সালাত, সিয়াম ও সময়সূচী

বাংলাদেশ

জিলক্বদ মাসের আইয়ামে বীজের রোজা :
◾১৩ জিলক্বদ – ২ মে (শনিবার)
◾১৪ জিলক্বদ – ৩ মে (রবিবার)
◾১৫ জিলক্বদ – ৪ মে (সোমবার)

#সীরাহ
 
বিসমিল্লাহ


শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.)-এর ফতোয়া:
শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, জিলহজের ৯ দিনের রোজা রাখলে কি আইয়ামে বিজের সওয়াব পাওয়া যাবে?

তিনি উত্তর দেন:
"হ্যাঁ, যদি কোনো ব্যক্তি জিলহজের ৯ দিন রোজা রাখেন, তবে তার পক্ষ থেকে আইয়ামে বিজ বা প্রতি মাসের ৩ রোজার সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।

কারণ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) প্রতি মাসে ৩টি রোজা রাখতে বলেছেন, আর এই ৯ দিনের মধ্যে সেই ৩ রোজা অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।"

(মাজমু ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েল ইবনে উসাইমীন: ২০/৩৩)

কপি
 
বিসমিল্লাহ


বুধবার যোহর থেকে আসরের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
এর একটি দোয়া কবুল হয়েছিল।

আমরাও আজ এই সময় বেশি বেশি দোয়া করি।

আল্লাহ কবুল করুন।

হে আল্লাহ, ঘরে ঘরে সমস্যা।

আপনার কাছে আকস্মিক সুসংবাদ চেয়ে প্রার্থনা করি আর আকস্মিক বিপদ থেকে আশ্রয় চাই।

আমীন
 
বিসমিল্লাহ

আগামীকাল বুধবার দিবাগত রাতে সাহরী খেয়ে ৯ মুহাররমের ও
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাহরী খেয়ে আশুরার রোজার নিয়ত করবেন
আল্লাহ কবুল করুন।

***



আশুরা: এক রোজায় এক বছরের গুনাহ মাফ-
মহররম মাসের দশ তারিখ পৃথিবীর ইতিহাসে এমন একটা দিন, যেদিন আল্লাহ তায়ালা সত্য ও মিথ্যার মাঝে একটা চিরন্তন ফয়সালা করে দিয়েছিলেন। একদিকে ছিলেন মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর নবী, নিঃস্ব ও অসহায়। অন্যদিকে ছিল ফিরআউন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা, যে নিজেকে খোদা বলে দাবি করত। সামনে ছিল লাল সমুদ্র, পেছনে ছিল ফিরআউনের বাহিনী। সেই অসম্ভব মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালা মূসা আলাইহিস সালামকে হুকুম দিলেন লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করুন। সমুদ্র দুই ভাগ হয়ে গেল, বনি ইসরাইল পার হয়ে গেল নিরাপদে। আর ফিরআউন সেই পানিতেই ডুবে মরল। সেই দিনটাই ছিল আশুরা।

এই মুক্তির শুকরিয়ায় মূসা আলাইহিস সালাম রোজা রেখেছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসে এই ঘটনা জানতে পেরে বললেন — আমরা মূসার উত্তরাধিকারী হিসেবে এই রোজার বেশি হকদার। তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং সাহাবাদেরও রাখার নির্দেশ দিলেন।
(বুখারি: ২০০৪)

এই রোজার ফজিলত-
আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন — আমি আশাবাদী যে আল্লাহ তায়ালা আশুরার রোজার বিনিময়ে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।(মুসলিম: ১১৬২)

আরাফার রোজায় দুই বছরের গুনাহ মাফ হয়, আর আশুরার রোজায় এক বছরের।বছরের পর বছর এই দুটো রোজা রাখতে পারলে গুনাহ মাফের একটা ধারাবাহিকতা তৈরি হয়।

আশুরার রোজা পূর্ণ করুন দুই দিনে-
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —তোমরা আশুরার রোজা রাখো এবং ইহুদিদের সাথে মিল না রেখে এর আগে বা পরে একদিন যোগ করো।(মুসনাদে আহমাদ)

তাই ৯ ও ১০ তারিখ একসাথে রোজা রাখাই উত্তম। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বলেছিলেন আগামী বছর বেঁচে থাকলে ৯ তারিখও রোজা রাখবেন।(মুসলিম: ১১৩৪)

এই দিনে যা করবেন-
৯ ও ১০ মহররম দুই দিন রোজা রাখাই উত্তম। তবে কোনো কারণে ৯ তারিখ সম্ভব না হলে শুধু ১০ তারিখ রোজা রাখলেও আশুরার ফজিলত পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। এই দিনটার গুরুত্ব পরিবারের সবাইকে জানান — স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, কাছের মানুষদের উৎসাহিত করুন। একটা পরিবার যখন একসাথে এই রোজা রাখে, সেটা শুধু একটা রোজা না, পরিবারে দ্বীনের চর্চাও হয়।

আশুরায় যে ভুলগুলো থেকে সাবধান থাকবেন-
এই দিনে বিশেষ খিচুড়ি বা হালুয়া রান্না, শোক পালন, কালো পোশাক পরা, মাতম করা এগুলোর কোনো ভিত্তি কুরআন-সুন্নাহয় নেই। আশুরার একমাত্র প্রমাণিত আমল হলো রোজা। এর বাইরে যা কিছু সমাজে প্রচলিত আছে সবই বিদআত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

বছরে একবার আসে এই দিন। এক রোজায় এক বছরের গুনাহ মাফের এই সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই আমলের তাওফিক দান করুন। আমিন।
#আশুরা #মহররম #রোজা #সুন্নাহ #sukunlife

SukunLife
The sukun every soul seeks
 

Similar Threads

Back
Top