আধুনিক প্রজন্মের কাছে আল-কুরআন বনাম মোবাইল!

ইন্টারনেটে প্রচারিত একটি বার্তা অনুধাবন করুন।
বোবা আশা পোষণ করে, যদি সে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারতো!

কালা আশা পোষণ করে, যদি সে কুরআন শুনতে পেতো!
অন্ধ আশা পোষণ করে, যদি সে কুরআন দেখতে পারতো!

অশিক্ষিত আশা পোষণ করে, যদি সে কুরআন পড়তে পারতো!
আর সুস্থ শিক্ষিতদেরকে ধ্বংস করেছে মোবাইল।
হাঁ, আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল।

সালাফে সালেহীন কিভাবে কুরআন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অবিরাম রত থাকতেন?

আমরা তা শুনে অবাক হতাম। কিন্তু আজ মোবাইল নিয়ে অবিরাম নিরত ছেলে-মেয়েদেরকে দেখে সে অবাক দুর হয়েছে।

এখন বুঝতে পারছি যে, মন যখন কোনো কিছুকে ভালোবাসে, তখন তাকে নিয়ে বিনা ক্লান্তি ও বিরক্তি ছাড়া নিরত থাকা যায়।

মাদ্রাসার কুরআনের ওস্তাদ এক ছাত্রকে প্রশ্ন করলো, `কুরআনের ব্যাপারে পূর্বযুগে সালাফদের অবস্থান ও ব্যাপৃতি কেমন ছিল?'

চট করে ছাত্রটি উত্তর দিল, `জি, ঠিক বর্তমান যুগে মোবাইল নিয়ে আমাদের অবস্থান ও ব্যাপৃতির মতো।'
বড় তিক্ত এই বাস্তবতা।

কুরআন আপনার আগে আগে কবর ও হাশর পর্যন্ত যাবে, কিন্তু মোবাইল মরণের আগেই আপনার নিকট থেকে নিয়ে নেয়া হবে।

সুতরাং কার সাথে কতটা সময় বায় করছেন, তার হিসাব রাখছেন কি?

ভেবে দেখার দরকার আছে।

পাম্পার্স পরা বাচ্চাদের পাম্পার্স তুলে তুলে মায়েরা যেমন একটু পরপর পেশাব-পায়খানা কিছু এসেছে কি না চেক করে, তেমনি আপনিও মাঝে মাঝে চেক করে দেখেন, মোবাইলে কিছু এসেছে কি না। তাই না?

বারবার দেখেন, প্রেরিত ম্যাসেজ-এ বন্ধুরা কি লিখেছে দেখি। কিন্তু কুরআন খুলে প্রত্যহ কতবার দেখেন যে, সুমহান প্রতিপালক প্রেরিত ম্যাসেজ-এ কি লিখেছেন দেখি?

আপনার মোবাইলে তো কোনদিন ধুলো লেগে থাকে না। কিন্তু আপনার কুরআনটা লক্ষ্য করুন তো, তার ওপর কত ধুলো! ,,,আপনি কি অনুমান করতে পারছেন যে, আপনি স্রষ্টার চাইতে কত বেশি সৃর্ষ্টির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন.

সাহাবী খালেদ বিন ওলীদ রাজিয়াল্লাহু আনহু কুরআনের সাহচর্যে জীবন যাপন করেছেন। কিন্তু শেষ জীবনে কুরআন ধারণ করে কেঁদে তিনি বলেছিলেন,
`জিহাদের ব্যস্ততা আমাকে তোমার কাছ থেকে দূরে রেখেছিল।'

কি সুন্দর ছিল সে অজুহাত!
কিন্তু আমরা অজুহাতে কী বলবো?

`মোবাইলের ব্যস্ততা আমাদেরকে তোমার কাছ থেকে দূরে রেখেছিল।'

বড় দুঃখের কথা ওহে কুরআনের উম্মাত!

হায় আফসোস! আমরা যদি মোবাইল ধরার মতো হাতে কুরআন ধরতে পারতাম, তাহলে আমাদের অবস্থার কতই না পরিবর্তন ঘটতো।

এখন অবস্থা তো এমন, আমরা মোবাইল ছাড়া বাঁচতে পারবো না।
আমরা কি কুরআন ছাড়া বাঁচতে পারবো?
যেখানে যাই, মোবাইল সঙ্গে যায়, আমাদের পকেট ও ব্যাগে মোবাইল থাকে।
কী হতো, যদি কুরআন থাকতো?

আমরা কোনো খুশীর উপলক্ষ্যে মোবাইল উপহার দিই।
কেমন হতো, যদি আমরা কুরআন উপহার দিতাম?

আমরা সফর ইত্যাদিতে টাইম পাস করার জন্য মোবাইল (অপ্রয়োজনীয়) দেখি।

কেমন হয়, যদি আমরা কুরআন পড়ে সময়কে কাজে লাগাই?
আমরা দিনে যতবার মোবাইল দেখি, ততবার যদি কুরআন দেখি, তাহলে অল্প সময়ে কুরআন খতম করতে পারি।

আমরা মোবাইল চার্জ দেয়ার ব্যাপারে যতটা খেয়াল রাখি, ততটা খেয়াল কি নামাজ ও কুরআনের প্রতি রাখি?

আমরা মোবাইলের ব্যালেন্স রাখতে যত টাকা বায় করি, তত টাকা কি সাদকা করতে পারি?

আমরা যেভাবে গ্রুপ ফ্রেন্ডসদের সাথে যোগাযোগ রাখি, সেভাবে কি বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে রাখি?

আমরা মসজিদে নামাযের জন্য হাজির না হলেও যদি সেখানে ফ্রি wifi পাই, তাহলে তো হাজির হব নিশ্চয়ই।
কী হয়ে গেলাম আমরা?
প্রিয় ভাই ও বোনেরা!

মোবাইল হালকা বহনযোগ্য একটি যন্ত্র। তা যেন দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের জন্য ভারী বোঝা ও কঠিন যন্ত্রণার কারণ না হয়।

সাবধান! মোবাইল ব্যবহার করুন খুবই সতর্কতার সাথে কেবল উপকারী কর্মে।
মোবাইল আপনার দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য উপকারী হতে পারে আবার অপকারীও।
আপনি মোবাইলকে কেবল উপকারী বানান।

মোবাইল যেন আল্লাহর আনুগত্য, ইবাদত, নামায, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, পিতামাতার খিদমত, স্বামীর খিদমত, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় করা থেকে আপনাকে বিরত না রাখে।

মোবাইলের ছিদ্রপথে কোনো চোর আপনার ঈমান, আকীদা, সভাতা সততা, সতীত্ব, পর্দা ইত্যাদি যেন চুরি না করতে পারে।
দূরে থাকুন এর মাধ্যমে অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা, পরকীয়া করা হতে এবং অশ্লীল ও অবৈধ কিছু দেখা বা শোনা হতে।

সময় আপনার জন্য বড় মূল্যবান। সাবধান! মোবাইল যেন আপনার সেই অমূল্য সম্পদ চুরি করতে না পারে।
আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দিন। আমীন।

সংগ্রহ ও ভাবানুবাদ :

আব্দুল হামীদ আল-ফাইজী আল-মাদানী