যন্ত।

আশ সাদী رضي الله عنهم বলেন, তারা ভাল কাজ করতো, খুব কম বিশ্রাম নিত ও ঘুমাতো। রাতে বেশিরভাগ সময় তারা রবের প্রতি মনোযোগী থাকে - সেটা হয় সালাত, নয়তো কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, দুআ, আল্লাহর কাছে বিনীত হওয়া ইত্যাদি। শেষ রাতে তারা আল্লাহর কাছে মাফ চায় যেন তারা সকাল না হওয়া পর্যন্ত ইবাদত করে যেতে পারে। এরপর তারা রাতের ইবাদত শেষ করে ইসতিগফার করে ইসতিগফার হলো পাপের জন্য তওবাহ করা।

যিনি জ্ঞানের সন্ধান করছেন , বেশি ঘুম তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য না। তারা এ থেকে যতটুকু সম্ভব দূরে থাকবেন। তারা চিন্তাশীল ও নিবেদিতপ্রাণ হবেন। যত ভাল কাজই তারা করুন না কেন, তাতে তারা সন্ত্তষ্ট হবেন না যতক্ষণ না বেহেশতে যেতে পারছেন।

Reply

Muslim Woman
02-04-2016, 04:34 PM
:sl:





আবদুল্লাহ বিন মাসউদ رضي الله عنهم বলেন, এক লোকের কথা বলা হয়েছিল যে সকাল হওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়েছিল। রাসূল صلى الله عليه وسلم এ নিয়ে বলেছেন, এমন মানুষের কানে শয়তান পেশাব করে ( বুখারী ও মুসলিম )।

আল্লাহ সঠিক পথের মানুষদের প্রশংসা করেছেন, তারা ভাল কাজ করে বলে উল্লেখ করেছেন - সেটা হলো তারা রাতে কম ঘুমায় । সেদিন নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে প্রস্রবণ বিশিষ্ট জান্নাতে , উপভোগ করবে তা যা তাদের প্রতিপালক তাদেরকে দেবেন ; কারণ পার্থিব জীবনে তারা ছিল সৎ কর্মপরায়ণ , তারা রাতের সামান্য অংশই অতিবাহিত করতো নিদ্রায় , রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং তাদের ধন - সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক ( সূরা যারিয়াত; ৫১: ১৫-১৯ )।
ইবনে কাসির র: বলেন, আল্লাহ যে বলেছেন তাদের রব যে সম্পদ দান করেছেন, তারা তা উপভোগ করবে যেহেতু তারা সঠিক পথের মানুষ ছিল,তারা বেহেশতে রবের দেয়া সব ধরণের আনন্দ, রহমত ভোগ করছে।

আল্লাহর এই কথা – ‘অবশ্যই তারা ছিল ’ বোঝাচ্ছে দুনিয়ার জীবনের কথা। তারা ভাল কাজ করে বলতে বোঝানো হয়েছে যা সূরা হাক্কাতেও বলা হয়েছে পানাহার করো তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে ( ৬৯: ২৪ )। আল্লাহ বলেছেন তারা কী ভাল কাজ করতো , ‘ রাতে তারা কম ঘুমাতো’। ইবনে জারীর আল বাসরী বলেন: তারা ইবাদতের জন্য রাত জাগে ও খুব কমই ঘুমায় । আল হাসান আল বাসরী (রহঃ) বলেন: তারা রাত জেগে ইবাদত করে ও খুব অল্প সময় ঘুমায়। এরপর সামর্থ্য থাকলে তারা ইসতিগফার করে ভোর হওয়া পর্যন্ত।

আশ সাদী رضي الله عنهم বলেন, তারা ভাল কাজ করতো, খুব কম বিশ্রাম নিত ও ঘুমাতো। রাতে বেশিরভাগ সময় তারা রবের প্রতি মনোযোগী থাকে - সেটা হয় সালাত, নয়তো কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, দুআ, আল্লাহর কাছে বিনীত হওয়া ইত্যাদি। শেষ রাতে তারা আল্লাহর কাছে মাফ চায় যেন তারা সকাল না হওয়া পর্যন্ত ইবাদত করে যেতে পারে। এরপর তারা রাতের ইবাদত শেষ করে ইসতিগফার করে ইসতিগফার হলো পাপের জন্য তওবাহ করা।

যিনি জ্ঞানের সন্ধান করছেন , বেশি ঘুম তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য না। তারা এ থেকে যতটুকু সম্ভব দূরে থাকবেন। তারা চিন্তাশীল ও নিবেদিতপ্রাণ হবেন। যত ভাল কাজই তারা করুন না কেন, তাতে তারা সন্ত্তষ্ট হবেন না যতক্ষণ না বেহেশতে যেতে পারছেন।


Reply

Muslim Woman
02-06-2016, 08:12 AM
:sl:


রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে।

আন নাওয়ায়ী বলেন, কেউ কিছু বলতে চাইলে সেটাই বলবে যা ভাল, প্রশংসার যোগ্য; ফরয বা যা বলতে সুপারিশ করা হয়েছে।
এমন কিছু সে বলবে না যা বলা নিষেধ, অপছন্দীয় বা বলার অনুমতি আছে - তবে এসবই এক। এসব ক্ষেত্রে যা বলার অনুমতি আছে সেটা বলবে না এই ভয় থেকে যে, তা হয়তো নিষিদ্ধ বা অপছন্দীয় কথাবার্তার দিকে নিয়ে যাবে - এমনটি ঘটে। উপরের হাদীসের আলোকে ইমাম শাফেয়ী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন, তুমি যদি কিছু বলতে চাও, তবে আগে চিন্তা করো। যদি মনে করো এতে কোন ক্ষতি নেই, তাহলে তা বলো। যদি মনে করো এটা বললে ক্ষতি হবে, তাহলে চুপ থাকো।

ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم অল্প কথায় এই হাদীসে অনেক কিছু বুঝিয়েছেন।

কথা হয় ভাল বা খারাপ বা এই দুইয়ের যে কোন একটির দিকে হেলে থাকে। ভাল কথার অন্তর্ভূক্ত হলো যা ফরয বা সুপারিশ মুলক। রাসূল صلى الله عليه وسلم এটা বলতে বা যে কথা এদিকে নিয়ে যাবে তা বলার অনুমতি দিয়েছেন, যদিও এটা অনেক রকমের হয়। খারাপ কথা বা যা খারাপ কথার দিকে নিয়ে যাবে, তা বলতে রাসূল صلى الله عليه وسلم মানা করেছেন। ইবনে আল বার র: বলেন, জ্ঞানীরা যে সব পরীক্ষার মুখোমুখি হন তার একটি হলো, তিনি শোনার চেয়ে কথা বলতে বেশি পছন্দ করেন।

ইয়াযিদ বিন আবু হাবিব বলেন: শোনা হলো নিরাপদ ও তা একজনের জ্ঞান বাড়ায়। যে শুনে সে বক্তার অংশীদার। কথা হলো দ্বিধা ও প্রতারণা, বাহুল্য ও অভাববোধের সমন্বয়। যে কথা বলে সে ফিতনার অপেক্ষায় থাকে; যে শোনে সে ক্ষমার অপেক্ষায় আছে।

আবু আদ যিয়াল বলেন: চুপ করে থাকতে শিখো যেভাবে তুমি কথা বলতে শিখেছো, কেননা যদি কথা তোমাকে পরিচালিত করে, তবে নীরবতা তোমাকে বাঁচাবে। চুপ থাকলে তুমি দুইটি বৈশিষ্ট্য অর্জন করবে: তোমার থেকে যারা বেশি জ্ঞানী তাদের থেকে তুমি জ্ঞান নিতে পারবে; আর তোমার থেকে যে অজ্ঞ, তার অজ্ঞতা তুমি নেবে না।

ভাল কথা বলা সওয়াবের কাজ ও নীরবতা থেকে উত্তম। কেননা, নীরবতা সবচেয়ে ভাল জিনিষ যা দিতে পারে তা হলো নিরাপত্তা আর ভাল কথা বললে তুমি অতিরিক্ত কিছু পাবে। বলা হয় - ভাল কথা যে বলে সে জয়ী হলো; যে চুপ থাকে সে নিরাপদ থাকলো।

জ্ঞান সম্পর্কে কথা বলা সবচেয়ে ভাল কাজগুলির অন্তর্ভুক্ত। এটি যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতের একই স্তরের - যদি তা অজ্ঞতা দূর, আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও যা বলা হয়েছে তার যথার্থ মানে আবিষ্কারের জন্য করা হয়।

সালমান رضي الله عنهم এর কাছে এক লোক এসে বললো: আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, কথা বলবে না। লোকটি বললো: যে মানুষের মধ্যে থাকে, তার জন্য কথা না বলা অসম্ভব।

সালমান رضي الله عنهم জবাব দিলেন, তাহলে তুমি যখন কথা বলবে,তখন যা ঠিক তাই বলবে। তা নইলে চুপ থাকবে। লোকটি বললো, আরো কিছু বলুন। সালমান رضي الله عنهم বললেন, রাগ করবে না। লোকটি জানালো, আপনি আমাকে বলছেন রাগ না করতে কিন্তু আমি মাঝেমাঝে খুব রেগে যাই আর কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারি না।

সালমান رضي الله عنهم বললেন, তাহলে যখন তুমি রাগ করো, কমপক্ষে তোমার জিহবা ও হাতকে সংযত রেখো। লোকটি বললো, আমাকে আরো বলুন। সালমান رضي الله عنهم বললেন, মানুষের সাথে মিশবে না। লোকটি বললো, মানুষের মধ্যে যে বাস করে, সে তাদের সাথে মিশতে বাধ্য।

সালমান رضي الله عنهم জবাব দিলেন, তাহলে তুমি ওদের সাথে মেশার সময় সত্য বলবে ও কথা দিলে কথা রাখবে।


আবু হারান আত তারমী বলেন, এটা বলা হয় যে মানুষ কোথায় তার পা রাখছে, সেটা থেকেও সে বেশি সতর্ক হবে সে কী বলছে তা নিয়ে। এটা এজন্য যে, জিহবা ও অতিরিক্ত কথা বিশ্বাসীদের জন্য বিপদজনক।
জিহবার ফাঁদ অনেক ও এসব হচ্ছে মৃত্যুফাঁদ। এর যে কোন একটি সারাজীবন ধরে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট বিপদজনক।

তবে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে পরীক্ষা করেন অশুভ থেকে কল্যাণকে আলাদা করার জন্য।

Reply

Muslim Woman
02-08-2016, 07:28 AM
:sl:



জিহবার পাপ

ইবনে কুদামাহ র: বলেন , জিহবার পাপ অনেক । এই পাপ মানুষের মন থেকে তার স্বভাবে বিকশিত হয় । এই বিপদ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো চুপ থাকা ।

আবু আদ দারদা رضي الله عنهم বলেন , মুখের চেয়ে তোমার কান বেশি ব্যবহার করো । তোমাকে কান দেয়া হয়েছে দুইটি ও মুখ দেয়া হয়েছে একটি যেন তুমি কথা যা বলো , তার থেকে বেশি শুনো । মাখলাদ বিন আল হুসাইন বলেন , ৫০ বছরে আমি এমন একটা কথাও বলি নি যাতে অনুতাপ করতে হয় ।

জিহবার পাপগুলি হলো -- এমন কিছু নিয়ে কথা বলা যার সাথে ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই ।যে সময়কে মুল্য দেয় , সে এমন কিছুতে তা নষ্ট করবে না , যা তার কোন উপকারে আসবে না । এই উপলব্ধি একজনকে তার জিহবাকে সংযত করতে বাধ্য করে ।
যে এসব অনর্থক কাজে সময় অপচয় করে ও আল্লাহর স্মরণ থেকে নিজেকে দূরে রাখে , তার তুলনা হলো - দামী রত্ন কেনার সামর্থ্য থাকার পরেও কাদামাটি কেনা - এটা জীবনের একটা বড় ক্ষতি ।

লুকমান আ: কে প্রশ্ন করা হয়েছিল , আপনি কিভাবে এত জ্ঞানী হলেন ? তিনি বলেছিলেন , আমার যা দরকার নেই , তা আমি চাই না ; যার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই সে বিষয়ে আমি কথা বলি না । বলা হয় যে লুকমান আ: একবার দাউদ আলাইহিস সালামের কাছে গিয়েছিলেন । তিনি তখন বর্মগুলি গুছিয়ে রাখছিলেন ।

লুকমান আ: অবাক হয়ে তা তাকিয়ে দেখলেন । তার জানতে ইচ্ছা হচ্ছিলো এ নিয়ে কিন্ত্ত তার প্রজ্ঞা তাকে বাধা দিল । দাউদ আলাইহিস সালাম বর্ম পরে বললেন , যুদ্ধের জন্য এটা কেমন চমৎকার ?
লুকমান আ: বললেন , নীরবতা আসে জ্ঞান থেকে আর খুব কম মানুষই এর চর্চা করে ।
Reply

Muslim Woman
02-11-2016, 05:31 AM
:sl:




মিথ্যা বলা

মিথ্যা অনেক রকমের । রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , অবশ্যই বান্দা এমন একটা মাত্র কথা বলতে পারে যা তাকে আগুনের এত নিচে ফেলবে , যেটার গভীরতা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব যত , ততটুকু ( বর্ণনায় ইমাম বুখারী ,ইমাম মুসলিম ; সূত্র আবু হুরায়রা ) ।


এর সাথে তুলনীয় আরেকটি বিষয় হলো : কেউ কারো সাথে তর্ক করতেই থাকে এজন্য যে , অন্যের দোষ সবার সামনে তুলে ধরবে ও সবার মনোযোগ নিজের দিকে আকর্ষণ করবে ।

একজন তার জিহবা দিয়ে যা খারাপ তা করতে মানা করবে ও স্পষ্ট বোঝাবে কোনটা ভাল । তার থেকে এটা যদি গ্রহণ করা না হয় , তবে সে তর্ক এড়িয়ে যাবে । সে এমন করবে যদি তা ধর্ম নিয়ে কিছু হয় । যদি দুনিয়াদারীর কোন বিষয় হয় , তবে তর্কের কোন কারণ থাকতে পারে না । এই বিষয়ে সফল হতে হলে অহংকারবোধ , যে জন্য অন্যের চোখে আমরা ভাল হতে চাই , তা দূর করতে হবে ।
তর্ক করা থেকে খারাপ হলো লড়াই আর ঝগড়া করা । যে বিষয়ে জ্ঞান নেই , তা নিয়ে ঝগড়ার কথা এখানে বোঝানো হচ্ছে । যার যুক্তি দেখানোর যোগ্যতা আছে , সেও এটা এড়িয়ে চলবে ; কেননা এটা মনে ক্ষোভ ও হিংসার জন্ম দেয় , রাগ বাড়ায় । ফলে মানুষ একে অন্যকে অসম্মান করে ।

অতিরিক্ত অলংকারবহুল বাচনভঙ্গী

এটি তখন প্রযোজ্য যখন অতিরিক্ত অলংকারবহুল কথা আন্তরিকতা ছাড়া বলা হয় । মানুষকে ভাল কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কোন খতীব বা অন্য কারো সুন্দর ভঙ্গীর কথা এর অন্তর্গত না । মূল কথা হলো , বক্তব্য যেন সহজ হয় ও মনকে উদ্বুদ্ধ করে ।
Reply

Muslim Woman
02-12-2016, 08:24 AM
:sl:


অশোভন ও মানানসই নয় , এমন কথা বলা

কেউ যখন মানানসই বা যথাযথ না এমন কথা স্পষ্ট ও সরাসরি বলে – যা অনেক সময় গানের মধ্যে করা হয় ।
রসিকতা - যদি সত্য হয় তবে রসিকতা নিষিদ্ধ নয় ; কেননা রাসূল صلى الله عليه وسلم কখনো কখনো কৌতুক করতেন ও সত্য ছাড়া কিছু বলতেন না । ঠাট্টার ছলে বলা সেই কথা সবসময়ই নিচের শর্ত পূরণ করতো : সত্য বলা ; নারী , শিশু ও দুর্বল পুরুষদের সাথে বলেছিলেন , যাদের মানসিক অবস্থার প্রেক্ষিতে একটু হালকা কথা বলা দরকার ছিল - তিনি সবসময় নয় বরং খুব কমই এটা করেছেন ।


কাউকে উপহাস করা ও তার মর্যাদা নষ্ট করা
কারো দোষ প্রকাশ করে তাকে উপহাস করলে তার সম্মান নষ্ট করা হয় । এটা সরাসরি কোন কথা বা কাজ দিয়ে করা হয় অথবা পরোক্ষভাবে তার দোষ তুলে ধরা হয় । এ দুটোই শরীয়াহতে নিষিদ্ধ ।

গোপন কিছু প্রকাশ করা , কথা না রাখা ও মিথ্যা শপথ

এসব কিছু হারাম ব্যতিক্রম হলো স্ত্রীর মন রক্ষায় ও যুদ্ধের সময় মিথ্যা বলা যায় ।

পরনিন্দা
কারো সম্পর্কে তার অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা যা সে শুনলে পছন্দ করতো না । যেমন , তার কোন শারীরিক খুঁতের বর্ণনা দেয়া যে সে বেশি লম্বা , বেঁটে , মোটা , টাক মাথা , তার চোখ ট্যারা বা সে অন্ধ ইত্যাদি । তার পরিবারকে হেয় করে কিছু বলা যেমন তারা তেমন অভিজাত না ইত্যাদি । তার স্বভাব নিয়ে কিছু বলা যেমন সে বদমেজাজী । তার পোশাক নিয়ে কিছু বলা যেমন সে ময়লা বা কম দামী কাপড় পরে বা মাপমতো কাপড় পরে না ইত্যাদি ।

এসবের পক্ষে প্রমাণ হলো : রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কাছে গীবত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল । তিনি বলেন : এটা হলো তুমি তোমার ভাইকে নিয়ে এমন কথা বললে যা সে পছন্দ করে না । তাকে বলা হলো , যদি এমন হয় যা বলেছি সে তাই ?

তখন রাসূল صلى الله عليه وسلم বললেন , তুমি যা বললে সে যদি তাই হয় , তবে তা গীবত । আর যদি সে তা না , তবে তুমি অপবাদকারী ( বর্ণনায় মুসলিম , দাউদ , তিরমিযী ) ।

কারো মর্যাদা নানাভাবে নষ্ট করা যেতে পারে -- কথা দিয়ে , চোখের ইশারায় , আঙুল তুলে দেখানো বা লেখার মধ্য দিয়ে -- কলম হলো তোমার দুইটি জিহবার একটি ।

সবচেয়ে জঘন্য গীবত হলো মিথ্যা ধার্মিকদের গীবত । যখন কারো কথা বলা হয় , তারা বলে : আল্লাহকে ধন্যবাদ যে আমরা তার মতো নির্লজ্জ না বা আল্লাহ আমাদের মাফ করুন । এটা এজন্য যে তারা অন্য মানুষের সম্মান নষ্ট করার পাশাপাশি নিজেদের নিয়ে অহংকার করছে । এদের মধ্যে কেউ এমনো দুআ করে : আহা , এই বেচারা অনেক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে । আল্লাহ তাকে ও আমাদেরকে মাফ করুন । এভাবে সে মনের আসল ভাব লুকিয়ে রাখে ।

জেনে রাখো , যে গীবত শুনে সেও গীবতকারীর সাথী হলো । যদি সে গীবতের বিরুদ্ধে কিছু না বলে তবে সে এই পাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারলো না । যদি সে গীবতকারীর সামনে প্রতিবাদ করতে ভয় পায় , তবে কমপক্ষে সে মন থেকে গীবতকে ঘৃণা করবে । সম্ভব হলে সে ঐ জায়গা থেকে চলে যাবে বা আলোচনার বিষয় বদলে ফেলবে ।
Reply

Muslim Woman
02-14-2016, 06:06 AM
:sl:


কারো গোপন কথার প্রচার


রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , মানুষের গোপন কথা যে ফাঁস করে , সে বেহেশতে যাবে না ( বর্ণনায় হুযায়ফা ) । এতে একের বেশি মানুষ জড়িত হয়ে পড়ে ।

কেননা তুমি কাউকে বললে ,অমুক তোমাকে নিয়ে এই কথা বলেছে - তখন এটা শুধু এর মধ্যে সীমিত থাকে না । বরং এটা এমন বিষয় ফাঁস করে , যা হওয়া উচিত ছিল না । এটা হতে পারে কথা বা কোন কাজ । এমন কী , তুমি যদি দেখো কেউ তার নিজের টাকা গর্তে ঢুকিয়ে রাখছে আর তুমি সেটা অন্যকে বলো , সেটা হবে কথা লাগানো । এ ধরণের কথা যে শুনবে - অমুক তোমার সম্পর্কে এই কথা বলেছে বা তোমার বিরুদ্ধে এই করেছে , তার উচিত হবে নিচের ছয়টি কাজ করা ।


১. যা শুনবে তা বিশ্বাস না করা । কেননা , যে কথা লাগায় সে পাপী ও তার কথা অস্বীকার করতে হবে ।

২. সে তাকে উপদেশ দিবে ও এই কাজ করতে মানা করবে ।

৩. সে আল্লাহর জন্য এই পাপীকে ঘৃণা করবে ; কেননা আল্লাহ তাকে ঘৃণা করেন ।

৪. একজন তার অনুপস্থিত ভাই সম্পর্কে খারাপ কোন ধারণা করবে না ।

৫. সে গোয়েন্দাগিরি করবে না ।
৬. অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না ; কেননা আল্লাহ বলেন : তোমরা একে অপরের গোপনীয় তথ্য খুঁজবে না ( সুরা হুজুরাত , ৪৯ : ১২ ) ।

সে অন্যকে যা করতে মানা করেছে , সেটা সে নিজেও করবে না ; এর মানে সে যা শুনেছে তা অন্য কাউকে বলে বেড়াবে না ।
Reply

Muslim Woman
02-15-2016, 02:54 PM
:sl:




দুইটি জিহবা থাকা
এটি ঘটে তখনই , যখন দু’জন শত্রুর মধ্যে একের কথা কেউ অন্যজনকে লাগায় । তাদের কারো কাছে গিয়ে সেটাই বলে, যা সে শুনতে চায় অথবা যাকে সাহায্য করবে বলে কথা দেয় বা সামনাসামনি তার প্রশংসা করে , কিন্ত্ত অন্য পক্ষের সামনে তার সম্মান নষ্ট করে কথা বলে ।
রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন , সবচেয়ে খারাপ লোক হলো দুই মুখের লোকেরা যারা কারো কাছে একরকম চেহারা নিয়ে যায় ,আবার অন্যের কাছে অন্যভাবে যায় ( বর্ণনায় আবু হুরায়রা ; বুখারী ও মুসলিম শরীফ , দাউদ ) ।

মানুষের প্রশংসা করা
যে প্রশংসা করে ও যার প্রশংসা করা হয় , তাদের দুজনেরই ক্ষতি হয় । যে প্রশংসা করে তার পাপ হলো , সে যা বলে তা সত্য নাও হতে পারে ও তা নিশ্চিত করা যায় না । যেমন , সে বললো অমুক দুনিয়াদারির ভোগ – বিলাস থেকে দূরে থাকে । প্রশংসা করতে গিয়ে মাত্রা ছাড়িয়ে সে এমন কথা বলতে পারে, যা মিথ্যার পর্যায়ে চলে যায় । সে যার সম্পর্কে বলছে সে হয়তো তিরস্কারের যোগ্য । যার প্রশংসা করা হয় , সে অহংকারী বা উদ্ধত হয়ে উঠতে পারে । এ দুটিই খুব ক্ষতিকর ।



ধর্ম
এটা হয় কেউ যদি ধর্ম বিশেষ করে মহান আল্লাহ সম্পর্কে মারাত্মক কোন ভুল করে ফেলে ।
তাই ছাত্ররা জিহবা সংযত করবে , সময় বাঁচাবে , সত্য নিয়ে ব্যস্ত থাকবে , সামান্য বিষয়ে সময় নষ্ট করবে না , গঠণমূলক কিছু না করে জীবনটা অনর্থক পার করবে না। সেই সঠিক পথে পরিচালিত হয় যাকে আল্লাহ পথ দেখান ।
Reply

Muslim Woman
02-16-2016, 03:44 PM
:sl:


৬. সঠিক বন্ধু বেছে নেয়া ও সামাজিকতা কমানো


মানুষের সাথে মেলামেশা ও নির্জনতায় থাকা নিয়ে সবসময় মতভেদ দেখা দিয়েছে । কারো মত হচ্ছে মানুষের সাথে সবসময় মেলামেশা করা উচিত ; কারো মত হলো মানুষের ভীড় থেকে সবসময় নিজেকে সরিয়ে রাখতে হবে - যে যার মত নিয়ে খুশি ।


শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ র: এই বিতর্ক সম্পর্কে বলেন : মানুষের সাথে মেলামেশা কখনো বাধ্যতামূলক , কখনো তা করতে সুপারিশ করা হয়েছে । একজন কখনো কখনো অন্য মানুষের সাথে মিশতে বাধ্য , অন্য সময়ে সে তাদের থেকে দূরে থাকতেও পারবে ।

ভাল কাজে ও ধর্মীয় ব্যপারে মানুষকে ভাল কাজে উৎসাহ দেয়ার জন্য তাদের সাথে মিশতে হয় । আবার কোন খারাপ কাজে সাহায্য করার জন্য তাদের সাথে মেলামেশা করা যাবে না ।

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত , ঈদ ও জুমআহ সালাত , চন্দ্রগ্রহণ , সূর্যগ্রহণের সময়কার সালাত , ইসতিসকার সালাত ( বৃষ্টির জন্য দুআ ) ইত্যাদি ইবাদত যা সবাই মিলে করে , সেগুলিতে অংশ নিতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم আদেশ দিয়েছেন ।


একইভাবে হজ্জের সময় মানুষের সাথে মেলামেশা , অবিশ্বাসীদের সাথে যেমন খাওয়ারিয ও বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধের সময় অংশগ্রহণ যদিও নেতা ও তার অনুসারীরা দূর্নীতিগ্রস্থ হয় । এ ধরণের আরো সমাবেশে অংশ নেয়া যাতে একজন বিশ্বাসী তার ঈমান দৃঢ় করতে পারে - হয় সে নিজে থেকে কল্যাণ লাভ করবে বা সে অন্যের উপকার করবে ।
একজন মানুষের কাছে নিজের জন্য এই সময় থাকবে, যাতে সে দুআ , যিকির , নিজের আমল নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও মনকে শুদ্ধ করতে পারে । এসব ব্যপারে অন্য কেউ তার সাথে অংশ নেবে না ।


এগুলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাসায় বা অন্য কোথাও করতে হবে যেমনটি তাউস বলেন : বাসায় আশ্রয় নেয়া কত না চমৎকার । এখানে থাকলে একজন তার দৃষ্টি ও জিহবাকে সংযত রাখতে পারে ।
Reply

Muslim Woman
02-24-2016, 03:00 PM
:sl:



মানুষের সাথে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মেলামেশা বা তাদের থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া - এর কোনটাই ঠিক না । কতটুক মেলামেশা বা বিচ্ছিন্নতা একজনের জন্য দরকার ও তার জন্য ভাল , সেটা ঠিক করতে আরো অনেককিছু জানতে – বুঝতে হবে ।


উত্তম হলো অনেকরকম ইবাদতের মধ্য থেকে একজন গুরুত্ব অনুসারে তা বেছে নেবে। যেমন , কুরআন তেলাওয়াত থেকে সালাত উত্তম , যিকির থেকে কুরআন তেলাওয়াত উত্তম , দুআ থেকে যিকির ভাল । কখনো সময় বুঝে ইবাদত করা বেছে নিতে হয় যেমন ফজর ও আসরের সালাতের পরে কোন নফল সালাত আদায় না করে কুরআন তেলাওয়াত , যিকির ও দুআ পছন্দনীয় ইবাদত ।


অনেক সময় শারীরিক অবস্থান বিবেচনা করে ইবাদত বেছে নিতে হয় । রুকু ও সিজদাতে কুরআন তেলাওয়াত না করে যিকির ও দুআ করা বৈধ । তাওয়াফ করার সময় কুরআন তেলাওয়াত করা ঠিক কি না , সেটা নিয়ে মতভেদ আছে । স্থান বুঝে ইবাদত করতে হয় যেমন আরাফাত , মুজদালিফা , জামারাত , সাফা ও মারওয়ায় সালাত থেকে যিকির ও দুআ করা পছন্দীয় কাজ । মুসাফিরের জন্য কাবা ঘরে এসে সালাত থেকে তাওয়াফ করা উত্তম ; স্থানীয় বাসিন্দা যারা তাদের জন্য সালাতই উত্তম ।


ব্যক্তি ভেদে ইবাদত আলাদা হয় । যেমন পুরুষদের জন্য হজ্জ থেকে জিহাদ শ্রেষ্ঠ । নারীদের জন্য হজ্জই হলো জিহাদ । বিবাহিতা নারীর জন্য পিতার থেকে স্বামীর আনুগত্য করা উত্তম , অন্যদিকে অবিবাহিতা মেয়েদের জন্য পিতার আদেশ মানা কর্তব্য ।
সামর্থ্যের উপর ইবাদত কী করা হবে , তা নির্ভর করে । যা করতে একজন সমর্থ , তাই তার জন্য উত্তম , যেটা করা তার সাধ্যের বাইরে তা করার থেকে - যদিও হয়তো ঐ ইবাদতের গুরুত্ব বেশি ।


কিছু মানুষ অতিরিক্ত ইবাদত করতে চায় ও নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে সীমা ছাড়িয়ে ফেলে । কিছু মানুষ বিশেষ কোন ইবাদতকে নিজেদের জন্য উত্তম মনে করে এবং তাদের চারপাশে যারা থাকে তাদেরকেও তারা সেটা করতে বলে ।



আল্লাহ তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم কে কিতাব ও জ্ঞান দিয়ে পাঠিয়েছেন , পাঠিয়েছেন তাঁর দাসদের জন্য রহমত ও পথপ্রদর্শক হিসাবে । যা ভাল তাই করতে মুসলমানদের আদেশ দেয়া হয়েছে ; তাই একজন মুসলমান অবশ্যই অন্যদের ভাল চাইবে ।



ইসলামি জ্ঞানে যারা সমৃদ্ধ ( আল্লাহ তাদের উপর সন্ত্তষ্ট হোন ) - মানুষের সাথে তারা মিশবেন ও তাদেরকে শেখাবেন । একই সাথে তারা হবেন সবচেয়ে সাবধানী মানুষ , যেন সময়ের অপচয় না হয় । যার মন মরে গিয়েছে , তার সাথে মেলামেশা করা যাবে না – যেন সে এক ডাকাত ; বরং এমন কারো সাথে মিশতে হবে , যে ঈমান বাড়াতে ও নেক আমলে সাহায্য করবে ।



Reply

Muslim Woman
02-27-2016, 04:22 PM
:sl:


ইবনে আল কাইয়্যিম বলেন : যার মন মরে গিয়েছে , যত দূর সম্ভব তার অনুপস্থিত থাকার সুবিধা গ্রহণ করো । যদি তোমাকে তাকে সাথে নিয়ে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয় , তবে তুমি তার দিকে বাহ্যিক মনোযোগ দাও ; তোমার মনকে তার থেকে দূরে রাখো ; তোমার ভিতরের সত্ত্বাকে তার থেকে আলাদা রাখো ; তোমার মনোযোগ যেন সে নষ্ট করতে না পারে এমন বিষয় থেকে , যা তোমার মনোযোগ পাওয়ার দাবী রাখে ।
যে তোমার কোন কল্যাণ করতে পারবে না , তার সাথে বেশি ব্যস্ত থাকা ; সময় , শক্তি ও মনোযোগ তার পেছনে যেটা নষ্ট হয় - তা তোমার জন্য বড় ক্ষতি ।

যদি তোমাকে এসব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয় - আর তোমাকে অবশ্যই এসব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে - তার সাথে এমন ব্যবহার করো যা আল্লাহ চান - যতদূর সম্ভব তার সাথে ধৈর্যশীল হও । তোমাদের একসাথে থাকা যেন আল্লাহর কাছে যাওয়ার উপায় হয় , কোন কল্যাণ যেন এ থেকে আসে - ক্ষতি না । এমনভাবে তার সাথে থাকা যেন , রাস্তায় চলার সময় তোমাকে কেউ থামতে বলেছে ও তাকে তোমার সাথে নিতে বলেছে ।


এটা নিশ্চিত করো যে , তুমি তাকে এগিয়ে দেবে এবং সে তোমাকে গন্তব্যে নিয়ে যাবে না ।
যদি সে এতে রাজী না হয় ও তার সাথে একসাথে থাকলে তোমার কোন লাভ না হয় , তবে তার জন্য থামবে না ; তাকে বিদায় জানাও ; এমনকী তার দিকে পিছন ফিরে তাকাবেও না যেন সে একজন ডাকাত - আসলে সে যেই হোক না কেন ।
তাই তোমার মনকে বাঁচাও , তোমার দিন – রাত কিভাবে কাটাচ্ছো সে নিয়ে সাবধান হও ।

তাই ছাত্ররা অবশ্যই সামাজিক মেলামেশা থেকে দূরে থাকবে । কেননা , এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির একটি যা সে করতে পারে - বিশেষ করে বিপরীত লিঙ্গের সাথে মেলামেশা ও যারা হালকা বিনোদনে সময় বেশি নষ্ট করে , তাদের বেলায় এটা বেশি প্রযোজ্য । এরা তোমার সময়কে চুরি করবে অর্থাৎ এরা তোমাকে প্রভাবিত করায় তুমি সময়ের অপচয় করবে ।
Reply

Muslim Woman
02-28-2016, 04:54 PM
:sl:



সামাজিক মেলামেশার ক্ষতির অন্তর্ভুক্ত হলো কোন কল্যাণ ছাড়া জীবন পার করা ; একই সাথে তোমার সম্পদ ও ধর্মীয় অঙ্গীকার ক্ষতিগ্রস্থ হবে , যদি ভুল লোকের সাথে উঠা – বসা করো ।

ছাত্ররা তাই মানুষের সাথে বেশি মেলামেশা করবে না । ব্যতিক্রম হলো যারা তার থেকে উপকার পেতে পারে বা সে তাদের থেকে কোন কল্যাণ লাভ করতে পারে ।

যদি কেউ তার বন্ধু হতে চায় যে তার সময় নষ্ট করবে , কোন উপকারে আসবে না বা তার থেকে উপকার লাভ করবে না , লক্ষ্যে যেতে কোন সাহায্য করবে না , তাহলে ছাত্রটির উচিত হবে সম্পর্ক গভীর হওয়ার আগে ভদ্রভাবে এই বন্ধুত্ব শেষ করা । কেননা বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে সম্পর্ক শেষ করা কঠিন হবে ।


জ্ঞানীরা একটি কথা প্রায়ই বলে থাকেন :
কিছু নিয়ে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার থেকে , তা নিতে রাজী না হওয়া সহজ কাজ । যদি তার কোন বন্ধুর দরকার থাকে , তবে সে বন্ধু হবে সঠিক পথের মানুষ , ধার্মিক , সাবধানী , বুদ্ধিমান , কল্যাণকর , বড় কোন দোষ যার মধ্যে নেই , মানিয়ে নিতে পারে , সহজে ঝগড়া করে না , কিছু ভুলে গেলে মনে করিয়ে দেয় , দরকারে সাহায্য করে ও দু:খে সান্ত্বনা দেয় ।

ইবনে কুদামাহ র: বলেন , জেনে রাখো সবাই তোমার বন্ধু হওয়ার যোগ্য নয় । তোমার সম্ভাব্য বন্ধুকে যাচাই করে দেখো , তার সেই যোগ্যতা আছে কি না ।

তোমার বন্ধু যে হবে তার মধ্যে অবশ্যই নিচের পাঁচটি গুণ থাকবে --


১. বুদ্ধিমান হবে । বোকার সাথে বন্ধুত্বে কোন কল্যাণ নেই , কেননা সে উপকার করতে চাইলেও তোমার কেবল ক্ষতিই করবে । বুদ্ধিমান বলতে বোঝাচ্ছি যে কোন কিছুর প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারে বা কিছু বোঝালে বোঝে ।

২. তার আদব – কায়দা ভাল হবে ও এটা অপরিহার্য গুণ ।যে শুধুই বুদ্ধিমান , সে রাগ বা ইচ্ছার বশ হয় । ফলে তার বন্ধুত্ব কল্যাণকর নয় ।

৩. সে মুনাফিক হবে না । এমন মানুষ আল্লাহকে ভয় পায় না ও যে আল্লাহকে ভয় করে না , তাকে বিশ্বাস করা যায় না ।

৪. সে নতুন কিছু চালু করবে না । কেননা , তার চালু করা রীতি তোমার উপর খারাপ প্রভাব ফেলার ভয় থাকবে ।


৫. দুনিয়াদারির দিকে তার মোহ থাকবে না
Reply

Muslim Woman
02-29-2016, 11:48 AM
:sl:


উমর বিন আল খাত্তাব رضي الله عنهم বলেন , তোমার সত্য পথের ভাইদের সাথে লেগে থাকো । তুমি তাদের সাথে শান্তিতে থাকতে পারবে , কেননা যখন কোন কষ্ট নেই , তখন তাদের সাথে থাকাটা আনন্দময় আর কঠিন সময়ে তুমি তাদের উপর ভরসা করতে পারবে ।

তোমার ভাই সম্পর্কে সবচেয়ে ভাল ধারণা রাখবে যতক্ষণ না সে এমন কিছু নিয়ে আসে , যা তোমাকে সাবধান করবে তার বিষয়ে ।

তোমার শত্রুকে এড়িয়ে চলো । যাকে বিশ্বাস করা যায় না , তার সাথে বন্ধুত্ব করা থেকে সাবধান থাকবে । যে আল্লাহকে ভয় করে না , তাকে বিশ্বাস করা যায় না ।
যে নীতিহীন , তার সাথে বন্ধুত্ব করবে না । কেননা , সে তোমাকে নীতিহীনতা শেখাবে ; আর এমন লোকের কাছে তোমার গোপন কথা বলবে না ।

গোপন কথা নিয়ে আলোচনা শুধু তার সাথেই করতে পারো , যে আল্লাহকে ভয় করে । ইয়াহিয়া বিন মুরাদ বলেন : বন্ধু হচ্ছে সে যাকে তোমার জন্য দুআ করার কথা মনে করিয়ে দিতে হবে না । তাকে তোষামোদ করা বা মন জয় করার চেষ্টা করতে হবে না এবং তার কাছে কোন কিছু নিয়ে মাফ চাওয়ার দরকার নেই ।
Reply

Muslim Woman
03-01-2016, 06:30 AM
:sl:


উমর বিন আল খাত্তাব رضي الله عنهم বলেন , তোমার সত্য পথের ভাইদের সাথে লেগে থাকো । তুমি তাদের সাথে শান্তিতে থাকতে পারবে , কেননা যখন কোন কষ্ট নেই , তখন তাদের সাথে থাকাটা আনন্দময় আর কঠিন সময়ে তুমি তাদের উপর ভরসা করতে পারবে । তোমার ভাই সম্পর্কে সবচেয়ে ভাল ধারণা রাখবে যতক্ষণ না সে এমন কিছু নিয়ে আসে , যা তোমাকে সাবধান করবে তার বিষয়ে ।

তোমার শত্রুকে এড়িয়ে চলো । যাকে বিশ্বাস করা যায় না , তার সাথে বন্ধুত্ব করা থেকে সাবধান থাকবে । যে আল্লাহকে ভয় করে না , তাকে বিশ্বাস করা যায় না ।
যে নীতিহীন , তার সাথে বন্ধুত্ব করবে না । কেননা , সে তোমাকে নীতিহীনতা শেখাবে ; আর এমন লোকের কাছে তোমার গোপন কথা বলবে না ।
গোপন কথা নিয়ে আলোচনা শুধু তার সাথেই করতে পারো , যে আল্লাহকে ভয় করে । ইয়াহিয়া বিন মুরাদ বলেন : বন্ধু হচ্ছে সে যাকে তোমার জন্য দুআ করার কথা মনে করিয়ে দিতে হবে না । তাকে তোষামোদ করা বা মন জয় করার চেষ্টা করতে হবে না এবং তার কাছে কোন কিছু নিয়ে মাফ চাওয়ার দরকার নেই ।
উমর বিন আল খাত্তাব رضي الله عنهم বলেন , তোমার সত্য পথের ভাইদের সাথে লেগে থাকো । তুমি তাদের সাথে শান্তিতে থাকতে পারবে , কেননা যখন কোন কষ্ট নেই , তখন তাদের সাথে থাকাটা আনন্দময় আর কঠিন সময়ে তুমি তাদের উপর ভরসা করতে পারবে । তোমার ভাই সম্পর্কে সবচেয়ে ভাল ধারণা রাখবে যতক্ষণ না সে এমন কিছু নিয়ে আসে , যা তোমাকে সাবধান করবে তার বিষয়ে ।
তোমার শত্রুকে এড়িয়ে চলো । যাকে বিশ্বাস করা যায় না , তার সাথে বন্ধুত্ব করা থেকে সাবধান থাকবে । যে আল্লাহকে ভয় করে না , তাকে বিশ্বাস করা যায় না ।
যে নীতিহীন , তার সাথে বন্ধুত্ব করবে না । কেননা , সে তোমাকে নীতিহীনতা শেখাবে ; আর এমন লোকের কাছে তোমার গোপন কথা বলবে না ।

গোপন কথা নিয়ে আলোচনা শুধু তার সাথেই করতে পারো , যে আল্লাহকে ভয় করে । ইয়াহিয়া বিন মুরাদ বলেন : বন্ধু হচ্ছে সে যাকে তোমার জন্য দুআ করার কথা মনে করিয়ে দিতে হবে না । তাকে তোষামোদ করা বা মন জয় করার চেষ্টা করতে হবে না এবং তার কাছে কোন কিছু নিয়ে মাফ চাওয়ার দরকার নেই ।
Reply

Muslim Woman
03-04-2016, 04:54 PM
:sl:



ভ্রাতৃত্বের অধিকার


তোমাদের সবারই ভাইয়ের উপর নির্দিষ্ট কিছু দাবী আছে । তার কোন দরকার থাকলে তা সাধ্যমত পূরণ করবে । কমপক্ষে যা অবশ্যই করতে হবে তা হলো : যখন সে কিছু চাইবে , তখন সাধ্যের মধ্যে হলে হাসিমুখে তার প্রয়োজন মেটাবে । ভাই চাওয়ার আগেই যদি খেয়াল করে তার প্রয়োজন মেটাও , তবে তা আরো ভাল । তোমার নিজের যা দরকার , তার উপর যদি ভাইয়ের দরকারকে প্রাধান্য দাও , তাহলে তা সবচেয়ে ভাল ।


তার দোষ সম্পর্কে তার সামনে বা আড়ালে কিছু বলবে না - এ নিয়ে নীরব থাকো ।



তার সাথে মতভেদ করবে না , ঝগড়া করবে না । তার গোপন কথা যা সে প্রকাশ হোক চায় না , তা জানতে চাইবে না । যদি তুমি দেখো সে কোথাও যাচ্ছে , জানতে চাইবে না সে কোথায় যাচ্ছে । কেননা সে হয়তো তা অন্যকে জানাতে চায় না । তার গোপন কথা কাউকে বলবে না ; যদিও পরে তার সাথে কখনো ঝগড়া হয় । তার বন্ধু ও পরিবারের লোকদের অপমান করবে না । যদি অন্য কেউ তার সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলে , সেটা তার কাছে বলবে না ।



সে বিরক্ত হবে এমন কিছু তাকে বলবে না , ব্যতিক্রম হলো যদি এমন কিছু হয় যা অবশ্যই বলা উচিত যেমন ভাল কাজের নির্দেশ দেয়া , খারাপ কাজ করতে মানা করা । এতে তার উপকারই করা হলো । জেনে রাখো এমন বন্ধু কখনোই পাবে না , যার কোন দোষ নেই । তাই এমন বন্ধু খুঁজবে যার দোষের চেয়ে গুণ বেশি । যদি তুমি নিজের দোষ – গুণ বিচার করার চেয়ে অন্যের সমালোচনা বেশি করো , তাহলে আল্লাহর এই বাণী তোমার জন্য প্রযোজ্য হবে : যারা লোকের কাছ থেকে ওজনকালে পুরো মাপে নেয় , কিন্ত্ত যখন তাদের জন্য ওজন করে তখন মাপে কম দেয় (সুরা মুতাফফিফিন ; ৮৩ : ২-৩ ) ।



বিনা দরকারে তর্ক – বিতর্ক করা দুই ভাইয়ের মধ্যে ঘৃণা ও হিংসা সৃষ্টির অন্যতম কারণ । তখন দুই পক্ষই নিজেকে অন্যের থেকে সেরা ও বেশি বুদ্ধিমান প্রমাণ করতে চায় , অন্যের সম্মান নষ্ট করতে চায় ।



যে ঝগড়া করা বেছে নেয় , সে তার ভাইকে বোকা ও অযোগ্য প্রমাণ করতে চায় আর এসবই হলো অন্যের সম্পর্কে মিথ্যা বলা । এতে মন উত্তেজিত হয় ও একে অন্যকে ঘৃণা করে । এসব হলো ভ্রাতৃত্ববোধের বিপরীত।


Reply

Muslim Woman
03-05-2016, 03:27 PM
:sl:


ভ্রাতৃত্ববোধের দাবী হলো যা বলা উচিত না , তা যেমন বলবে না তেমনি, যা বলা উচিত তা বলবে । এটাই হলো ভ্রাতৃত্ববোধের অধিকার ; কেননা যে বোবার বন্ধু হতে চায় , সে কবরস্থানে যাবে ।

ভ্রাতৃত্ববোধের দৃষ্টিভঙ্গী হলো তুমি তোমার ভাইয়ের থেকে কল্যাণ লাভ করবে । তাই ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্তিশালী করবে তার খোঁজখবর নিয়ে , তাকে বুঝতে দিবে যে তুমি তাকে নিয়ে ভাবো , তার সুখবরে খুশি হও । তুমি তার সম্পর্কে ভাল যা জানো , তা অন্যদের কাছে বলবে । তার পরিবার , সন্তান , কাজ , স্বভাব , বুদ্ধি , চেহারা , ব্যক্তিত্ব – ইত্যাদি যা নিয়ে বললে সে খুশি হয় তা বলবে , তবে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যাবে না ও মিথ্যা বলবে না ।


একইভাবে কেউ যদি তার সম্পর্কে ভাল কথা বলে , সেটা তাকে জানাবে ও তাকে বুঝতে দিবে তার প্রশংসা শুনে তুমি খুশি হয়েছো । তা না হলে এটা হিংসা করার মতো হবে । তোমার জন্য সে যা বলবে , তার জন্য তাকে ধন্যবাদ দেবে । যদি কেউ তার সম্পর্কে খারাপ কথা বলে , তবে তার প্রতিবাদ করে ভাইয়ের সম্মান রক্ষা করবে । ভাইদের একে অন্যের উপর এই অধিকার আছে যে তারা একে অন্যকে বাঁচাবে ও সাহায্য করবে ।

তুমি তাকে শেখাবে ও উপদেশ দেবে । কেননা , তার যেমন অর্থের দরকার আছে , তেমনি জ্ঞানেরও দরকার আছে । তাই তুমি যদি জ্ঞান সম্পদ পাওয়ার মতো সৌভাগ্যবান হয়ে থাকো , তাহলে তা থেকে তাকে কিছু দাও ও তাকে পথ দেখাও ।
Reply

Muslim Woman
03-09-2016, 08:20 AM
:sl:





তাকে তুমি গোপনে উপদেশ দিবে । তুমি তাকে উপদেশ দিচ্ছো , না কি তাকে দোষ দিচ্ছো , তা নির্ভর করে সেটা গোপনে বলছো না সবার সামনে বলছো । একইভাবে তুমি তার দোষ উপেক্ষা করছো , না তার সাথে আপোস করছো তা নির্ভর করে , কিভাবে বা কোন উদ্দেশ্যে তা করছো ? যদি ধর্মীয় কল্যাণের কথা ভেবে বা এতে পরে তার কোন দীর্ঘমেয়াদী উপকার আছে এই ভেবে উপেক্ষা করো , তবে তুমি আপোস করছো না । যদি তুমি নিজের স্বার্থে তার দোষ এড়িয়ে যাও , তাহলে তুমি আপোস করছো ।



ভাই বেঁচে থাকতে ও তার মৃত্যুর পরে তুমি ভাইয়ের জন্য সেই দুআ করবে যা নিজের জন্য চাও । । রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন , ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য তার মুসলিম ভাই যে দুআ করে , তা কবুল হয় । ভাইয়ের জন্য কেউ যখন দুআ করে , একজন ফিরিশতা তা লিখে রাখে ও বলে : হে আল্লাহ , এই দুআ কবুল করুন ও একে একই জিনিষ দান করুন যা সে তার ভাইয়ের জন্য চেয়েছে ( বর্ণনায় আবু আদ দারদা رضي الله عنهم )।



আবু দারদা رضي الله عنهم নাম ধরে ধরে বলে অনেকের জন্য দুআ চাইতেন । একইভাবে আহমদ বিন হাম্বল ভোরে নির্দিষ্ট ছয়জনের জন্য দুআ করতেন । তুমি একটি চুক্তি করবে যে , অবশ্যই তোমার ভাইকে তার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ভালবেসে যাবে ও সে মারা যাবার পরে তার পরিবার ও বন্ধুদের ভালবাসবে ।


তুমি যদি তার থেকে টাকা – পয়সা ও মর্যাদায় অনেক উঁচুতে থাকো তবুও তার সাথে বিনীত ব্যবহার করবে । এই চুক্তির মধ্যে এটাও থাকবে যে তুমি তার গীবত শুনবে না ও তার শত্রুর সাথে বন্ধুত্ব করবে না ।



তুমি তাকে এমন কঠিন কাজ দেবে না , যা সে করতে পারবে না । বরং তুমি তাকে তার দায়িত্ব ও বোঝা থেকে মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করবে । তার বন্ধুত্বকে ব্যবহার করে তার কোন সম্পদ অধিকারে নেবে না । তোমাকে কোন সাহায্য করার জন্য তাকে চাপ দেবে না । বরং শুধু আল্লাহর সন্ত্তষ্টির জন্য তাকে ভালবাসবে । তার সাথে সহজ – সরল এমন সম্পর্ক রাখবে যেন তুমি তার কাছে যা চাইতে পারো , সেও তেমনি তার দরকারে চাইতে পারে ।



জাফর বিন মুহাম্মদ বলেন : তারাই সবচেয়ে কঠিন প্রকৃতির বন্ধু যারা আমার উপর ভারী বোঝা হয়ে আছে ও আমি তাদেরকে এড়িয়ে চলতে চাই । সবচেয়ে সহজ বন্ধু তারাই যাদের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কোনটাই ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়ায় না ।


সময় ও মনকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য বন্ধু নির্বাচনে জ্ঞানের পথের ছাত্ররা তাই সাবধান হবে । ধর্মীয় জ্ঞান ও পরকালের জন্য কল্যাণকর হবে , এমন কাউকে সে বন্ধু হিসাবে বেছে নিবে ।


আল খাওয়ারিযমী র: বলেন : যে অলস তার সাথে বন্ধুত্ব করবে না ; যারা দৃঢ় তাদেরকেও অলস মানুষেরা প্রভাবিত করে ফেলে । কতজন সঠিক পথের মানুষ নীতিহীনদের সাথে বন্ধুত্বের কারণে ক্ষতির শিকার হয়েছে ? জ্বলন্ত কয়লা ঠাণ্ডা হয়ে যায় যখন ছাইতে ফেলা হয় ।
Reply

Muslim Woman
03-10-2016, 07:28 AM
:sl:



৭ . কী শিখবে ? কার কাছে শিখবে ?

ইবনে আল কাইয়্যিম র: বলেন , জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে সেটা কার কাছ থেকে শেখা হলো , শেখা বিষয়টির পক্ষে দলীল শক্তিশালী কি না , বিষয়টি শেখা কতটুকু জরুরী ছিল ও এর উপকারীতা কতটুকু – সেসবের উপর ।

কোন সন্দেহ নেই যে সবচেয়ে মহান ও চমৎকার জ্ঞান হলো আল্লাহ সম্পর্কে জানা – যিনি একমাত্র প্রভু , জগতসমূহের মালিক , এই দুনিয়া ও বেহেশতের অধিবাসীদের রিযিকদাতা , যিনি সত্য , নিখুঁত , তাঁর মতো বা তাঁর মতো গুণের অধিকারী কেউ না ।
আল্লাহ , তাঁর নাম , গুণ , বৈশিষ্ট্য , কাজ ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান নি:সন্দেহে সব জ্ঞানের থেকে শ্রেষ্ঠ । আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান যেমন সবচেয়ে মহান জ্ঞান , তেমনি তিনি হলেন সব জ্ঞানের ভিত ।
সব কিছুর অস্তিত্ব যেমন আল্লাহর উপর নির্ভরশীল , তেমনি সব জ্ঞান তাঁর উপর নির্ভরশীল ।


কোন কিছু সম্পর্কে পুরোটা জানতে হলে , এই জ্ঞান বা বিষয়কে যিনি সৃষ্টি করেছেন তাঁর সম্পর্কেও জানা দরকার । আল্লাহর উপর সৃষ্ট সব কিছুই অস্তিত্বের জন্য নির্ভরশীল । তাই আল্লাহর গুণাবলী ও কাজ সম্পর্কে জানলে একজন বুঝবে , আল্লাহ ছাড়া আর কী কী অস্তিত্বশীল । কেননা , আল্লাহ হলেন সবকিছুর রব ও মালিক । আল্লাহ সম্পর্কে জানা হচ্ছে সব জ্ঞানের ভিত ও উৎস । তাই যে আল্লাহকে জানে , সে আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরও জানবে ।

যে আল্লাহ সম্পর্কে জানে না , সে অন্যদের সম্পর্কে জানবে না যেমনটি আল্লাহ বলেছেন : এবং তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে ; ফলে আল্লাহ ওদের ( নিজ নিজ অবস্থা ) ভুলিয়ে দিয়েছেন ( সুরা হাশর ; ৫৯: ১৯ ) ।

এই আয়াত নিয়ে চিন্তা - ভাবনা করো , তাহলে তুমি বুঝতে পারবে এতে আছে এক চমৎকার ও মহৎ অর্থ , সেটা হলো যে আল্লাহকে ভুলে যায় , সে নিজেকেও ভুলে যাবে । তার কল্যাণ কিসে আছে তা সে বুঝতে পারবে না , পথভ্রষ্ট হয়ে সে বন্য প্রাণীর মতো হয়ে যাবে । বরং বলা যায় , বন্য প্রাণীও এমন মানুষ থেকে ভাল , কেননা তারা তাদের স্রষ্টার কাছ থেকে যা শিখেছে তাতে বেশি দৃঢ় থাকে এই পথহারা মানুষদের চেয়ে । এই পথহারা মানুষেরা ফিতরা বা স্বাভাবিক নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে , নিজেদের রবকে ভুলে গিয়েছে । পরিণামে নিজেকে , নিজের আত্মাকে , নিজের বৈশিষ্ট্য , কিভাবে তা পরিপূর্ণতা লাভ করবে ও পবিত্র থাকবে – এসব কিছু সে ভুলে গিয়েছে ।
Reply

Muslim Woman
03-13-2016, 03:12 AM
:sl:



আল্লাহ বলেন , তুমি তার আনুগত্য করো না যার মনকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করে দিয়েছি , যে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ও যার কাজ সীমা ছাড়িয়ে যায় ( সুরা কাহফ ; ১৮ : ২৮ ) । সে রবকে ভুলেছে , তাই নিজের আত্মাকে ভুলেছে । তাই নিজের জন্য যা ভাল , নিজের মন ও আত্মাকে শুদ্ধ করবে যা , তা সে গ্রহণ করতে পারে না । তার মনে সন্দেহ থাকে , সে পথ হারিয়ে ফেলেছে ও ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে ।

মূল কথা হলো : আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান হলো সব জ্ঞানের ভিত । দাসকে জানতে হবে কিভাবে সে এই দুনিয়া ও পরের দুনিয়ায় সফল হবে । আল্লাহ সম্পর্কে না জানলে সে নিজের কল্যাণ কোথায় , তার পূর্ণতা কোথায় , কিভাবে সে সফল হবে সে সবও জানতে পারবে না । তাই আল্লাহ সম্পর্কে জানা তার জন্য সুখের , আল্লাহ সম্পর্কে না জানার পরিণাম হলো খুব কষ্ট ও বেদনার ।

আল্লাহকে ভালবাসা , সবসময় তাঁর যিকির করা ও তাঁকে সন্ত্তষ্ট করার চেয়ে আর কোন কিছুই দাসের জন্য উত্তম ও পছন্দনীয় হতে পারে না , এছাড়া দাস সম্পূর্ণ হয় না । এজন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে , ওহী নাযিল হয়েছে , নবী – রাসূলদের পাঠানো হয়েছে , আসমান ও দুনিয়া বানানো হয়েছে , বেহেশত ও দোযখ সৃষ্টি হয়েছে , হারাম – হালালের নিয়ম হয়েছে , পবিত্র ঘর বানানো হয়েছে ও হজ্জের জন্য জায়গা ঠিক করা হয়েছে - যা আল্লাহকে সন্ত্তষ্ট করে ।
Reply

Muslim Woman
03-17-2016, 03:55 PM
:sl:



জ্ঞান ছাড়া এসব বিষয়ের ভিতরে ঢোকা যায় না । যারা আল্লাহ সম্পর্কে বেশি জানে , তারাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে । তাই যে আল্লাহকে জানবে , সে তাঁকে ভালবাসবে । যে দুনিয়া ও এর মানুষ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে , সে এসবের প্রতি আগ্রহ হারাবে । তাই জ্ঞান সেই দরজা খুলে দেয় যাতে রয়েছে সৃষ্টির রহস্য ।

তাই জ্ঞানের ছাত্ররা সেটা দিয়ে জ্ঞান চর্চা শুরু করবে , যা তাদের এখন ও সবসময়ই দরকার লাগবে - আল্লাহ বিষয়ে জ্ঞান , তাঁর নাম , বৈশিষ্ট্য ও কাজ । সে যদি আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে , তাহলে সে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান সেই নিয়মে চর্চা করবে , যা উম্মাহর প্রথম যুগের মুসলমানরা করেছেন ।

তাহলে সে রাসূল صلى الله عليه وسلم যেভাবে শিখিয়েছেন , সেভাবে শিখতে পারবে ।


ইবনে আল কাইয়্যিম র: বলেন , রাসূল صلى الله عليه وسلم এর পক্ষ থেকে কিছু বর্ণনা করা দুই ভাবে হয় :


১. কারো মাধ্যমে বা মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় ,

২. কারো মাধ্যম ছাড়া ।

সাহাবীরা কোন মাধ্যম ছাড়া সরাসরি রাসূল صلى الله عليه وسلم থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন , তারা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ । উম্মাহর অন্য কারো পক্ষে এদের সমান মর্যাদায় আসা সম্ভব নয় । তবে সেই সফল হবে , যে তাদের দেখানো পথে চলবে । যা কিছু এই পথ থেকে তাদের সরিয়ে নিতে পারে , সে সব থেকে সে দূরে থাকবে ।

নইলে তার অবস্থা হবে এমন - যে মরুভূমিতে মৃত্যুর ফাঁদ ছড়িয়ে আছে , সেখানে যেন সে পথ হারিয়ে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।


তাই এর চেয়ে ভাল আর কী থাকতে পারে যার জন্য এমন মানুষেরা সবার আগে সেদিকে অর্থাৎ রাসূল صلى الله عليه وسلم ও সাহাবীদের দেখানো পথে ছুটে যাবে না ?
Reply

Muslim Woman
03-18-2016, 09:05 AM
:sl:



আল্লাহর শপথ , এই সাহাবীরা যেন জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও সেরা পানীয় পান করেছে ও তারা ইসলামের মূল ভিতকে সমর্থন
করেছে । তারা যা শিখেছেন , তার কোনকিছু তারা পরের যুগের মানুষদের জন্য ব্যাখ্যা না করে যান নি । তারা মানুষের মনকে খুলে দিয়েছেন কুরআনের ন্যায়বিচার ও ঈমান দিয়ে ; তারা দেশ জয় করেছেন তরবারী ও জিহাদ দিয়ে ; তারা যে জ্ঞান অর্জন করেছেন রাসূল صلى الله عليه وسلم থেকে , তার সবকিছুই তাবেয়ীদের দিয়ে গিয়েছেন ।

তাদের ইসনাদ ছিল রাসূল صلى الله عليه وسلم , জিবরাইল আলাইহিস সালাম ও জগতসমূহের রব আল্লাহ থেকে , আর এটাই সর্বোচ্চ মানের ও বিশ্বাসযোগ্য ইসনাদ ।

তারা বলেন , এটা রাসূল صلى الله عليه وسلم এর আমনত যা আমাদের কাছে আছে , আমরা তোমাদের কাছে এই আমানত দিয়ে গেলাম । এটা আল্লাহ তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم ও আমাদের উপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন । আমরা এই দায়িত্ব তোমাদের দিয়ে গেলাম।

তাবেয়ীনরা দৃঢ়ভাবে নিয়ম মেনে জ্ঞানের পথে চলেছেন ও সঠিকভাবে রাসূল صلى الله عليه وسلم ও সাহাবীদের দেখানো পথ অনুসরণ করেছেন । এরপর তাদের অনুসারীরা একই পথে আবর্তিত হয়েছেন , সেরা কথা ও প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্যগুলির দিকে পরিচালিত হয়েছেন ।


যারা তাদের আগে এসেছিলেন , তাদের সাথে তুলনা করলে তাবেয়ী ও তার পরে যারা এসেছেন তাদের অবস্থান এমন , যা আল্লাহ যিনি সবচেয়ে সত্যবাদী বলেছেন : বেশিরভাগ হবে পুর্ববর্তীদের মাঝ থেকে ও অল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে
( সুরা ওয়াকিয়াহ ; ৫৬ : ১২-১৩ ) ।


এরপর আসলো শীর্ষস্থানীয় চিন্তাবিদরা আশীর্বাদপ্রাপ্ত চতুর্থ শতাব্দী থেকে যা সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনা এসেছে আবু সাঈদ , ইবনে মাসুদ , আবু হুরায়রা , আয়শা র: ও ইমরান বিন হুসাইন থেকে । তারা সম্মানিত পূর্ববর্তীদের পথ ধরে চলেছেন সব বিষয়ে , তাদের উজ্জ্বল আলোর ওয়ারিশ এরা, আল্লাহর ধর্ম এদের অন্তর ও আত্মার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ছিল । তাই এসবের উপর তারা অন্য কারো যৌক্তিক মতামত , কারো অন্ধ অনুসরণ বা কোন যুক্তিপূর্ণ উপস্থাপনাকে প্রাধান্য দেন নি ।

Reply

Muslim Woman
03-23-2016, 09:11 AM
:sl:



সারা দুনিয়ায় তারা সেরা আলো হিসাবে বিবেচিত হয়েছিলেন এবং অন্য সব মানুষের মাঝে আল্লাহ তাদেরকে সত্যবাদিতার গুণ দান করেছিলেন। এরপর পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পদক্ষেপ অনুসরণ করেছেন এবং তাদের দৃঢ় ও সঠিক পথের নিয়মকানুন সমুন্নত রেখেছেন । তারা কোন ব্যক্তি বা দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখান নি। তারা সহীহ দলীল প্রমাণে সন্ত্তষ্ট ছিলেন ; যেখানেই সত্যকে পেয়েছেন সেখান থেকেই সত্যকে গ্রহণ করেছেন ও সঠিক মতবাদে একনিষ্ঠ ছিলেন । যদি কখনো কোন সত্যকে পেয়েছেন যা তাদের উপর প্রভাব ফেলেছে , তার দিকে তারা ছুটে গিয়েছিলেন একক ও দলগতভাবে ।


রাসূল صلى الله عليه وسلم কোন কিছু করতে বললে , সাহাবীরা সেদিকে পুরো মনোযোগ দিতেন কোন প্রশ্ন না করেই । রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কথা তাদের এত প্রিয় ছিল যে , তার কথার উপর তারা কোন কথা বলতেন না বা তার বিরোধিতা করতেন না ।
তাই জ্ঞানের সন্ধানীরা , তোমরা অবশ্যই তোমাদের মনোযোগ দেবে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানের দিকে । কেননা , এসবের জ্ঞানই হলো প্রকৃত জ্ঞান । অন্যকিছু সম্পর্ক অজ্ঞ থাকলেও তা সত্যিকারের অর্থে তোমার ক্ষতি করবে না ।
একজন শুভাকাঙ্খী বন্ধু উপদেশ পাঠিয়েছেন খুব সুন্দর ও জাদুকরী ভাষায় কেননা তিনি তোমাদের কল্যাণ চান । ইবনে আল কাইয়্যিম বলেন , ও হে যে তুমি নিজেকে বাঁচাতে চাও ; শোন একজন প্রিয় উপদেশদাতা কী বলছে ;
তোমার সব বিষয়ে ওহীকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখো, কামনা - বাসনার বিভ্রান্তিকর কিছুকে নয়;

আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহকে বিজয়ী করো যা এসেছে তাঁর থেকে বিচারের মাপকাঠি নিয়ে ; যারা একে অস্বীকার করে তাদের উপর ওহীর তরবারীর আঘাত হানো , ঠিক যেমন মুজাহিদ হলে আঘাত হানতো আঙুলের অগ্রভাগে ;

এগিয়ে যাও সত্যের অনুভূতি নিয়ে, আন্তরিক আর সাহসী - যারা আল্লাহর প্রতি নিবেদিত তাদের পথে ; দৃঢ় থাকো ধৈর্য্য সহকারে হেদায়েতের ছায়ায় , যদি এই পথে তুমি ক্ষতিগ্রস্থ হও , তবে তা হবে পরম ক্ষমাশীলের খুশীর জন্য ।

আল্লাহর কিতাব ও নির্ভরযোগ্য ঐতিহ্যকে তোমার অস্ত্র বানাও , আর তোমার আত্মাকে শক্তিশালী করো, কে লড়াই করবে অথবা যুদ্ধের ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে?

প্রকাশ্যে ঘোষণা করো যা রাসূল صلى الله عليه وسلم
নিয়ে এসেছিলেন ; সাহায্যকারী থাকবে না এমন ভয়ে ভীত হয়ো না ;

দুই ধরণের পোশাককে ভয় করো , যারা এসব পরবে তারা হবে তিরষ্কৃত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ; অজ্ঞতার পোশাক যা কোন অন্ধ মতবাদের সাথে আসে - কত ভয়ানক পোশাক এগুলি । নিজেকে সজ্জিত করো নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়নতা দিয়ে, এগুলি হলো সেরা পোশাক অন্তরকে সৌন্দর্যমন্ডিত করার জন্য ;

আল্লাহভীরুতা ও রাসূল صلى الله عليه وسلم এর উপদেশকে তোমার লক্ষ্য হিসাবে স্থির করো , এই দুই বিষয়ে সেরা হও ; আল্লাহর রশি ও ওহীকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং তাঁর উপর সেভাবে নির্ভর করো যেমনটি তাঁর প্রাপ্য ।
Reply

Muslim Woman
03-24-2016, 09:17 AM
:sl:



ইমাম শাফেয়ী র: বলেন , কুরআনের বাইরে হাদীস বা ফিকাহর জ্ঞান ছাড়া আর সবকিছু মনোযোগ নষ্টকারী । যা কিছু শুরু হয় এভাবে - এটা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন অমুক .........এছাড়া অন্যকিছু শয়তানের কূ – মন্ত্রণা ।

ইবনে আল কাইয়্যিম رضي الله عنهم বলেন , জ্ঞান হচ্ছে তাই যা আল্লাহ ,

তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم ও সাহাবীরা বলেছেন । কেননা , এরাই সবচেয়ে জ্ঞানী । তাই যে কুরআন ও সুন্নাহ ছাড়া অন্যকিছু জ্ঞান পেতে চায় , সে অসম্ভবকে চায় । যে অন্যকিছু থেকে জ্ঞান নিয়ে সন্ত্তষ্ট , সে সঠিক পথ থেকে দূরে চলে গিয়েছে । কুরআন ও সুন্নাহ তোমাকে অজ্ঞতা থেকে মুক্তি দেবে । এ নিয়ে আল্লামা ইবনে আল কাইয়্যিম رضي الله عنهم বলেন , অজ্ঞতা হলো মরণ রোগ । এর সুস্থতা আছে দুইটি বিষয়ের ভিতরে -- কুরআন ও সুন্নাহ।


একজন যত্নশীল শিক্ষক এদেরকে আরো সুরভিত করে ; জ্ঞান তিন ধরণের - চতুর্থ কিছু নেই এছাড়া, সত্য তাই যা শুদ্ধ করে , জ্ঞান হলো স্রষ্টার গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যে এবং তাঁর কাজ সম্পর্কে জানা , আল্লাহর সব গুণবাচক নাম , তাঁর আদেশ - নিষেধ অর্থাৎ ধর্ম সম্পর্কে জানা , তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনে তিনি কী পুরষ্কার দেবেন, এসব কিছুই রয়েছে কুরআন ও সুন্নাহতে । এসব কিছু এসেছে তাঁর কাছ থেকে যিনি বিচারের মাপকাঠি ঠিক করে দিয়েছেন ; আল্লাহর শপথ , সে ছাড়া আর কেউ এর বিরুদ্ধে বলে না যে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে ।


কত মহান এই কথা : ও হে যে তুমি জেগে উঠেছো জ্ঞান অন্বেষণে, সব জ্ঞান হলো রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জ্ঞানের দাস , তুমি জ্ঞান খুঁজে বেড়াচ্ছো কোনকিছু সংশোধন করার জন্য; কিভাবে তুমি সেরা জ্ঞান থেকে পথভ্রষ্ট হচ্ছো ?

সব জ্ঞান আছে আল্লাহর কিতাবে ও রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতে । তাই তোমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকু দৃঢ় থাকবে এই দুইটির সাথে । এই দুই হলো নিরাপত্তা ও আরামের পথ , প্রচন্ড গরমের দিনে অর্থাৎ কিয়ামতের দিনে যা তোমাকে ছায়া ও সেরা পুরষ্কার দেবে।
Reply

Muslim Woman
03-25-2016, 04:46 PM
:sl:


কার থেকে শিখবে ?
জ্ঞানের পথের যে ছাত্র , সে অবশ্যই কোন শেখ বা জ্ঞানী কাউকে শিক্ষক হিসাবে বেছে নিতে চেষ্টা করবে ।

সে এমন কাউকে বেছে নেবে যিনি সবচেয়ে জ্ঞানী , বুদ্ধিমান ও সাবধানী যেমনটি আবু হানিফা র: বেছে নিয়েছিলেন হাম্মাদ বিন সুলায়মান র: কে । চিন্তা – ভাবনা ও বিবেচনা করে তিনি বলেন , আমি তাঁকে পেয়েছি বুদ্ধিমান , নরম মনের ও ধৈর্য্যশীল শেখ হিসাবে । তিনি আরো বলেন : আমি হাম্মাদ বিন সুলায়মান র: এর সাথে ছিলাম ও জ্ঞানের পথে এগিয়ে গিয়েছিলাম ।

সহীহ হাদীসের ভূমিকায় ইমাম মুসলিম র: বলেন , মুহাম্মদ বিন সিরীন বলেছেন , জ্ঞান হলো ধর্ম। তাই দেখে নাও , তুমি কার কাছ থেকে এই জ্ঞান নিচ্ছো ।

ইবনে জামাহ বলেন , কার কাছ থেকে জ্ঞান নেবে তা ঠিক করার সময় একজন ছাত্র অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য চাইবে । সে শিক্ষকের কাছ থেকে ভাল আচরণ ও সৎ স্বভাব শিখবে । যদি সম্ভব হয় , সে এমন একজনকে শিক্ষক হিসাবে বেছে নেবে , যিনি শিক্ষাদানের যোগ্য , ছাত্রদের বিষয়ে সচেতন , পুরুষসুলভ গুণাবলী যার আছে , যিনি ভাল মানুষ হিসাবে পরিচিত , যিনি সুন্দরভাবে শেখাতে পারেন ।
খুব জ্ঞানী হলেই কাউকে শিক্ষক হিসাবে বেছে নেয়া যাবে না যদি তিনি ধার্মিক , ভদ্র ও সাবধানী না হোন । সালাফদের মধ্যে কেউ কেউ উপদেশ দিয়েছেন : জ্ঞান হলো ধর্ম । তাই কার থেকে তুমি ধর্ম বা জ্ঞান নিচ্ছো , তা খেয়াল করে দেখবে । শুধু বিখ্যাত ব্যক্তিদের কাছ থেকেই শিখবো , কোন ছাত্র যেন নিজেকে এভাবে সীমিত না করে ।

আল গাযযালী ও অন্যরা এই মনোভাবকে জ্ঞানের প্রতি ঔদ্ধত্য ও খুব নীচু স্বভাবের আচরণ হিসাবে গণ্য করেছেন । কেননা , জ্ঞান হলো বিশ্বাসীদের জন্য পুরস্কার । তাই সে এই পুরস্কার যেখানে পাবে , সেখান থেকে নিবে । যে এই কল্যাণ দিতে চাইবে , সে অবশ্যই তার থেকে সেটা নেবে ।


Reply

Muslim Woman
03-26-2016, 04:12 PM
:sl:



সিংহ দেখলে মানুষ যেভাবে দৌঁড়ে পালাতে চাইবে ও এই বিপদে কেউ তাকে সাহায্য করতে চাইলে সে অবশ্যই তা গ্রহণ করবে , তেমনি অজ্ঞতা থেকেও একজন ছাত্র সেভাবে আত্মরক্ষার চেষ্টা করবে ।

তাই কেউ যদি বিখ্যাত নাও হয় , তবু তার থেকে উপকার লাভের আশা তুমি করতে পারো ও হয়তো তিনি তোমার জন্য বেশি কল্যাণকর হবেন । যদি তুমি সালাফদের জীবনী পড়ো , তাহলে দেখবে তাদের কোন ছাত্র এমন কোন শেখ থেকে উপকার পায় নি , যদি না তিনি ধর্মভীরু হোন ও ছাত্রদের এমন উপদেশ দেন যা তার তাকওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ দেয় । একইভাবে যদি তুমি অনেক বই পড়ো , তাহলে সেই লেখকের বই পড়ে বেশি কল্যাণ লাভ করবে যার তাকওয়া বেশি ও দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ কম ।

নিশ্চিত হয়ে নাও শরীয়াহ বিজ্ঞান সম্পর্কে তোমার শেখ পুরোপুরি সচেতন । তিনি শুধুমাত্র বই পড়ে নয় বরং তার সময়ের নির্ভরযোগ্য শিক্ষকদের কাছ থেকে শিখেছেন ।

আশ শাফেয়ী র: বলেন , শুধু বই পড়ে শিখলে শরীয়াহ সম্পর্কে জ্ঞানে খুঁত থাকবে অর্থাৎ শুধু বই পড়ে শরীয়াহ আইন সম্পর্কে পুরো জ্ঞান অর্জন সম্ভব না।

এদের কেউ কেউ বলেছেন , সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলির একটি হলো শুধু বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা । আল খাতীব আল বাগদাদী র: বলেন , মুগীরাহ বিন ইবরাহীম বলেছেন , তারা যদি কারো কাছ থেকে শিখতে চাইতেন , তাহলে জনসমক্ষে সেই শিক্ষকের আচরণ , তার ইবাদত ও সার্বিক অবস্থা বিচার করতেন । এরপর তার কাছে পড়াশোনা বা জ্ঞান চর্চা করতেন ।

সুফিয়ান আস সাওরী র: বলেন , যে বেদাতকারীর কাছে জ্ঞান চর্চা করে , আল্লাহ তাকে জ্ঞান থেকে কল্যাণ পেতে দেবেন না । যে তার সাথে হাত মেলায় , সে ইসলামের বাঁধন একে একে সরিয়ে ফেলে ।
Reply

Muslim Woman
03-28-2016, 04:06 PM
:sl:


মালিক বিন আনাস বলেন , চার ধরণের মানুষের কাছ থেকে জ্ঞান নেয়া যাবে না । এছাড়া আর যে কারো কাছ থেকে তা নেয়া যাবে । এরা হলো :

১. বোকা : যে বোকা হিসাবে পরিচিত , সে অন্য সবার থেকেও যদি বেশি বর্ণনা করে , তার কথা মানা যাবে না ।

২. মিথ্যাবাদী : যে অন্য মানুষ সম্পর্কে মিথ্যা বলে , সে যদি রাসূল صلى الله عليه وسلم সম্পর্কে মিথ্যা নাও বলে ।

৩. বেদাতকারী - যে মানুষকে তার নতুন রীতি পালন করতে আহবান করে ।

৪. যার প্রকৃত জ্ঞান নেই : যা শেখাবেন তার প্রকৃত মানে যিনি জানেন না । তিনি যদি তার ইবাদত ও সদগুণের জন্য পরিচিত হোন , তবুও তার থেকে জ্ঞান নেয়া যাবে না ।

এসব আলোচনা থেকে বোঝা যায় সঠিক শিক্ষক বেছে নেয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ । কেননা , তিনি হলেন তোমার আদর্শ ও উদাহরণ । আল্লাহই পথ দেখান ও তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই । নেই কোন প্রভু আল্লাহ ছাড়া ।
Reply

Muslim Woman
03-31-2016, 03:36 PM
:sl:



৮ . শিক্ষকের সাথে সেরা আচরণ করতে হবে


আল্লাহ , যিনি অদৃশ্যের সব জ্ঞান রাখেন ও সবার অন্তরের প্রভু - তিনি পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট করেছেন যে , কোনকিছু মনে করিয়ে দিলেই সবাই সচেতন হয় না ও কিছু শুনলেই তা থেকে সবাই কল্যাণ পায় না । বরং এর শর্ত হলো : এতে উপদেশ আছে তার জন্য যার আছে অন্ত:করণ ( যে বোধশক্তি সম্পন্ন ) অথবা যে শোনে মনোযোগ দিয়ে ( সুরা কাফ ; ৫০ : ৩৭ ) ।

ইবনে আল কাইয়্যিম র: বলেন , যদি তুমি কুরআন থেকে উপকার পেতে চাও , তাহলে যখন তা তেলাওয়াত করা হয় তোমার মনকে সেদিকে রাখো ; কুরআন শোনার দিকে মনোযোগ দাও ও এটাই মনে করবে যে আল্লাহ সরাসরি তোমাকে বলছেন । কেননা , এটি সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে রাসূল صلى الله عليه وسلم এর মুখে উচ্চারিত হয়ে তোমার কাছে এসেছে যেমনটি আল্লাহ বলেন : এতে উপদেশ আছে তার জন্য যার আছে অন্ত:করণ ( যে বোধশক্তি সম্পন্ন ) অথবা যে শোনে মনোযোগ দিয়ে (৫০ : ৩৭ )।


কোনকিছু থেকে সর্বোচ্চ কল্যাণ ও ভাল ফলাফল পেতে হলে নির্ভর করতে হয় সেই বিষয়ের উপর যা প্রভাব বিস্তার করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চেষ্টা করবে পুরোপুরিভাবে সেই সুফল লাভ করতে । সুফল পেতে যা যা শর্ত পূরণ করতে হয় সে তা করবে এবং যা কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে সে তা দূর করবে ।

এসব কিছু সংক্ষিপ্ত কিন্ত্ত স্পষ্টভাবে উপরের আয়াতে সুন্দরভাবে বলা হয়েছে । “ নিশ্চয়ই এতে উপদেশ আছে ” , এটা নির্দেশ করে সূরার প্রথম থেকে এই আয়াত পর্যন্তকে ; আর তাঁর বাণী - যার আছে অন্ত:করণ ( বোধশক্তি ), এটা নির্দেশ করে কার উপর এর প্রভাব পড়বে সেই লক্ষ্যবস্ত্ত । এর মানে যে অন্তর জীবিত ও আল্লাহকে জানে যেমনটি আল্লাহ বলেছেন অন্য আরেকটি আয়াতে এটি তো কেবল এক উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন, যাতে সে সতর্ক করতে পারে জীবিতদের ...( সুরা ইয়াসিন ৩৬ :৬৯-৭০ ) ।



এর অর্থ সেই অন্তর যা জীবিত । আল্লাহর এই কথা , “ ..যে শোনে ”, এটা বলতে বোঝায় , যে তার শ্রবণ ও অন্য ইন্দ্রিয়গুলিকে যা তাকে শোনানো হচ্ছে অর্থাৎ কুরআনের বাণী সেদিকে কেন্দ্রীভূত করেছে । যা বলা হচ্ছে তার প্রভাব কার্যকরী হওয়ার জন্য এটা হলো শর্ত । তাঁর বাণী , “ মনোযোগ দিয়ে ” বলতে বোঝায় তার অন্তর এখানে উপস্থিত আছে , অনুপস্থিত নয়। ইবনে কুতাইবাহ বলেন , “ সে আল্লাহর কিতাব শোনে যখন তার অন্তর ও উপলব্ধি করার অনুভূতিগুলি সেখানে রয়েছে এবং সে অমনোযোগী নয় ” ।

এটা নির্দেশ করছে কুরআনের প্রভাবে কী দূর হয়ে যাবে, সেটি হলো মনোযোগ নষ্ট হতে পারে এমনকিছু ও অন্তরের অনুপস্থিতি –এর বুঝতে পারার অক্ষমতা যা একে শোনানো হচ্ছে এবং অন্তর্দৃষ্টির ও চিন্তাভাবনার অভাব ।


তাই প্রভাব বিস্তারের উৎস যদি সেখানে থাকে অর্থাৎ পবিত্র কুরআন ও এর লক্ষ্যবস্ত্ত
( এমন অন্তর যা জীবিত ) , প্রভাব কার্যকরী হওয়ার দরকারী শর্তাদি যদি পূরণ হয়
( কুরআনকে কেন্দ্রবিন্দু করে সেদিকে মনোযোগ দেয়া ) , মনোযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন বাধা যদি দূর করা হয় ( অন্তরের অমনোযোগ ও যা শুনছে তার মানে বুঝতে সমর্থ না হওয়া ) , যদি সহায়ক পরিস্থিতি থাকে , তবে সুফল পাওয়া যাবে ( কুরআনের প্রভাব , কল্যাণ ও উপদেশ যা এতে দেয়া হয়েছে , তা বোঝা যাবে )।

জ্ঞান তখনই অর্জিত হয় যখন একজন বিনীতভাবে সেদিকে পুরো মনোযোগ দেয় ।
Reply

Muslim Woman
04-03-2016, 04:07 PM
:sl:




আশ সাবি র: বলেন , যায়েদ বিন সাবিত জানাযার সালাত পড়েন । একটি গাধা আনা হয় তাকে পৌঁছে দেয়ার জন্য । ইবনে আব্বাস এগিয়ে এসে গাধার লাগাম টেনে এগিয়ে চললেন ।
তখন যায়েদ বললেন , ছেড়ে দিন ও আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর চাচাতো ভাই । ইবনে আব্বাস জবাব দেন : জ্ঞানীদের সাথে এমন আচরণ করতে আমরা আদেশ পেয়েছি ।


সালাফরা তাদের শিক্ষকের দিকে শ্রদ্ধাভরে তাকাতেন । তারা যে শিক্ষকদের কত সম্মান করতেন , তার অনেক বর্ণনা আল খাতিব দিয়েছেন । আল মুগহিরাহ বলেন , আমরা ইবরাহীম আল নকহাইকে এত সম্মান দেখাতাম , যেমন সম্মান দেশের শাসককে
মানুষ দেখায় ।

আইয়ূব বলেন , একজন ছাত্র আল হাসানের কাছে তিন বছর ধরে শিক্ষা নেয় , কিন্ত্ত কোনদিন কোন প্রশ্ন করে নি তার প্রতি সম্মানবোধ থেকে ।


ইসহাক আশ শাহিদী বলেন , আমি দেখেছি আসরের সালাত পড়ে ইয়াহিয়া আল কাতান মসজিদের মিনারতে হেলান দিয়ে বসতেন । তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন আলী বিন আল মাদিনী , আশ শাদ হাকুনী , আমর বিন আলী , আহমদ বিন হাম্বল , ইয়াহিয়া বিন মইন প্রমুখ । তারা দাঁড়িয়ে থেকে হাদীস সম্পর্কে প্রশ্ন করতেন । এমনটি চলতো মাগরিব পর্যন্ত ।

তিনি কাউকে বসতে বলতেন না আর তার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখিয়ে কেউ তার সামনে বসতো না ।


মালিক বিন আনাসের প্রশংসা করে ইবনে আল খাইয়াত বলেন , তিনি জবাব দিতেন অত্যন্ত ধৈর্য , বিনয় ও প্রজ্ঞার সাথে । যারা তার কাছ থেকে কোন প্রশ্নের উত্তর শুনতো , তারা অভিভূত হয়ে যেত ; প্রশান্তির আলো ও সঠিক জ্ঞানের সম্মান তাকে ঘিরে থাকতো ; মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করতো যদিও তিনি কোন ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন না ( বর্ণনায় আল গুলাবি ) ।

আবদুর রহমান বিন হারমালা আল আসলামী বলেন , অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত সাঈদ বিন আল সুমাইবকে প্রশ্ন করার সাহস কারো ছিল না , ঠিক যেমন কোন কিছু করতে শাসকের অনুমতি লাগে ।


আশ শাফেয়ীকে সমালোচনা করা হতো জ্ঞানীদের প্রতি তার অত্যন্ত বিনীতভাবের জন্য । এ নিয়ে তিনি বলেন , আমি তাদের প্রতি বিনম্র হই , তারা আমাকে সম্মান দেন । তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্মানিত হবে না , যতক্ষণ না তুমি বিনীত হও ।


খালাফ আল আনসারকে আহমদ বিন হাম্বল র: বলেন ,আমি আপনার দুই হাতের মাঝে ছাড়া বসবো না । যার কাছ থেকে জ্ঞান পাই , তার প্রতি বিনয়ী হতে আমরা আদেশপ্রাপ্ত ।
Reply

Muslim Woman
04-04-2016, 06:00 AM
:sl:



জ্ঞানের পথের যে ছাত্র সে তার শিক্ষকের সাথে কোন বিষয়ে মতবিরোধে যাবে না । রোগী যেমন ডাক্তারের উপর নির্ভর করে , ছাত্র তেমনি তার শিক্ষককে খুশি রাখবে , শিক্ষকের সম্মান বজায় রাখবে ও শিক্ষককে সেবা দানের মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করবে । তাকে অবশ্যই এটা বুঝতে হবে নিজের শিক্ষকের কাছে বিনম্র হওয়াটা সম্মানের ব্যপার । শিক্ষকের সামনে তুমি বিনীত হলে তা আসলে তোমাকে উঁচু করবে , তোমার নিজের মর্যাদা বাড়াবে । শিক্ষকের দিকে সম্মানের চোখে তাকাতে হবে , তাহলে শিক্ষক থেকে সেই ছাত্র বেশি কল্যাণ লাভ করতে পারবে ।

সালাফদের মধ্যে কেউ কেউ শিক্ষকের কাছে যাওয়ার আগে সাদকা করে এই দুআ করতেন : হে আল্লাহ , আমার শেখের দোষ আমার কাছ থেকে গোপন রাখো ও তার জ্ঞানের কল্যাণ থেকে আমাকে দূরে রাখবেন না ।

আশ শাফেয়ী র: বলেন , আমি ইমাম মালিক র: এর সামনে খুব আস্তে করে বইয়ের পাতা উল্টাতাম যাতে কোন শব্দ হয়ে উনার অসুবিধা না হয় । আমি এমন করতাম তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে ।


হামদান আল আশফাহানি বলেন , আমি শারিক র: এর সাথে ছিলাম । খলিফা আল মাহদীর সন্তানরা তার কাছে এসে একটি হাদীস নিয়ে জানতে চাইলো । তিনি দেয়ালে হেলান দিয়ে বসলেন কিন্ত্ত জবাব দিলেন না । তারা সামনে এসে একই প্রশ্ন আরো কয়েকবার করে জবাব না পেয়ে বললো , আপনি কি শাসকদের সন্তানদের এভাবে অপমান করেন ? শারিক র: বললেন , না । তবে জ্ঞান হলো আল্লাহর কাছে মূল্যবান যা আমি এভাবে কাউকে দেই না । তখন তারা তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তার হাঁটু স্পর্শ করলো । শারিক র: বললেন , এভাবেই জ্ঞানের কথা জানতে হয় ।

ছাত্ররা দূর থেকে চিৎকার করে শেখকে ডাকবে না ও অনানুষ্ঠানিকভাবে সম্বোধন করবে না । সম্মানের সাথে শিক্ষককে সম্বোধন করবে ।


Reply

Muslim Woman
04-05-2016, 04:07 AM
:sl:




আল খাতিব বলেন , কোন ছাত্র এভাবে বলবে না , এই শিক্ষক বা ও জ্ঞানী ব্যক্তি , আপনি এ বিষয়ে কী মনে করেন ? শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে সে শুধু নাম ধরে শিক্ষককে সম্বোধন করবে না , বরং নামের আগে সম্মানসূচক শব্দ যেমন শেখ , ওস্তাদ বা শায়খুনা বলবে ।

তার উপর শিক্ষকের যা অধিকার আছে , সে সেসব জানবে ও তার উপর শিক্ষকের শ্রেষ্ঠত্ব ভুলবে না । সে শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করবে ও শিক্ষকের বদনাম অন্যের কাছ থেকে শুনবে না । কোথাও তার শিক্ষক সম্পর্কে খারাপ আলোচনা হলে সে তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করবে ; সেটা না পারলে সে ঐ জায়গা থেকে চলে আসবে । তার শেখ বেঁচে থাকতে সে তার জন্য দুআ করবে ; শেখের মৃত্যুর পরে তার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখবে । তার শেখের কবর সে অবশ্যই জিয়ারত করবে ও শেখের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবে ও দান – সদকা করবে ।

সে শেখকে অনুকরণ করবে শান্ত , নম্র ও সৎ পথে চলা এবং ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সময় । শেখের নিয়মিত ইবাদত ও অভ্যাসগুলি সে পালন করবে ও আচার – আচরণ অনুকরণ করবে । এটা অপরিহার্য যে সে তার শিক্ষককে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করবে ।


কঠোর স্বভাবের শিক্ষকের সাথে কিভাবে মানিয়ে চলতে হবে ?


একজন ছাত্রকে অবশ্যই কড়া শিক্ষকের সাথে ধৈর্য ধরতে হবে ও শিক্ষকের সাথে নরম আচরণ করতে হবে ।

ইমাম আশ শাফেয়ী র: বলেন , দু’জন লোক আল আমাসের কাছে প্রায়ই যেত । এদের একজনের আগ্রহ ছিল হাদিসের প্রতি , আরেকজনের তাতে আগ্রহ ছিল না ।

আল আমাস একদিন হাদীসের প্রতি যে আগ্রহী , তার সাথে খুবই রাগারাগি করলেন । অন্য লোকটি তখন বললো , তোমার সাথে ইনি যে খারাপ ব্যবহার করলেন , তা আমার সাথে করলে আমি আর কখনোই এখানে আসতাম না । আল আমাস তা শুনে বললেন , তাহলে সে তোমার মতো বোকা হতো । আমার খারাপ আচরণের জন্য সে তাই ত্যাগ করতো যা তার জন্য কল্যাণকর ( বর্ণনায় আল খাতীব ) ।



ইমাম আশ শাফেয়ী র: একই ধরনের আরেকটি ঘটনা বলেন । সুফিয়ান বিন উয়াইনাহকে বলা হয়েছিল , আপনার কাছে দুনিয়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষ অনেক দূর থেকে আসে , আর আপনি কি না তাদের সাথে এত রাগ করেন ? তারা সবাই তো আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে ।

তিনি বললেন , যদি এমন করে , তবে বোকামি করবে । কেননা আমার খারাপ ব্যবহারের জন্য তারা এমন কিছু ছেড়ে যাবে , যা তাদের উপকারে আসবে ।
Reply

Muslim Woman
04-09-2016, 04:17 AM
:sl:



ইবনে জামাহ র: বলেন , ছাত্ররা অবশ্যই শিক্ষকের কড়া স্বভাব ও বদমেজাজী আচরণ সহ্য করে তার সাথে থাকবে । শিক্ষকের কঠোরতার জন্য ছাত্র যেন শিক্ষককে ছেড়ে চলে না যায় ।


শিক্ষক কড়া আচরণ করলে ছাত্র তার কাছে মাফ চাইবে , আল্লাহর কাছে মাফ চাইবে ও নিজের উপর দোষ দেবে । তাহলে শিক্ষকের জন্য তার শ্রদ্ধা ও ভালবাসা বজায় থাকবে , নিজের অন্তর রক্ষা পাবে ও তা ইহকাল – পরকালের জন্য কল্যাণকর ।
সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন , যে জ্ঞান অর্জনের সময় লজ্জা বা অপমান সহ্য করতে পারে না , সে সারাজীবন অজ্ঞতার অন্ধকারে থাকবে । যে জ্ঞানের পথে অপমানিত হলে ধৈর্য ধরে , সে এই জীবন ও পরকালে সম্মান পাবে ।


ইবনে আব্বাস رضي الله عنهم বলেন , ছাত্র হিসাবে আমি নিজেকে বিনীত করেছিলাম , তাই আমি শিক্ষক হিসাবে সম্মানিত হয়েছি । মুয়াফি বিন ইমরান বলেন , যে একজন জ্ঞানী ব্যক্তির প্রতি রেগে যায় , সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাথে রাগ করলো ।
ইমাম আশ শাফেয়ী র: বলেন , জ্ঞানের উৎস ও কাঠিন্যের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরবে ; কেননা জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ হওয়া মানে তা থেকে তুমি ফিরে গেলে ।

যে জ্ঞানের কাঠিন্য এক ঘন্টা সহ্য করতে পারবে না , সে অজ্ঞতার অপমানের মধ্যে চিরকাল থাকবে । যে যৌবনে জ্ঞানকে পাশ দিয়ে চলে যেতে দেয় , সে তখনই সজাগ হবে , যখন অন্যরা তার জানাযা পাঠ করবে । ইবনে জুরায়ী র: বলেন , আমি আতা র: এর কাছ থেকে যা শিখেছি , তা অত্যন্ত ভদ্র - নম্র হয়েই শিখতে পেরেছি । ইবনে তাউস তার পিতার একটি উদ্ধৃতি দেন : জ্ঞানীদের সম্মান করা সুন্নাহ ( বর্ণনায় ইবনে আল বার র: ) ।
Reply

Muslim Woman
04-11-2016, 11:52 AM
:sl:


জ্ঞানের ছাত্র হিসাবে শিক্ষকের সাথে ঝগড়া করা থেকে সাবধান থাকবে । ঝগড়া করা পাপ আর এটা আরো পাপের , যখন তা করা হয় শিক্ষকের সাথে । এমন আচরণ কল্যাণ লাভ না হওয়ার একটি কারণ ।

মায়মুন বিন মাহরান বলেন , যে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী , তার সাথে তর্ক করবে না । যদি তুমি তা করো , তাহলে তিনি তার জ্ঞান তোমার থেকে গোপন রাখবেন , আর তুমি তার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না । আয যুহরী বলেন , ইবনে আব্বাসের সাথে সালামাহ সবসময় তর্ক করতো । তাই সে তেমন জ্ঞান লাভ করতে পারে নি ।


শেখ যখন তোমার ভাল কিছুর জন্য প্রশংসা , তোমার দোষ - অলসতা সম্পর্কে তোমাকে জানানো ও দোষ কাটিয়ে কিভাবে নিজের উন্নতি করতে হবে সে সম্পর্কে উপদেশ দেন , তখন একজন ছাত্র হিসাবে শেখকে ধন্যবাদ জানাবে । এটি আল্লাহর তরফ থেকে তোমার জন্য রহমত ।

শেখ যখন তোমাকে তোমার সদগুণের কথা জানিয়ে তা আরো বাড়ানোর উপায় বলবেন , তখন এ সম্পর্কে তোমার জানা থাকলেও তুমি তাকে সেটা বলবে না । বরং শেখকে ধন্যবাদ জানাবে তোমাকে এসব উপদেশ দিয়ে উপকার করার জন্য । তবে না বললে যদি তোমার কোন ক্ষতির আশংকা থাকে , তাহলে বললে ক্ষতি নেই ।
Reply

Muslim Woman
04-12-2016, 11:57 AM
:sl:


শেখের সাথে সাক্ষাতের আদব


যদি জানতে পারো শেখ ঘুমাচ্ছেন , তবে তার সাথে দেখা করতে চাইবে না । বরং তার ঘুম থেকে উঠার জন্য বসে অপেক্ষা করো বা ইচ্ছা হলে ফিরে যাও ।


ইবনে আব্বাস رضي الله عنهم বলেন , যখন রাসূল صلى الله عليه وسلم
ইন্তেকাল করেন , আমি একজন আনসারকে বললাম , চলো , সাহাবীদের কাছ থেকে কিছু জেনে আসি । সে বললো , আমি তোমার কথায় খুব অবাক হচ্ছি । সাহাবীদের মধ্যে এত বিশিষ্ট ব্যক্তি থাকতে তুমি কি মনে করো কেউ আমাদের দিকে মনোযোগ দেবে ?


আমি তখন তাকে ছেড়ে সাহাবীদের কাছে গিয়ে হাদীস নিয়ে জানতে শুরু করি । যদি আমি শুনতে পেতাম কেউ একটি হাদীস জানে , আমি তার বাসায় যেতাম । যদি শুনতাম সে ঘুমিয়ে আছে , তাহলে দরজার সামনে চাদর বিছিয়ে তার অপেক্ষায় বসে থাকতাম ।

বাতাস ধূলা উড়িয়ে আমার গায়ে ফেলতো । সে লোক ঘুম ভেঙ্গে যখন দেখতো আমি এভাবে বসে আছি , তখন বলতো , হে আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর চাচাতো ভাই , আপনি কেন এসেছেন ? আপনি আমাকে খবর পাঠালেন না কেন ? আমি তাহলে আপনার কাছে যেতাম ।


আমি বলতাম , আমারই আসা উচিত আপনার কাছে । তারপর আমি তাকে হাদীস বলতে অনুরোধ করতাম । সেই আনসার বেঁচে থাকতে দেখেছিল লোকজন আমাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন করছে । তখন সে বলেছিল , এই তরুণ আমার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান
( বর্ণনায় আল খাতিব আল বাগদাদী র: ) ।
Reply

Muslim Woman
04-14-2016, 05:39 AM
:sl:



ইবনে আব্বাস رضي الله عنهم বলেন , আমি হাদীসের জ্ঞান আনসারদের কাছ থেকে বেশি পেয়েছি । আমি তাদের দরজার সামনে অপেক্ষা করতাম । ভিতরে ঢোকার অনুমতি চাইলে পেতাম কিন্ত্ত আমি চাইতাম যে দেখা হওয়াটা যেন আনন্দের হয় ।


ইবনে আব্বাস সাহাবীদের বাসায় যেতেন হাদীস শুনতে । তখন তাকে যদি বলা হতো তিনি ঘুমাচ্ছেন , ডেকে দেব ? আব্বাস তাতে রাজী হতেন না । তিনি দরজার সামনে বসে সাহাবীর ঘুম ভাঙার অপেক্ষায় থাকতেন
( বর্ণনায় সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ , সূত্র আবু আল হুসাইন ) ।


মা’মার থেকে বর্ণিত , আয যুহরী বলেন , আমি যখন উরওয়ার বাসায় যেতাম , তখন চাইলে ঘরে ঢুকতে পারতাম । কিন্ত্ত আমি বাইরে বসে অপেক্ষা করতাম তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে ।

ইবনে জামাহ বলেন : জ্ঞানের ছাত্র হিসাবে কেউ তার শেখের অনুমতি না নিয়ে তার কাছে যাবে না । যদি তিনি প্রকাশ্যে বসে মানুষের সাথে আলাপরত থাকেন , তবে যেতে পারবে ।

ঘরের ভিতরে থেকে শেখ অনুমতি দিলে ছাত্র ঢুকবে । যদি অনুমতি না দেন , তবে ছাত্র আবারো অনুমতি চাইবে না বরং চলে যাবে । যদি ছাত্রের মনে সন্দেহ হয় যে শেখ জানেন না সে এসেছে , তাহলে আবারো অনুমতি চাইতে পারে - তবে তিনবারের বেশি নয় । যদি সে দরজায় ধাক্কা দেয় , তবে খুব ভদ্রভাবে ও আস্তে করে দেবে । প্রথম ও দ্বিতীয়বার আঙুল দিয়ে আস্তে করে দরজায় টোকা দেবে । তৃতীয়বার আঙুলের গাঁট দিয়ে দরজায় ধাক্কা দেবে । যদি শেখ দরজা থেকে দূরে থাকেন , তবে ছাত্র এতটুকু জোরে টোকা দিতে পারবে যাতে শেখ শব্দ শুনতে পান , তার চেয়ে বেশি জোরে না ।


যদি শেখ ঢোকার অনুমতি দেন ও সাক্ষাত করতে অনেকে একসাথে আসে , তবে যিনি সবচেয়ে বড় বা শ্রদ্ধেয় তিনি প্রথম ঘরে ঢুকে শেখকে সালাম জানাবেন । এরপর দ্বিতীয় সম্মানিত ব্যক্তি ঢুকবেন । এভাবে একের পর এক ঢুকবে ।
Reply

Muslim Woman
04-17-2016, 04:37 PM
:sl:



আনাস বিন মালিক র: বলেন , আমরা রাসূল صلى الله عليه وسلم এর দরজায় আঙুলের নখ দিয়ে টোকা দিতাম
( বর্ণনায় আল খাতিব র: ) ।


ইমাম বুখারী র: তার ‘ আল আদাব আল মুফরাদ ’ বইতে বলেন , এটা অপছন্দীয় যে যদি জানতে চাওয়া হয় - কে ওখানে , তবে ছাত্র জবাবে নিজের পরিচয় না দিয়ে শুধু বলবে : আমি । যদি দরজা খোলা থাকে , তবে সে ঘরের দিকে মুখ করে থাকবে না বরং দরজার ডানে বা বামে থাকবে ও ঘরের ভিতরে যারা আছে , তাদেরকে সালাম দেবে ।


ইমাম বুখারী র: তার সহীহ হাদীসে ঘরে ঢোকার অনুমতির বিষয়ে একটি পরিচ্ছদের শিরোনাম দিয়েছেন : ওখানে কে –এই প্রশ্নের জবাবে আমি বলা ।

জাবির رضي الله عنهم এর সূত্রে একটি ঘটনা এতে উল্লেখ করা হয় । জাবির বলেন , আমি একদিন আমার পিতার দেনা নিয়ে কথা বলার জন্য রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কাছে যাই । দরজায় টোকা দেয়ার পর রাসূল صلى الله عليه وسلم জানতে চান , কে ? বললাম , আমি । তিনি এমনভাবে বললেন , আমি , আমি - যেন তা অপছন্দ করেছেন ।


ইমাম বুখারী র: তার সহীহ বইতে একটি অধ্যায় লিখেছেন এই শিরোনামে : ‘ তাকানোর বদলে অনুমতি চাওয়া ’’ । এতে শাহল বিন সাদকে উদ্বৃত করে বলা হয়েছে - এক লোক রাসূল صلى الله عليه وسلم এর ঘরের ভিতরে উঁকি দিয়ে দেখছিল । তখন তিনি একটি লোহার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিচ্ছিলেন ।

তিনি যখন দেখলেন লোকটি অনুমতি ছাড়া তার ঘরের ভিতরে দেখেছে , তখন বললেন : যদি আমি জানতে পারতাম তুমি এভাবে তাকাচ্ছো , তাহলে আমি এই চিরুনি দিয়ে তোমার চোখে আঘাত করতাম । ঘরে ঢোকার অনুমতি চাওয়ার আদেশ এজন্য দেয়া হয়েছে যেন কেউ অবৈধভাবে মানুষের ঘরের ভিতরে না তাকায় ( ইমাম মুসলিমও এই ঘটনা তার সহীহ হাদীস বইতে উল্লেখ করেছেন ) ।
Reply

Muslim Woman
04-19-2016, 03:31 PM
:sl:




ইবনে জামাহ র: বলেন , একজন ছাত্র খুব ভালভাবে পোশাক পরে সুন্দরভাবে শেখের সাথে দেখা করতে যাবে । তার দেহ ও পোশাক পরিষ্কার থাকবে , চুল ও নখ ছাঁটা থাকবে ও সে সুগন্ধী মেখে যাবে - বিশেষত সে যদি অনেকের মধ্যে এসে বসতে চায় । কেননা , এই সমাবেশ হলো যিকির ও ইবাদতের ।

ছাত্র যদি শেখের কাছে গিয়ে দেখে তিনি কারো সাথে কথা বলছেন , যিকির বা কোন ইবাদত করছেন বা পড়াশোনা করছেন - আর তাকে দেখে তিনি সেই কাজ বন্ধ করেছেন ; তাহলে সালাম জানিয়ে সে চলে আসবে ।


যদি শেখ তাকে থাকতে বলেন , তাহলে সে থাকতে পারে । তবে বেশিক্ষণ থাকা ঠিক হবে না , যদি না শেখ তাকে নিজে থেকে বেশি সময় থাকতে বলেন । শেখের কাছে কেউ তখনই যাবে , যখন তার মন পবিত্র ও শান্ত থাকে অর্থাৎ কোন কারনে মন অশান্ত বা অমনোযোগী না । পিপাসা বা ক্ষুধা পেয়েছে , ঘুম পাচ্ছে , ক্লান্ত বা রেগে থাকা অবস্থায় শেখের কাছে সে যাবে না , যাতে শেখ যা বলছেন তার প্রতি সে পুরো মনোযোগ দিতে পারে ।
যদি শেখের সন্ধানে গিয়ে ছাত্র তাকে খুঁজে না পায় , তাহলে অপেক্ষা করবে যেন কোন ক্লাশ বাদ না যায় । কোন ক্লাশ বাদ যাওয়া মানে সেই ক্ষতি আর পূরণ হওয়ার নয় । যদি শেখ ঘুমে থাকেন , তাহলে ছাত্র অপেক্ষা করবে বা পরে আসবে - ধৈর্য ধরা তার জন্য উত্তম ।



ইবনে আব্বাস র: জ্ঞান অর্জনের আশায় যায়াদ বিন সাবিতের বাসার সামনে বসে থাকতেন । যদি বলা হতো , তিনি ঘুমাচ্ছেন , তাকে কি ঘুম থেকে ডেকে দিব ? আব্বাস তাতে না বলতেন । প্রখর রোদে বসে তিনি অপেক্ষা করতেন - সালাফরা এমনই ছিলেন ।


একজন ছাত্র তার শেখকে বিশেষ কোন সময়ে বা আলাদাভাবে তাকে শেখাবার জন্য অনুরোধ করবে না , যদিও সে কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে থাকে । সাধারণত শেখ যে সময়ে শেখান , সেই সময়ের বাইরে গিয়ে বা তার কোন অসুবিধা করে কোন অনুরোধ ছাত্র করবে না । সেটা হবে নিজেকে বড় করে দেখানো এবং শেখ এবং জ্ঞানের পথের অন্য ছাত্রদের হেয় করা ।

শেখ হয়তো লজ্জায় এমন অনুরোধকে প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না । ফলে ঐ সময়ের অন্য কোন গূরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে তাকে ছাত্রের অনুরোধ রক্ষা করতে হবে । তবে যদি সত্যিকারের কোন কারণ থাকে যাতে শেখের সাথে তার আলাদাভাবে সময় কাটানো দরকার , তবে সে এমন অনুরোধ করতে পারবে ।



শেখের ক্লাশে গিয়ে তার থেকে কিছুটা দূরত্ব রক্ষা করে বসতে হবে । উমর বিন আল খাত্তাব (র: ) কে ঘিরে বসে লোকজন তার কথা শুনছিল । কাব সেখানে গিয়ে বেশ দূরত্ব রেখে বসলে উমর র: তাকে ধমক দিলেন ।


কাব তখন বলেন , হে বিশ্বাসীদের নেতা , জ্ঞানী লোকমান رضي الله عنهم তার ছেলেদেরকে উপদেশ দেন : তোমরা যখন শাসকের পাশে বসবে , তখন দু’জনের মধ্যে এই পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রাখবে , যেন একজন এসে বসতে পারে । তা না হলে , তোমার থেকে গুরুত্বপূর্ণ কেউ যদি তার কাছে আসে , তখন তোমাকে জায়গা ছেড়ে উঠে পড়তে হবে , তা হবে তোমার জন্য অসম্মানের ( বর্ণনায় সুফিয়ান বিন উমাইনাহ ) ।
Reply

Muslim Woman
04-23-2016, 04:29 PM
:sl:



শেখের সামনে বসার সময় ছাত্র অবশ্যই শান্ত , নম্র হয়ে শিক্ষকের দিকে মুখ করে বসবে । তার পুরো মনোযোগ থাকবে শিক্ষকের কথার দিকে । বিনা দরকারে সে শিক্ষকের দিক থেকে মুখ সরিয়ে নেবে না বা ডানে , বামে , উপরে , নিচে তাকাবে না ; বিশেষ করে যখন সে শিক্ষকের কাছে পড়ছে বা তার সাথে কথা বলছে। আশেপাশে কী ঘটছে বা অন্য কেউ কিছু বললো কি না , এসব জানতে সে অন্যদিকে তাকাবে না । নিজের কাপড় থেকে ধূলা – ময়লা সরাবে না ও কোন কারণে বিরক্তিবোধ করলে হাত –পা নাড়বে না ।


নাকের ভিতরে হাত ঢুকাবে না ; হাত ছড়িয়ে রাখবে না ও মুখে –গালে - কপালে রাখবে না । হাই তুলবে না বা দাঁত খৌঁচাবে না , কার্পেটের উপর আঙুল দিয়ে লাইন টানবে না , আঙুল মটকাবে না , কাপড় ধরে টানাটানি করবে না ।

শেখের উপস্থিতিতে একজন ছাত্র দেয়াল ও বালিশে হেলান দেবে না বা সেখানে হাত রাখবে না । সে শেখের দিকে পিঠ ফেরাবে না বা একপাশ ফিরে বসবে না । হাতের উপর ভর দিয়ে বসবে না বা খামোকা কথা বলবে না । শেখের সামনে বসে হাসি – তামাশা করা , বোকার মতো বা অভদ্রভাবে কথা বলা – এসব কিছু সে করবে না ।

বিনা কারনে হাসবে না ও শেখ না হাসা পর্যন্ত সে নিজে হাসবে না । কোন কারণে হাসি পেলে আওয়াজ না করে হাসবে । শেখ উপস্থিত থাকলে সে বারবার গলা সাফ করবে না ; সম্ভব হলে নাক ঝাড়বে না বা থুথু ফেলবে না । যদি নাক সাফ করতেই হয় , তাহলে সবার সামনে সর্দি ফেলবে না , বরং রুমাল বা টিস্যু কাগজ ব্যবহার করবে বা কাপড়ের এক কোনা দিয়ে নাক সাফ করবে ।


সে পা ঢেকে বসবে ; তার কাপড় লম্বা , ঢিলা হবে ও সে পড়ার সময় হাত স্থির রাখবে । হাই উঠলে মুখ ঢেকে রাখবে ।
Reply

Muslim Woman
04-24-2016, 04:34 PM
:sl:




আলী رضي الله عنهم বলেন , এটা জ্ঞানীদের অধিকারের মধ্যে যে তুমি সমবেত মানুষকে সালাম দেয়ার পাশাপাশি আলাদাভাবে শেখকেও সালাম জানাবে । তুমি তার সামনে এসে বসবে , এদিক – সেদিক তাকাবে না বা কাউকে চোখের ইশারা করবে না । তার কাছে এসে বলবে না অমুক অমুক আপনার সাথে ঐ বিষয়ে একমত না ।

শেখের উপস্থিতিতে কারো নামে গীবত করবে না । তাকে জটিল প্রশ্ন করবে না । যদি শেখ কোন ভুল করেন , তবে তার সমর্থনে অজুহাত খুঁজো ও শেখকে সম্মান করবে আল্লাহর সন্ত্তষ্টির জন্য । যদি শেখের কিছু দরকার থাকে , অবশ্যই তুমি প্রথম এগিয়ে গিয়ে তার দরকার পূরণে চেষ্টা করবে । তার সামনে বা তাকে ঘিরে যারা থাকে , শেখের আসরে বসে তাদের মনোযোগ তোমার দিকে আকর্ষণের চেষ্টা করবে না । শেখের কাপড় ধরে টানবে না ।

শেখ যদি খুব ক্লান্ত থাকেন , তবে কোনকিছুর জন্য জোর করবে না । এটা মনে করবে না যে তুমি তার বন্ধু । শেখ হচ্ছেন তাল গাছের মতো - যা থেকে কোনকিছু পরার অপেক্ষায় তুমি থাকবে ।
আলী رضي الله عنهم যা উপদেশ দিয়েছেন , তা প্রয়োজনের চেয়েও যথেষ্ট । তাই নম্রতা ও শান্তভাব – এই দুইটি বৈশিষ্ট্য জ্ঞান চর্চার আসরের যে ছাত্র তার থাকতে হবে এবং আদব সম্পর্কে জানা তার জন্য অপরিহার্য ।

সালাফরা জ্ঞানের আসরকে অত্যন্ত সম্মান করতেন ও এমনভাবে সেখানে বসতেন ঠিক যেন পাখি বসে আছে । আবু বকর বিন আল আম্বারী বলেন , পাখির মতো বসা কথাটির দুইটি ব্যাখ্যা হতে পারে । একটি হলো তারা স্থির হয়ে আসরে বসে থাকতেন , দৃষ্টি নত রাখতেন আর পাখিরা স্থির নয় এমন জায়গা ছাড়া বসে না । যে মানুষ খুব শান্ত , নম্র - তার সম্পর্কে বলা হয় - এই ধীর-স্থির ভাবের জন্য পাখি এসে তার মাথায় বসতে পারে ।

দ্বিতীয় মানে হলো , হজরত সোলায়মান বিন দাউদ আলাইহিস সালাম বাতাসকে বলতেন - আমাদের বহন করে নিয়ে চলো ও পাখিকে বলতেন , ছায়া দাও । বায়ু তাদেরকে ভাসিয়ে নিয়ে যেত আর পাখিরা ছায়া দিতো ।
তার সাথীরা শ্রদ্ধায় দৃষ্টি নত রাখতো ও একদম স্থির বসে থাকতো । তিনি কিছু জানতে না চাওয়া পর্যন্ত তারা কোন কথা বলতো না । তাই জ্ঞানী ব্যক্তির সামনে কেউ যদি একদম ধীর – স্থির হয়ে বসে থাকে , তবে তাকে নবী সুলায়মান আলাইহিস সালামের সাথীদের সাথে তুলনা করা হয় ।
Reply

Muslim Woman
04-26-2016, 07:20 AM
:sl:




আল খাতিব র: থেকে বর্ণিত আহমেদ বিন সিনান আল কাততান বলেন : আবদুর রহমান বিন মাহদীর আসরে কেউ কথা বলতো না , পেন্সিল ধার করতো না বা হাসতো না ।

যদি তিনি দেখতেন কেউ কথা বলছে বা পেন্সিল ধার দিচ্ছে , তাহলে তিনি উঠে জুতা পরে চলে যেতেন । শেখ ওয়াকী ও তার ছাত্ররা এমনভাবে জ্ঞানের আসরে থাকতেন যেন তারা ইবাদতে আছেন । যদি এমন কিছু ঘটতো যাতে তিনি বিরক্ত হতেন , তাহলে জুতা পায়ে দিয়ে তিনি বাসায় চলে যেতেন ।


ইবনে নুমায়ের যদি দেখতেন কেউ আসরে বসে পেন্সিলে ধার দিচ্ছে , তাহলে রাগে তাঁর মুখের রং বদলে যেত ও তিনি ক্লাশ ছেড়ে চলে যেতেন ( বর্ণনায় আবদুর রহমান বিন উমর ) ।
Reply

Muslim Woman
04-28-2016, 05:03 AM
:sl:



আবদুর রহমান বিন উমর বলেন : একজন ছাত্র আবদুর রহমান বিন মাহদীর আসরে হেসে উঠে । তিনি প্রশ্ন করেন , কে হেসেছে ? সবাই আঙুল তুলে তাকে দেখিয়ে দেয় । তিনি তাকে ধমক দিয়ে বললেন , তুমি জ্ঞানের সন্ধান করছো আর হাসছো ? আমি তোমাদের কাউকে এক মাস পড়াবো না ।


জ্ঞানের ছাত্র হিসাবে সে তার শেখের সাথে সর্বোচ্চ ভাল ব্যবহার করবে । সে এভাবে শেখের সাথে কথা বলবে না - কে এটা বলেছে বা কেন এটা নয় বা আপনি কিভাবে এটা জানেন ইত্যাদি । ছাত্র যদি শেখকে কিছু মনে করিয়ে দিতে চায় যা তিনি আগে বলেছিলেন , তাহলে এভাবে বলবে না যে আপনিই এটা বলেছিলেন বা আমি শুনেছি এটা এমন বা অমুক বলেছে এটা এই হবে । এ নিয়ে কথা বলার আগে সে জেনে নেবে এই বিষয়ে শেখের মনোভাব কী । অন্যরা শেখের মতামত নিয়ে কী বলেছে , সে নিয়ে কথা বলার ব্যপারে এটাই হলো প্রকৃত আদব । এছাড়াও ছাত্র তার শিক্ষকের সাথে এই ভাষায় কথা বলবে না যে , ব্যপার কী বা আপনি বুঝেছেন তো বা আপনি কি জানেন ইত্যাদি ।


অন্যরা যদি তার শিক্ষক সম্পর্কে খারাপ কিছু বলে থাকে যেটা তিনি জানেন না , তাহলে সরাসরি এভাবে বলবে না যে অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলেছে । বলতে হলে এভাবে বলা যেতে পারে যে , অমুক বলেছে কারো মধ্যে সদগুণ না থাকলে সে রহমত থেকে দূরে থাকে ইত্যাদি ।

শেখ হয়তো এমন কোন ফতোয়া বা কাহিনী বা কবিতা বললেন , যা সে আগে থেকেই জানতো । তবুও সে এমন মনোযোগ দেখাবে যে সে এটা জানতে পেরে খুশি ও মনোযোগের সাথে সে তা শুনবে এবং এমন ভাব দেখাবে যেন শেখের কাছ থেকেই প্রথম সে এটি শুনলো ।


সে শেখের সামনে নিজের জ্ঞান জাহির করার জন্য শেখের আগে আগে কোন কিছু নিয়ে মন্তব্য করা , কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা করা বা কারো প্রশ্নের জবাবে কিছু বলা - এসব করবে না । সে কথার মাঝখানে শেখকে থামাবে না ও শেখের কথার মাঝখানে কিছু বলে উঠবে না । শেখ যদি আসরে বসে তার সাথে বা অন্য কারো সাথে কথা বলতে থাকেন , তাহলে সে অন্য কারো সাথে ঐ সময় কথা বলবে না ।

Reply

Muslim Woman
04-30-2016, 04:23 PM
:sl:



যদি সে শেখকে কোন বই এগিয়ে দেয় , তবে এমনভাবে দেবে যাতে শেখ সহজেই বইটা ধরে খুলতে পারেন । যদি ছাত্রের জানা থাকে ঠিক কী বিষয়টি শেখ বইতে দেখতে চাচ্ছেন , তাহলে সে পাতা খুলে তারপর বইটি শেখের হাতে দেবে ও বিষয়টি পাতার কোন জায়গায় তা শেখকে দেখিয়ে দেবে । বইটি সে শেখের সামনে ছুড়ে মারবে না ।

যদি সে রাতে শেখের সাথে হাঁটতে বের হয় , তবে সে শেখের সামনে থাকবে । বেশি ভীড় বা অন্য কোন যথাযথ কারণ না থাকলে সে দিনের বেলা শেখের পিছনে থাকবে । যদি বিদেশে বা বিপদজনক এলাকায় তারা থাকে , তবে শেখের সামান্য সামনে থাকবে । সে সাবধান থাকবে যেন শেখের কাপড়ে নোংরা - ময়লা না লাগে । যদি খুব ভীড়ের মধ্যে হাঁটতে হয় , তবে সে শেখকে হাত দিয়ে ঘিরে রাখবে সামনে বা পিছন থেকে । যদি সে শেখের সামনে হাঁটে , তবে একটু পরপর পিছনে তাকিয়ে দেখবে । যদি শুধু তারা দু’জন হাঁটা অবস্থায় থাকে ও শেখ তার সাথে কথা বলেন , তাহলে সে অবশ্যই শেখের ডানে , কেউ বলেন বামে থাকবে ও মুখ তার দিকে ফিরিয়ে রাখবে ।


যদি পথে কারো সাথে দেখা হয় , তবে সে তাদের কাছে শেখের পরিচয় জানাবে । কোন কারণ ছাড়া সে শেখের ঠিক পাশাপাশি হাঁটবে না । শেখের একদম গাঁ ঘেষে সে থাকবে না । শেখের গায়ে বা পায়ে ধাক্কা লাগাবে না বা শেখের কাপড়ে যেন ময়লা না লাগিয়ে ফেলে - এসব বিষয়ে সে সচেতন থাকবে ।


গরমকাল হলে শেখকে সে ছায়ায় বসাবে ; শীতের রোদে বসতে হলে এমনভাবে বসাবে যেন শেখের ঠিক মুখের উপর রোদ না পড়ে । শেখ যদি কারো সাথে কথা বলতে থাকেন , তবে সে দু’জনের খুব কাছে আসবে না , তাদের কথা শোনার চেষ্টা করবে না বা তাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে না । যদি তারা ডাকেন আলাপে অংশ নিতে , তাহলে সে তাদের ডানে বা বামে থাকবে - মাঝখানে আসবে না ।



যদি কখনো সে শেখকে রাস্তায় দেখতে পায় , তাহলে সে প্রথমে সালাম জানাবার উদ্যোগ নেবে - শেখের দিকে সে তাকাবে , কাছে যাবে ও সালাম দেবে । সে দূর থেকে শেখের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করবে না । কোনকিছু নিয়ে কথা হলে সে সুন্দরভাবে শেখের উপদেশ মতো চলবে ।


যদি শেখ কোন ভুল উপদেশ দেন , তাহলে শেখকে এভাবে বলবে না যে - আপনি ভুল বলেছেন বা এই মতটা তেমন জোরালো না । বরং সুন্দরভাবে এভাবে বলবে , মনে করা হয় এই বিষয়ে এরকমটি সবচেয়ে ঠিক । সে এটা বলবে না - আমি মনে করি এটা ঠিক ইত্যাদি ।
Reply

Muslim Woman
05-01-2016, 04:18 PM
:sl:



.বইয়ের যত্ন নেবে

বই হলো জ্ঞানের হাতিয়ার । সালাফরা বইয়ের ব্যপারে খুবই যত্নশীল ও সাবধানী ছিলেন । বই সংগ্রহের ব্যপারেও তারা সবরকম উদ্যোগ নিতেন ।


জ্ঞানের ছাত্র হিসাবে একজন তার দরকারী বই সংগ্রহ করতে সব রকম চেষ্টা করবে । সেটা কিনে হতে পারে , বই ভাড়া বা ধার নিয়ে হতে পারে । এসব বই থেকে সে শেখে । শুধু বই সংগ্রহ করার মধ্যে সে জ্ঞানকে সীমিত রাখবে না । এ নিয়ে চমৎকার একটি কথা হলো : তোমার স্মৃতিশক্তি যদি ভাল না হয় , তাহলে সংগ্রহ করা বই তোমার কোন উপকারে আসবে না ।


যারা বইয়ের কোন ক্ষতি করবে না , তাদেরকে বই ধার দিতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে । তবে একদল জ্ঞানী আছেন যারা বই ধার দিতে মানা করেন । তবুও তা করবে , কেননা এর মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জনে অন্যকে সাহায্য করা হয় । যে বই ধার নেয় , সে অবশ্যই বইয়ের মালিককে ধন্যবাদ দেবে ও তার কল্যাণ কামনা করবে ।

খুব দরকার না হলে ধার করা বই বেশিদিন নিজের কাছে রাখা ঠিক না । যা পড়ার জন্য বই ধার নিয়েছিলে , সেটা পড়া হয়ে গেলে বই ফেরত দিয়ে আসবে ।

তাছাড়া বইয়ের মালিক যখন ফেরত চাইবে , তখন তা ফিরিয়ে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেয়া ঠিক না । মালিকের অনুমতি ছাড়া সে বইয়ের ভিতরে কোন টীকা লিখতে পারবে না । তাছাড়া বইয়ের শুরু বা শেষেও সে মালিককে না বলে কিছু লিখবে না ।

দরকার ছাড়া সে অন্যকে এই বই ধার দেবে না বা অন্যের কাছে রেখে আসবে না । যদি সে বইয়ের কোন অংশ অনুলিপি করতে চায় , তাহলে বইয়ের উপর বা বইয়ের মধ্যে কাগজ রেখে লিখবে না । বইয়ের উপর কলম খোলা রেখে দেবে না ও বইয়ের পাতার উপরে কিছু লিখবে না ।
Reply

Muslim Woman
05-02-2016, 07:10 AM
:sl:



ওয়াকী বলেন , হাদীসের প্রথম রহমত হলো তুমি তোমার বই ধার দেবে (বর্ণনায় আল খাতিব র: ) । সুফিয়ান আস সাওরী র: বলেন , যে তার জ্ঞানকে নিজের মধ্যে সীমিত রাখে , সে নিচের তিন ধরনের পরীক্ষার যে কোন একটির মুখোমুখি হবে --

১. সে ভুলে যাবে ও কিছু মুখস্থ করতে পারবে না ,

২. সে এই জ্ঞান থেকে কোন উপকার পাবে না অথবা

৩. সে দেখবে তার সব বই একে একে হারিয়ে যাচ্ছে ।

এটা অপছন্দনীয় যে বইয়ের মালিকের কাছ থেকে বই বেশি দিন দূরে রেখে দেয়া হবে । তাই যে বই ধার নেয় , সে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বই ফেরত দেবে ।


আয যুহরী বলেন : ও ইউনুস , বইয়ের বিশ্বাসঘাতকতা থেকে সাবধান থাকবে । ইউনুস জানতে চান , সেটা কী ? তিনি বলেন , যার বই তার থেকে বই বেশিদিন দূরে সরিয়ে রাখা ।


আল ফুদায়েল বিন ইয়াদ র: বলেন , যারা সাবধানী বা জ্ঞানী , এটা তাদের কাজ না ; তারা কখনো অন্যের বই নিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন নি । যে এমন করে সে নিজের সাথে অন্যায় করলো ।

এসব জ্ঞানীদের অনেকেই কাউকে বই ধার দিতেন না এজন্য যে , মালিক থেকে বইকে বেশিদিন দূরে রাখা ঠিক না , যেমনটি সুফিয়ান র: বলতেন , তোমার কোন বই কাউকে ধার দেবে না । রাবী বিন সুলায়মান বলেন , আল বুতি আমাকে লিখেন , তোমার সব বই মুখস্থ করে ফেলো । কেননা যদি তুমি কোন বই হারিয়ে ফেলো , তাহলে কখনো সেই ক্ষতি পূরণ হবে না ।
Reply

Muslim Woman
05-04-2016, 03:57 PM
:sl:


বই থেকে কিছু লেখার সময় বা অন্য কোন সময় মেঝেতে বই খোলা রাখা ঠিক না । বরং অন্য দুইটি বই বা কোন কিছুর মাঝখানে রাখবে বা বই রাখার জন্য যে ফোল্ডিং চেয়ার ব্যবহার হয় , তার মাঝখানে রাখবে যেন বইয়ের বাঁধাই নষ্ট না হয় ।

যদি সে বইটি কোন উঁচু জায়গায় রাখতে চায় , তাহলে বইয়ের তাকে বা চেয়ার ইত্যাদির উপর রাখবে । মাটিতে বই না রাখাই সবচেয়ে ভাল , কেননা মাটিতে বই রাখলে তা ময়লা হয়ে যায় বা পানি লেগে বই ভিজে যায় । যদি সে কাঠের উপর বই রাখতে চায় , তাহলে কাপড় পেতে তার উপর রাখবে যেন বইয়ের প্রচ্ছদ নষ্ট না হয় ।


বই কিভাবে গুছিয়ে রাখা হচ্ছে সে বিষয়ে একজন বিশেষভাবে মনোযোগী হবে । এটি করা হবে বইয়ের গূরুত্ব , মর্যাদা ও দরকার বুঝে । সবচেয়ে পবিত্র বই সবার উপরে রাখবে । যদি তার পাঠাগারে কুরআন শরীফ থাকে , তবে সব বইয়ের উপরে এটি থাকবে । সবচেয়ে ভাল হয় যদি কুরআন একটি কাপড়ের মধ্যে রেখে দেয়ালের কোন তাকে হাতের নাগালের ভিতরে রাখা হয় ।


এর পরে রাখতে হবে হাদীসের বইগুলি যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম । এরপর কুরআন তাফসীর , তারপর হাদীসের ব্যাখ্যা , এরপর ধর্মীয় নীতি ( উসুল ) , এরপর ফিকাহ বিষয়ক নীতি, তারপর ফিকাহ শাস্ত্র , তারপর আরবী ভাষা ও ব্যকরণ , তারপর আরবী কবিতা , পরে সাধারণ কবিতার বই ।
Reply

Muslim Woman
05-06-2016, 07:45 AM
:sl:


যদি শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে একই বিষয়ের দু’টি বই একই মানের হয় , তবে যে বইতে কুরআন বা হাদীসের পরিমাণ বেশি আছে , তা রাখবে উপরে । যদি এই দুইয়ের পরিমাণও এক হয় , তবে দুই বইয়ের লেখকদের মধ্যে যার মর্যাদা বেশি তার বই উপরে রাখবে । যদি দুই লেখকই একই মর্যাদার অধিকারী হয়ে থাকেন , তবে বইয়ের মধ্যে যেটি বেশি পুরানো ও বহুল স্বীকৃত , সেটা রাখবে ।

যদি এই ক্ষেত্রেও দুই বই সমান হয় , তবে যেটি বেশি যথার্থ ও বিশ্বাসযোগ্য , সেই বই বেছে নিবে । যদি কেউ কোন বই ধার নেয় , তবে যার বই সে ফেরত চাওয়া মাত্র তাকে তা দিয়ে দিবে । যদি সে কোন বই কেনে ও তা ভালভাবে পড়ার সময় না থাকে , তবে সে অবশ্যই বইটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চোখ বুলাবে ও বইটির মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবে ।
যদি যে কোন বই থেকে কিছু হাতে লিখে অনুলিপি করে , তবে সে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম লিখে শুরু করবে ।

যদি বইটির শুরু হয় আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে বা আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর উপর দুআ চেয়ে , তবে সে বিসমিল্লাহ লেখার পরে সেগুলি লিখবে । এরপর সে যা লিখতে চায় , বই থেকে তা লিখবে ।


যখনই কেউ আল্লাহর নাম লিখবে , আল্লাহ শব্দের সাথে সে উচ্চ মর্যাদাবাচক কিছু লিখবে ,
যেমন তাআলা ( যিনি উচ্চ মর্যাদাবান ) , সুবহানা ( তিনি মহিমান্বিত ) , আযযা ওয়া জাল ( যিনি সর্বশক্তিমান ও মহিমান্বিত ) , তাকাদদাস ( নিখুঁত ) ইত্যাদি ।
যখনই সে রাসূল صلى الله عليه وسلم এর নাম লিখবে , তার সাথে সে লিখবে - আস সালাতু ওয়াস সালামু আলাইহি ( তার উপর দরুদ ও সালাম ) । লেখার সময় সে মুখেও তা বলবে ।


সালাফ ও তার পরে যারা এসেছেন , তাদের রীতি ছিল এসব শব্দ পুরোপুরি লেখার - যদিও তা হয়তো বারবার একই বাক্যে লিখতে হতো । আজকালকার লেখকদের মতো তারা সংক্ষেপে কখনো স: বা দ: লিখতেন না । এভাবে লিখলে আমাদের উপর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর যে অধিকার আছে , তা নষ্ট করা হয় ।
Reply

Muslim Woman
05-10-2016, 04:50 PM
:sl:


লেখার সময় যদি কোন সাহাবীর প্রসঙ্গ আসে - বিখ্যাত বা গূরুত্বপূর্ণ সাহাবী হলে তো কথাই নেই , অন্যদের বেলাতেও সে অবশ্যই লিখবে রাযি আল্লাহু আনহু ( আল্লাহ তার প্রতি সন্ত্তষ্ট হোন ) - সে সালাম ও দরুদ পেশ করবে না যা নবী ও ফিরিশতাদের জন্য করা হয় ।


যদি কোন সালাফদের বিষয়ে লিখতে হয় , বিশেষ করে বিখ্যাত কেউ বা ইসলামের নেতৃস্থানীয় কেউ , তবে তার নামের পরে লিখতে হবে রাহিমাহু আল্লাহ ( আল্লাহ তাকে মাফ করুন ) ।


বই নিজের হলে সেখানে টীকা বা কোন গূরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখতে কোন সমস্যা নেই । তবে যা লিখবে তা যেন দরকারী কথা হয় ও সেই বইয়ের বিষয় সংশ্লিষ্ট হয় । তবে অনেক কথা ও বিষয়ের সাথে সম্পর্ক নেই বা তেমন দরকারী না - এসব বিস্তারিত লিখে বইয়ের পাতা ভরে ফেলবে না ও জায়গা নষ্ট করবে না ।

বইয়ের দুই বাক্যের মাঝে লিখবে না । যদিও অনেকে কালো কালির মাঝে লাল রং ব্যবহার করে লিখে , তবে উত্তম হলো এটা একদমই না করা ।
Reply

Muslim Woman
05-13-2016, 05:47 PM
:sl:


১০. যেভাবে পড়তে হবে

যে ছাত্র জ্ঞানের সন্ধানে আছে , সে অবশ্যই খুব ভোরে পড়াশোনা শুরু করবে । সালাফরা এই নিয়মটি গুরুত্বের সাথে মেনে চলতেন ।
আবদুল্লাহ বিন আহমদে বিন হাম্বাল বলেন , তার পিতা বলতেন – মাঝেমাঝে আমি শেষ রাতে উঠে হাদীস শোনার জন্য বাইরে যেতে চাইতাম । মা তখন আমার কাপড় টেনে ধরে বলতেন , অন্তত আজান হওয়া আর মানুষজনের ঘুম থেকে উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করো । আমি খুব ভোরেই আবু বকর বিন আইয়ামের হাদীসের আসরে যেতাম ।

একজন ছাত্র যখন ক্লাশে ঢুকবে , তখন সে পুরো মনোযোগ পড়াতে দেবে , তার মনকে অন্য সব চিন্তা থেকে সে দূরে রাখবে । সে তার সহপাঠীদেরকে সালাম জানাবে ও শেখকে আলাদাভাবে অত্যন্ত সম্মানের সাথে সালাম দেবে । এরপর সে আসরের এক কোনায় বসবে ও সহপাঠীদের মাঝখানে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করবে না , যদি না শেখ বা সহপাঠীরা তাকে সামনে এগিয়ে আসতে বলে যেমনটি আল বুখারী র: বলেন :

একবার রাসূল صلى الله عليه وسلم মসজিদে কিছু মানুষের সাথে বসেছিলেন । তিনজন মানুষ তখন আসে , দু’জন রাসূল صلى الله عليه وسلم এর সামনে এসে কিছু সময় ধরে দাঁড়িয়েছিল । এরপর একজন বসার জায়গা পেয়ে বৃত্তের মধ্যে বসে । অন্যজন বৃত্তের পিছনে গিয়ে বসে , তৃতীয়জন চলে যায় ।


রাসূল صلى الله عليه وسلم যখন তার কথা শেষ করলেন , তখন বললেন , আমি কি তোমাদেরকে এই তিনজন সম্পর্কে বলবো ? একজন নিজেকে আল্লাহর কাছে নিয়ে গেল , তাই আল্লাহ তাকে নিজের কাছে নিলেন । একজন আল্লাহকে লজ্জা পেল , তাই আল্লাহও তাকে শাস্তি দিতে লজ্জা পেলেন । তৃতীয়জন আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে গেল ; তাই আল্লাহও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ( সহীহ বুখারী , সূত্র : আবু ওয়াকিদ আল লাইযী )।
Reply

Muslim Woman
05-19-2016, 06:01 AM
:sl:


সে ছাত্র কাউকে জায়গা ছেড়ে উঠে যেতে বলবে না । কেউ যদি কখনো তার জায়গায় বসে , তবে সে তাকে উঠতে বলবে না , যদি না তাতে তার কোন কল্যাণ থাকে ।

কোন দরকার ছাড়া সে আসরের মাঝখানে গিয়ে বসবে না । সে অনুমতি ছাড়া দু’জন ব্যক্তির মাঝে বসবে না । সে শেখের কথা ভালভাবে বোঝার জন্য কাউকে বিরক্ত না করে যতদূর সম্ভব তার কাছে বসার চেষ্টা করবে ।

সে বন্ধু ও সহপাঠীদের সাথে খুব ভাল ব্যবহার করবে । কেননা এর মধ্য দিয়ে শেখ ও তার ক্লাশের প্রতি সম্মান দেখানো হয় । ক্লাশ ও সেখানকার জ্ঞান চর্চা হলো পবিত্র ও কোনভাবেই এসবের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করা যাবে না ।

সে শিক্ষকের মতো করে নয়বরং ছাত্রসুলভ নম্রতার সাথে আসরে বসবে । কোন দরকার ছাড়া সে জোরে কথা বলবে না ,বরং শেখের সামনে সে পুরো মনোযোগী হয়ে বসে তার কথা শুনবে । শেখের আগেই কোন প্রশ্নের জবাব দেবে না বা কিছু ব্যাখ্যা করা শুরু করবে না ।


সে তার পাঠ শুরু করবে এভাবে : আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি ক্ষমাশীল , সব প্রশংসা আল্লাহর ও তাঁর রাসূল صلىاللهعليهوسلم এর , তার পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের প্রতি দরুদ ওসালাম ।

এরপর সে জ্ঞানী , শিক্ষকবৃন্দ , তার অভিভাবক ও মুসলিম উম্মাহর জন্য দুআ করবে ।

Reply

Muslim Woman
05-20-2016, 04:38 PM
:sl:


ক্লাশে একজন ছাত্রের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন তার শেখ । তার মনে যদি অন্য কোন চিন্তা থাকে বা সে যদি ক্লান্ত থাকে বা তার যদি একঘেয়েমি লাগে , তখন সে পড়বে না ।

সে কোন প্রশ্ন নিয়ে শেখকে পীড়াপীড়ি করবে না বরং ভদ্র , শান্ত , নরমভাবে জানতে চাইবে । সে সময় ও জায়গা বুঝে প্রশ্ন করবে । যথাসময়ে সঠিক প্রশ্ন করতে সে যেন লজ্জা না পায় । যদি শেখ তাকে প্রশ্ন করেন , তুমি কি বুঝেছ ? তাহলে যদি না বুঝে থাকে ,তবে সে হ্যাঁ বলবে না । আমি বুঝতে পারি না বা আমি জানি না - এটা বলতে সে লজ্জা পাবে না ।

মুহাজিদ র: বলেন , যে বেশি লাজুক বা উদ্ধত , সে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না । আয়শা رضي الله عنهم বলেন , আনসার নারীরা কতই না ভাল । তারা তাদের লজ্জাকে ধর্ম সম্পর্কে জানতে চাওয়ার বেলায় বাধা হতে দেয় নি ।

আল খলিল বিন আহমদ رضي الله عنهم বলেন , অজ্ঞতার বাস হলো লজ্জা ও ঔদ্ধত্যের মাঝখানে ।
Reply

Muslim Woman
05-25-2016, 07:46 AM
:sl:



শেষ কথা


জ্ঞানের পথের ছাত্রের আচরণ কেমন হবে , তা আল্লাহর করুণায় স্পষ্ট ব্যাখ্যা করা হলো । তাই জ্ঞান চর্চাকারীর জন্য এটা অপরিহার্য যে সে এসব গুণ ও বৈশিষ্ট্য অর্জনের জন্য সবরকম চেষ্টা করবে , এসব মেনে চলবে , ভাল আদবের মাধ্যমে অন্তর ও বাইরের দিককে সুন্দর করবে ।


আমি আল্লাহর একজন দীন - হীন - পাপী বান্দা ; আমার দোষের সীমা নেই ; সবসময়ই আমি নানা ফাঁদে পা দেই - আল্লাহর কাছে এই পাপী বান্দার আকুল আবেদন - এসব আদবকে যেন সেই সব ছাত্র ও জ্ঞান চর্চাকারীকে পুরস্কার হিসাবে দেয়া হোক যারা তাদের নিয়্যত শুধু আল্লাহর সন্ত্তষ্টির জন্য করে ।

আমি আল্লাহকে তাঁর মাহাত্ম্য ও নূরের উসীলায় আবেদন জানাই - এই আবেদন এমন একজনের যে দীন ,হীন , ভীত ও দুর্বল - আবেদনটি হলো তিনি যেন মুসলমানদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে এমনভাবে পরিচালিত করেন যেন তার মধ্যে শিরক ও বেদাতের কোন জায়গা না থাকে - অবশ্যই তিনি এমনটি করতে সমর্থ । হে আল্লাহ , সব প্রশংসা আপনার , আপনি মহান । আমি সাক্ষ্য দেই যে আপনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই ।

আমি তওবা করছি , হে আল্লাহ , আপনি আমাকে মাফ করুন ।


শুরু ও শেষে সব প্রশংসা আল্লাহর , অসংখ্য ও পরিপূর্ণ দরুদ ও সালাম
রাসূল صلى الله عليه وسلم , তার পরিবার ও সাহাবীদের উপর । আমাদের চূড়ান্ত আহবান হলো সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি জগতসমূহের রব ।


যোগাযোগ / লেখা নিয়ে মতামত পাঠান : jabin.hamid@gmail.com
Reply

Muslim Woman
07-22-2017, 02:09 PM
Originally Posted by Muslim Woman
:sl:




আদব ( জ্ঞান চর্চাকারীর আদব-কায়দা )

আরবী : শেখ আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ সাঈদ রাসলান, সৌদি আরব।

ইংরেজী অনুবাদ: আবু সাবাইয়া

ইংরেজী থেকে অনুবাদ: জাবীন হামিদ, বাংলাদেশ।


"আমি ত্রিশ বছর ধরে আদব শিখেছি আর জ্ঞান চর্চায় সময় দিয়েছি বিশ বছর"


-আবদুল্লাহ বিন আল মুবারক।




সূচি :

ভূমিকা

১. জ্ঞানের সন্ধান করার সময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিয়ত পরিশুদ্ধ করতে হবে

২. শরীয়াহ বিরোধী সবকিছু থেকে মন ও আচরণকে শুদ্ধ করতে হবে

৩. জ্ঞানের দিকে পুরো মনোযোগ দিতে হবে ও সব বাধা দূর করতে হবে

৪. কম খাও , সাবধান হও ও সবসময় আল্লাহর যিকির করো

৫. খাওয়া , ঘুম ও কথা যত কম তত ভাল

৬. সঠিক বন্ধু বেছে নেয়া ও সামাজিকতা কমানো

৭. কী শিখবে ? কার কাছে শিখবে ?

৮ . শিক্ষকের সাথে সেরা আচরণ করতে হবে

৯ . বইয়ের যত্ন নেবে

১০ . যেভাবে পড়তে হবে


শেষ কথা
Attachment 6220


সালাম

বইটি সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে । দাম ৭৩ টাকা ।
Reply

Hey there! Looks like you're enjoying the discussion, but you're not signed up for an account.

When you create an account, you can participate in the discussions and share your thoughts. You also get notifications, here and via email, whenever new posts are made. And you can like posts and make new friends.
Sign Up

IslamicBoard

Experience a richer experience on our mobile app!