কেন জানি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় গুলোর সাথে আমি জীবনের মিল খুঁজে পাই।

এই যেমন ফজরকে জন্ম আর ইশাকে বার্ধক্য ধরলে যোহরকে যৌবন বলা যায়।

আর আসর, মাগরিব হতে হতে আমাদের বয়স বাড়তে থাকে।

এর মধ্যে অবশ্য যে কোন সময় মৃত্যু হতে পারে।

যাহোক, এর মধ্যে ফজর থেকে যোহর এই সময়টাই একটু দীর্ঘ। এ সময় কিছু করার জন্য বেশ খানিকটা সময় পাওয়া যায়।

এটা অনেকটা যৌবনকালের মতো। শরীরে শক্তি-সাহস থাকে, দমও থাকে, হাতে প্রচুর সময় থাকে। ফলে চাইলে অনেক কিছুই করা যায়, করার প্রস্তুতি নেয়া যায়।

তবে যোহর পার হলে হুট করেই আসর চলে আসে আর আসর শেষ হতে না হতেই মাগরিব চলে আসে।

মাগরিবের অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আবার ইশা।

তার মানে যোহর থেকে ইশার সময় আসতে বেশীক্ষণ লাগেনা।

যোহর গড়িয়ে কখন ইশা চলে আসে আমরা টেরও পাইনা।

জীবনটাও অনেকটা তেমনই।

যৌবনে উপনীত হতে একটু যা সময় লাগে।

এরপর কখন যে নিমিষেই বার্ধক্য চলে আসে তা আমরা টেরও পাই না।

এর মধ্যে কখন যে আজরাইলের ডাক চলে আসে তা আমরা ঠিক জানিওনা!

জানার কোন উপায়ও নেই।

তবে এতকিছুর পরেও আমাদের লোভের শেষ নেই, অহংকারের শেষ নেই।

গানের ভাষায় বলতে হয়,

হায়রে মানুষ, রঙ্গীন ফানুস
দম ফুরাইলেই ঠুস!
তবুতো ভাই কারোরই নাই
একটুখানি হুশ!

--------- ----------- -----------
- ড. রেজোয়ানুল হক