British Wholesales - Certified Wholesale Linen & Towels | Halal Food Gastronomy | PHP 8.4 patch for vBulletin 4.2.5

Abrars

Senior Member
Messages
98
Reaction score
3
Gender
Male
Religion
Islam
সিজদা মানে আমরা বুঝি যে মাটিতে ঠেকিয়ে মাথা নত করা যেমন কিনা নামাজে করা হয় । এটা সিজদার এক ধরণ । সিজদার আরেক ধরণ হচ্ছে মানসিক বা আত্মিক , যার দ্বারা মন থেকে বা আত্মিক ভাবে কাউকে স্বীকারোক্তি দেওয়া বা তাঁর অনুগত্য প্রকাশ করা হয় । কোরআনে উভয় প্রকৃতির সিজদার কথা বলা হয়েছে । এখানে আমরা মানসিক সিজদার পক্ষে কোরআনের কিছু আয়াত তুলে ধরব ।

১- নবী ইউসুফ স্বপ্নে দেখেছিলেন যে ১১ টা গ্রহ , চাঁদ ও সূর্য তাঁর সামনে সিজদা করছে । (১২:০৪ )
২- ছায়া আল্লাহর সামনে সিজদা করে । (১৬:৪৮)
৩- সুর্য , চন্দ্র , গাছ পালা ইত্যাদি আল্লাহকে সিজদা করে (২২:১৮)


আমরা জানি গ্রহ-নক্ষত্র , গাছ-পালা এদের পক্ষে মানুষের মতো সিজদা দেওয়া সম্ভব নয় ।

কোরআনের বহু জায়াগাতে আদম (আঃ) ও ইবলিসের ঘটনার বর্ননা আছে । সুরা বাক্বারার ৩০ থেকে ৩৪ আয়াতে পরিষ্কার করা হয়েছে যে মহান আল্লাহ্- আদম (আঃ) কে এমন জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছিলেন যা ফেরেশতাদের বা ইসবলিসের জানা ছিলনা । এই জ্ঞানই হচ্ছে ফেরেশতা ও ইবলিসের উপরে আদমের শ্রেষ্ঠত্ত্বের একমাত্র কারন । তাই মহান আল্লাহ্- তাদেরকে আদমকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্বীকোরক্তি দিতে সিজদার কথা বলেছেন । এইটা ঐ সিজদা না যে সিজদা আমরা মহান আল্লাহর উপাসনার জন্য করে থাকি ।

আরো একটি বিষয় লক্ষ্য করার যে ইবলিস আগুনের তৈরি । (৩৮:৭৬ )
আগুনের মানুষের মতো শারীরিক আকৃতি নেই , তাই উপুড় হয়ে বা নতজানু হয়ে আদমকে সিজদা করার চিত্র কল্পনা করা ইসবলিসের জন্য অবান্তর , যেমন কিনা গাছ-পালা , গ্রহ-নক্ষত্র এর জন্য তা অকল্পনীয় ।

স্বল্প পরিসরে তাই বলা যায় যে মহান আল্লাহ্- ইবলিসকে শারীরিক সিজদা নয় বরং আদমকে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে মেনে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ।

 
এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর তাত্ত্বিক প্রশ্ন। ইসলামি আকিদা বা বিশ্বাস অনুযায়ী এর উত্তরটি বেশ স্পষ্ট। আদম (আঃ)-কে সেজদা করার বিষয়টি এবং শিরকের ধারণার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, কারণ এখানে সেজদার ধরণ এবং আল্লাহর নির্দেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল।
নিচে বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. সেজদার প্রকারভেদ (Types of Sajdah)
ইসলামি ধর্মতত্ত্ববিদদের মতে, সেজদা মূলত দুই প্রকার হতে পারে:
* সেজদায়ে ইবাদত (উপাসনার সেজদা): এটি একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদতের উদ্দেশ্যে সেজদা করা নিঃসন্দেহে শিরক।
* সেজদায়ে তাহিয়্যাহ বা তাকরিমি (সম্মানসূচক সেজদা): এটি কাউকে সম্মান দেখানোর জন্য করা হতো। আদম (আঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী অনেক নবীর (যেমন ইউসুফ আঃ) শরিয়তে বড়দের বা সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এই সেজদা বৈধ ছিল।
ফেরেশতারা এবং ইবলিসকে যে সেজদা করতে বলা হয়েছিল, সেটি ‘সেজদায়ে ইবাদত’ ছিল না, বরং সেটি ছিল ‘সেজদায়ে তাহিয়্যাহ’ বা সম্মানসূচক সেজদা। তারা আদম (আঃ)-কে উপাস্য বা মাবুদ হিসেবে সেজদা করেননি, বরং আল্লাহর প্রতিনিধি (খলিফা) হিসেবে সম্মান জানিয়েছিলেন।
২. আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্য (Obedience to Allah)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ‘আল্লাহর নির্দেশ’। শিরক হলো আল্লাহর সমকক্ষ কাউকে দাঁড় করানো বা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে অন্য কারো উপাসনা করা।
* যখন আল্লাহ স্বয়ং আদেশ দিয়েছেন আদম (আঃ)-কে সেজদা করতে, তখন সেই আদেশ পালন করাই হলো আল্লাহর ইবাদত।
* সেজদাটি বাহ্যিকভাকে আদমের দিকে হলেও, মূলত এটি ছিল আল্লাহর হুকুমের প্রতি আনুগত্য।
* তাই, ফেরেশতারা সেজদা করে আল্লাহর ইবাদত করেছেন (কারণ তারা হুকুম মেনেছেন), আর ইবলিস সেজদা না করে আল্লাহর হুকুম অমান্য করে কুফরি করেছে।
৩. আদম (আঃ) ছিলেন কিবলা, উপাস্য নন
কিছু আলেমদের মতে, সেই সেজদার ক্ষেত্রে আদম (আঃ) ছিলেন অনেকটা কিবলা বা অভিমুখের মতো (যেমন আমরা কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়ি, কিন্তু কাবার পূজা করি না)। ফেরেশতারা আল্লাহর উদ্দেশেই সেজদা করেছিলেন, কিন্তু আল্লাহ সেই সেজদার দিক বা অভিমুখ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন আদম (আঃ)-এর দিকে। এর মাধ্যমে আদমের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা হয়েছিল।
৪. বর্তমান শরিয়তে এর বিধান
এটা মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শরিয়তে বা বর্তমান ইসলামি বিধানে সেজদায়ে তাহিয়্যাহ (সম্মানসূচক সেজদা) বা সেজদায়ে ইবাদত—উভয়ই মানুষের জন্য হারাম করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "আমি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে নারীদের নির্দেশ দিতাম তাদের স্বামীদের সেজদা করতে।" (তিরমিযি)। অর্থাৎ, সম্মানের চরম পর্যায় বোঝাতেও এখন আর কাউকে সেজদা করার অনুমতি নেই। বর্তমানে আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সারসংক্ষেপ
আল্লাহ শয়তান ও ফেরেশতাদের আদম (আঃ)-কে সেজদা করতে বলেছিলেন সম্মান প্রদর্শনের জন্য (তাকরিমি), ইবাদতের জন্য নয়। আর যেহেতু আদেশটি খোদ আল্লাহর ছিল, তাই সেই আদেশ পালন করাটাই ছিল তাওহীদ বা একত্ববাদের প্রমাণ, আর অমান্য করাটা ছিল কুফরি।
আপনার কি এ বিষয়ে বা আকিদা সংক্রান্ত অন্য কোনো প্রশ্ন আছে যার উত্তর আমি দিতে পারি?